“ধরো হাল শক্ত হাতে/ ভয় কি নদীর সাথে/ টলবে না নৌকা ভীষণ ঝড়ে রে”।..
দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনার দিল্লির ভার্চুয়াল বৈঠকের সারমর্ম এটাই। মঙ্গলবার তিনি ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডাকেন। বৈঠক হয়েছে ভার্চুয়াল। দলের শীর্ষনেতারা সোমবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে হাজির ছিলেন। সেই বৈঠকে হাসিনা দলের শীর্ষপর্যায়ের নেতা থেকে দলীয় কর্মীদের তিনটি হোমওয়ার্ক দিয়েছেন। সেই সঙ্গে বলেছেন, এই হোমওয়ার্ক কোনওভাবেই ফেলে রাখা যাবে না। আজকের কাজ আজকেই করতে হবে। পরে করব বলে রেখে দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। প্রথমটি হল, কর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ। বঙ্গবন্ধু কন্যা জানিয়ে দিয়েছেন, মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। সবাইকে দেশে ফিরতে হবে। নামতে হবে ময়দানে। ওয়ার্কিং কমিটির সকল সদস্য ভাষণ দেন। বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সভায় উপস্থিত ছিলেন যাঁরা ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য না হলেও ভাষণ দিয়েছেন।
আলোচনায় কয়েকজন নেতা আওয়ামী লিগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। হাসিনা বলেন, ওই নিষেধাজ্ঞা দুটি কারণে অবৈধ। এক. আওয়ামী লিগ এমন কোনও অপরাধ করেনি যে কারণে সন্ত্রাস দমন আইনে তাদের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায়। দুই. মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার ছিল অবৈধ সরকার। সেই সরকারের নির্দেশ কখনই বৈধ হতে পারে না। এরপরই শেখ হাসিনা বিএনপি সরকারের নাম না করে বলেন, আমরা আশা করব বর্তমান সরকার এই অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। যদি না করে তখন আমরা আমাদের মতো করে সিদ্ধান্ত করব। কর্মসূচি ঘোষণা করব।
বৈঠকে নেতারা দেশের পরিস্থিতি নেত্রীর সামনে তুলে ধরেন। যে নেতা যে এলাকার দায়িত্বে আছেন তিনি সেখানকার পরিস্থিতি নেত্রীকে জানান। নেতারা বলেন, যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তা একটি প্রহসনমাত্র। এই সময় হাসিনা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, বেশ কয়েকজন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে বলে এসেছেন খুব ভাল নির্বাচন হয়েছে। তারাই আবার নিজের দেশে ফিরে রিপোর্ট দিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে এক সাজানো নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে।
ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে কয়েকজন নেতা দলের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। মঙ্গলবারের বৈঠকে যেভাবে নেতাদের দেশে ফিরতে মানসিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন তাতে কোন কোন নেতার ধারণা নেত্রী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোনও ইতিবাচক বার্তা পেয়ে থাকতে পারেন। এক নেতা বলেন, তাঁর কন্ঠে পরিচিত আত্মবিশ্বাসী ধরা পড়েছে মঙ্গলবারের বৈঠকের ভাষণে। তিনি জোর গলায় দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অনুমোদন করবে না। তারেকে চাপে ফেলতে আওয়ামী লীগ তিনটি তারিখ বেছে নিয়েছেন। তারিখগুলি হল ৭, ১৭ এবং ২৬ মার্চ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ৭, ১৭ এবং ২৬ মার্চের কারণে মার্চ মাসকে সে দেশে বলা হয়ে থাকে স্বাধীনতার মাস। মঙ্গলবার দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে নেতাদের হাসিনা বলেছেন ওই দিনগুলি সর্বশক্তি দিয়ে পালন করতে হবে। গলি থেকে রাজপথ সর্বত্র স্বাধীনতা দিবসের বেদি বানিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যেতে হবে ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধুর বাড়ি এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর সমাধি ক্ষেত্রে। এর মধ্যে ধানমন্ডির বাড়িতে উগ্রবাদীরা দু দফায় হামলা চালিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে।
কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলের মতে, আওয়ামী লিগ নেত্রীর ঘোষণা তারেক রহমানের প্রশাসন ও বিএনপি দলের উপর কিছুটা হলেও চাপ তৈরি করবে। বিএনপি শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে মানে না। তাদের দাবি, এই ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টরের কমান্ডার। মুক্তিযুদ্ধের সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে বীর উত্তম উপাধি দিয়েছিলেন।












Discussion about this post