একটি সাক্ষাৎকার। আর সেই সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে পদ্মাপার তুলকালাম। সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় পত্রিকাকে। সেই সাক্ষাৎকারের তিনি বলেছেন, গত দেড় বছরে তাঁকে উপড়ে ফেলার নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু কোনও পরিস্থিতিতেই তিনি ভেঙে পড়েননি। তাঁর কথায়, “আমার রক্ত ঝড়ে যাবে বঙ্গভবনে। রক্ত ঝড়ে ঝড়ুক। আরেক ইতিহাসে আমি যোগ হব। কিন্তু আমি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করব – এই সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলাম।” ২০২৪-য়ের রাতকে তিনি বিভীষিকাময় রাত বলে অভিহীত করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ওই রাতটা আমার জন্য ছিল বিভীষিকাময়। এই যে ফ্লাইওভার, এই ফ্লাইওভার দিয়ে ওই পেছনে, ওদিকে খালি ঠেলাগাড়ি, ভ্যান, কাভার্ড ভ্যান দিয়ে ছিন্নমূল লোকজন আসে। গণভবনের মতো বঙ্গভবনও লুঠ করতে চেয়েছিল। আমরা তো ঘরেই ছিলাম। আমাদের তো আর কিছু নেই। এখান থেকে তো আমি পালাব না, তাই না। সেই অবস্থা যদি হতো তখন একটা কথা ছিল। তিনস্তরের নিরাপত্তা দিয়ে কভার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী খুব দৃঢ়তার সঙ্গে, আবার এপিসি দিয়ে ঠেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ”
পত্রিকার তরফে জানতে চাওয়া হয় সেই দুঃসময়ে কেউ তার পাশে ছিল কি না? জবাবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, “আমি নির্দিধায় বলতে পারি, ওই কঠিন সময়েও বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিলেন। তারা তখনো সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে আমার মনের মধ্যে কৌতুহল জমা ছিল। কিন্তু পর্যায়ক্রমে বুঝতে পারলাম তিনি খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ। হি ওয়াজ সো কার্ডিয়াল ! আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল। ”
রাষ্ট্রপতির এই সাক্ষাৎকার নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কোনও কোনও প্রান্ত থেকে তাঁর গ্রেফতারের দাবি উঠেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের দাবি, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অভিসংশন করে গ্রেফতার করতে হবে। তাঁর মতে, নানা অপরাধে তিনি অভিযুক্ত। ফলে, এখন সময় এসেছে তাঁর অভিশংসন করে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া। দ্বিতীয় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে তাঁকে দ্রুত সময়ের মধ্যে করা। এটা আমরা মনে করি এই নতুন সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। গত বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বনানী সামরকি কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক বলেন, “জুলাই গণহত্যার সময় কিন্তু রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেননি। তিনি নীরব ছিলেন। তাঁর ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রীয়। বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের পক্ষ থেকে কিন্তু কোটা সংস্কারের দাবিতে আমরা রাষ্ট্রপতিভবন পর্যন্ত গিয়েছিলাম। তাঁর নীরব ভূমিকার কারণে এই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। ফলে, গণহত্যার দায়ে তিনি অভিযুক্ত। ” নাহিদ আরও বলেন, “রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের জন্য পদক্ষেপ নিতে সংসদে সরকারিদল, বিরোধীদল – সবাই মিলে কাজ করবে। কারণ, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জাতীয় ঐক্য রয়েছে।”
রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন জামায়াতে আমির শফিকুর রহমানও। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে পদের গোপনীয়তা ভঙ্গ করেছন। মেটিকুলাস ডিজাইনে তাকে উপড়ে ফেলার যে চেষ্টা হয়েছে, সেটা ফাঁস করে দেওয়া কি পদের গোপনীয়তা ভঙ্গ করা ? জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার বলেন, “রাষ্ট্রপতি পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। ওই পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির প্রতিটি পদক্ষেপ রাষ্ট্রীয় শপথ ও গোপনীয়তা রক্ষার নীতিমালার সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাষ্ট্রপতি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয় বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে শপথভঙ্গ করছেন। আমানত রক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, সংবিধান, রাষ্ট্রীয় শপথ ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রশ্নে তিনি জাতিকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলেছেন। রাষ্ট্রপতি পদে থেকে এমন বক্তব্য দেওয়া রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি সঙ্গে একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ।












Discussion about this post