চলছে ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধ। দিকে দিকে উত্তেজনার পরিস্থিতি। ইরানকে নিয়ে কার্যত ছিনিমিনি খেলথে আমেরিকা ও ইজরায়েল। মারণ হামলা চালিয়ে আয়াতোল্লা খামেনেইকে হত্যা করা হয়েছিল আগেই। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তৈরী জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যেই বেড়েছে। অনেকেই চিন্তিত তেলের দাম বাড়া নিয়ে। কবে এই যুদ্ধ পরিস্থিতি ঠিক হবে তা কেউ জানে না। বিশেষজ্ঞরা তারা একেক বার একেক রকম ANALYSIS করছেন। ক্রমশ ভয়ানক হচ্ছে পরিস্থিতি। যে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞরা করছিল এই যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যেতে পারে সেই আশঙ্কাই হল সত্যি। হরমুজ প্রণালী পুরোপুরিভাবে বন্ধ করে দিল ইরান। একেবারে স্পষ্টত জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনও জাহাজ দেখলেই ধ্বংস করে দেওয়া হবে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ৪০ শতাংশ জ্বালানী আমদানি করে ভারত। ইরানের ঘোষণায় কার্যত উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। অন্যদিকে, ইরানের ড্রোন হামলার পর LNG অর্থাৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন স্থগিত করেছে কাতার এনার্জি। সেই কারণে LNG বাজারে চাপ তৈরী হয়েছে। এই মুহূর্তে সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের জ্বালানি ক্ষেত্রগুলিতে হামলা এবং সমুদ্রগামী তেল-গ্যাসবাহী জাহাজে আমেরিকা-ইজরায়েলের আক্রমণ বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলাফল, LNG বা তেলবাহি জাহাজ কমেছে প্রায় ৮৬ শতাংশ। প্রায় ৭০০ জাহাজ আটকে রয়েছে দুই প্রান্তে। বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে প্রভাব কী হবে>? এলএনজি বা রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারে কাতার বড় সরবরাহকারী। বৈশ্বিক রপ্তানি বৈশ্বিক বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ তারাই সরবরাহ করে। এই পরিস্থিতিতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং দাম বেড়েছে। তাদের উৎপাদনের ৮২ শতাংশ বেশিরভাগ যায় এশিয়ার বাজারে। সূত্রের খবর, আমদানি পরিকল্পনায় থাকা দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ মহল জানাচ্ছে, এখান থেকেই সংকটের শুরু হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এলএনজি না এলে গ্যাস সরবরাহ কমে যাবে, তাতে সরাসরি প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। তখন লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বাংলাদেশে । তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে আরও সক্রিয় করে তোলার চেষ্টা চলছে, যদিও এই পদ্ধতি আরও বেশি ব্যয়বহুল বলে জানা গিয়েছে। এশিয়ায় LNG-র দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২২ সাল পর্যন্ত রাশিয়া ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় LNG রপ্তানিকারক। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তাদের বিক্রি অনেকটা কমে গেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় LNG রপ্তানিকারক; এরপরই আছে কাতার ও অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২৬৫ কোটি ঘন ফুট। এর মধ্য়ে ৯৫ কোটি ঘনফুট আসে বিদেশ থেকে, আমদানি কৃত LNG। পেট্রোবাংলা পরিকল্পনানুযায়ী এবছর ১১৫ টি LNG কার্গো আলাদা করার কথা। এরমধ্যে ৪০ টি আসার কথা কাতার এনার্জি থেকে। এখন প্রশ্ন যদি সরবরাহ কমে যায় তাহলে কী হবে ? , এলএনজি না এলে গ্যাস সরবরাহ কমে যাবে, তাতে সরাসরি প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। তখন লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে আরও সক্রিয় করে তোলার চেষ্টা চলছে, যদিও এই পদ্ধতি আরও বেশি ব্যয়বহুল বলে জানা গিয়েছে। শিল্পখাতে উৎপাদন ব্যহত হতে পারে। বাড়িতে বাড়িতে গ্যাসের দাম কমে ঘরে ঘরে রান্নার চাপ বাড়তকে পারে। সামনেই গরমকাল। বিদ্যুৎয়ের বাড়বে চাহিদা। LNG সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় চাপ বাড়বে। কাতার এনার্জির ঘোষণার পর সোমবার ডাচ ও ব্রিটিশ পাইকারি গ্যাসের ভিত্তিমূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এশিয়ায় এলএনজির ভিত্তিমূল্য বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। জিয়েম্বা বলেন, কাতার দীর্ঘ সময় উৎপাদনের বাইরে থাকলে তা অবশ্যই ভালো খবর নয়। তবে ইউরোপের জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, শীতকালের মূল সময় শেষ। বাজারে ঘাটতি হলে প্রত্যেকেরই পকেটে পড়বে চাপ। কাতারে ড্রোন হামলা শুধু একটা সাময়িক হামলা নয় এটি বিশ্ব জ্বালানীর নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) বলছে, এ বছর ১১৫টি কার্গো (জাহাজ) এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে ৪০টি ও ওমান থেকে ১৬টি কার্গো আসার কথা। এখন দেখার পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।












Discussion about this post