বাংলাদেশের নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও দলের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে মঙ্গলবার সকালে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক করেন আওয়ামী লিগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন তিনি। ঢাকায় আওয়ামী লিগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের বাড়িতে সমবেত হন ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে নেতারা দেশের পরিস্থিতি নেত্রীর সামনে তুলে ধরেন। যে নেতা যে এলাকার দায়িত্বে আছেন তিনি সেখানকার পরিস্থিতি নেত্রীকে জানান। নেতারা বলেন, যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তা একটি প্রহসনমাত্র। এই সময় হাসিনা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, বেশ কয়েকজন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে বলে এসেছেন খুব ভাল নির্বাচন হয়েছে। তারাই আবার নিজের দেশে ফিরে রিপোর্ট দিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে এক সাজানো নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। হাসিনা বলেন,এমন দু’মুখো লোকেদের ভরসায় আমাদের বসে থাকলেও চলবে না। আমরা কেন এই নির্বাচনকে প্রহসন বলছি তার উপযুক্ত ব্যাখ্যা মানুষের কাছে হাজির করতে হবে। দলের নেতাদের হাসিনা বলেন, নির্বাচনী ফলাফলের চুলচেরা বিশ্লেষণ করুন। আওয়ামী লিগ নেত্রীর দাবি, তিনি ভোট বয়কটের যে আহ্বান জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের মানুষ তাতে তুমুল সাড়া দিয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় ডা. মিল্টন জানান, সম্প্রতি (মঙ্গলবার সকালে) কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক নির্বাচন বয়কট করায় জনগণকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি আসন্ন মার্চ মাসের বিভিন্ন ঐতিহাসিক দিবস (৭, ১৭ ও ২৬শে মার্চ) পালনের বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নির্বাসিত নেতাদের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ। বক্তা জানান, কলকাতায় অবস্থানরত নেতারা দেশে আইনের শাসন ও সুবিচার নিশ্চিত হলে ফিরে আসতে চান বলে শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন। জবাবে আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন। দেশে ফিরে যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। নেত্রী নিজে কবে ফিরবেন, নেতাদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নেতারা যেন তাদের মতো করে ফেরেন। আর তিনি তার মতো করে দেশে ফিরবেন।
পাসপোর্ট বাতিল ও আইনি মোকাবিলা প্রস্তুতি প্রসঙ্গে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার পাসপোর্ট বর্তমানে বাতিল থাকলেও এটি একটি কারিগরি বাধা মাত্র। তিনি ইতিমধ্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তিনি আইনের বিচারপ্রক্রিয়া ফেস করতে চান। জেল ও ফাঁসিকে তিনি ভয় পান না। ভারত সরকার তাঁকে বিপদের মুখে ফেলে দেবে না বলেও ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি দলের কর্মীদের জানিয়েছেন।
ডা. মিল্টন দাবি করেন শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভাবনার খবরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতা আসিফ মাহমুদ, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লা ও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বিএনপিকে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা না তোলার জন্য লাগাতার চাপ দিয়ে চলেছে। একটা ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে। বলা হচ্ছে জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে হাসিনাকে দেশে ফিরতে দিয়ে ভুল করেছেন। ভার্চুয়াল সভায় হাসিনা বিএনপি সরকারের নাম না করে বলেন, বর্তমান সরকার যেন আওয়ামী লিগের ওপর জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। তাঁর দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা অবৈধ এবং ভিত্তিহীন। তিনি স্পষ্ট করেন, যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা হয়, তবে আওয়ামী লিগ নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নেবে এবং কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
ইতিহাস সাক্ষী যে ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা কারো দয়ায় দেশে ফেরেননি। জিয়াউর রহমান বরং তাঁর ঘরওয়াপসি ঠেকাতে মির্জা গোলাম হাফিজের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফেরেন। এবার তাকে দেশে ফেরাবেন তারেক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদরে মত তেমনই।












Discussion about this post