ঢাকা সফর করছে পল কাপুর। তিনি দিল্লি হয়ে ঢাকায় পৌঁছান। ঢাকা পৌঁছে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনসহ একটি প্রতিনিধিদল জ্বালানি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেন। মঙ্গলবার রাতে দুই দিনের সফরে ঢাকা পৌঁছান পল কাপুর। ঢাকায় তিনি স্বীকৃত প্রতিটি রাজনৈতিকদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ঢাকা এলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত পল কাপুর। কোনও কোনও গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে ইউনূস আমলে হওয়া বাংলাদেশ আমেরিকা চুক্তির বিষয়ে কথা বলতেই ঢাকায় এসেছেন পল কাপুর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠক হয়েছে ফলপ্রসু। এছাড়া এই বৈঠক নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক যে ভালো হবে, তা নিয়ে বিস্ময়ের কিছু নেই। কারণ, পল কাপুর যা যা চান সেই সব বিষয়ে আগেই পল কাপুরের সঙ্গে খলিলুর রহমানের আগেই কথা হয়ে গিয়েছে। খলিলুর রহমান তদারকি সরকারের আমলে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। ওই পদে থাকাকালীন তিনি বেশ কয়েকবার আমেরিকা সফর করেন। সেই সফরেই খলিলুরের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে কথা হয়েছে বলে রাজনৈতিকমহলের একাংশ মনে করছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকাকালীন বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি করে।
পল কাপুর শুধু বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে ঢাকায় আসেননি। এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে কাপুরের ঢাকার সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি। পাশাপাশি তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক নীতি নির্ধারণেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সুতরাং, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন রাজনীতি, বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশি দেশগুলির সম্পর্ক, ভূরাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের কৌশল নির্ধারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কী চায়, সে সবের নিরিখে পল কাপুরের ঢাকা সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর সফর নিয়ে অনেকদিন ধরেই আলোচনা হচ্ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্তা পদ্মাপারে নতুন সরকার গঠনের পরে পরেই বাংলাদেশ এলেন। ফলে, বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করার বিষয়ে তিনি কী মত দেন, তা নিয়েও কিন্তু কৌতুহল তৈরি হয়। মনে রাখা দরকার, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিন্তু আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারেনি। তাদের ওপর পূর্বতন সরকার জারি করে নিষেধাজ্ঞা, যা আজও বহাল। হাসিনা কিছুদিন আগে হওয়া দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সুষ্পষ্টভাবে বলেছেন, তদারকি সরকারের আমলে জারি হওয়া নিষেধাজ্ঞা এখন তামাদি হয়ে গিয়েছে। যদিও বিএনপির তরফে এখনও এই নিষেধ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট নয়। তবে তারেক রহমান সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়ে ছিলেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষপাতি নন।
পল কাপুরের ঢাকা সফর নিয়ে কৌতুহল তৈরির আরও বড়ো কারণ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য বৈঠক। তিনি কোন কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন, তা নিয়েও নানা জল্পনা তৈরি হয়। বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টি ইউনূস আমলেই ফয়সালা হয়ে গিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই চুক্তি হুট করে নির্বাচনের তিন দিন আগে হয়নি। এক বছর আগে আমরা বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে কথা শুরু করি। এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত টানা আলোচনা চলে।’ ‘চুক্তিতে এন্ট্রি ও এক্সিট ক্লজ আছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নোটিফিকেশন না হওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর হয় না এবং চাইলে ৬০ দিনের নোটিশে বেরিয়ে আসা যায়। সুতরাং আমরা বাংলাদেশকে কোনো বিপদে ফেলিনি। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার চুক্তির ভাষা খেয়াল করলে দেখবেন, আমরা ভালো অবস্থানে আছি। এই চুক্তি “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতির সঙ্গে মোটেও সাংঘর্ষিক নয়।’ মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাঁদের জানিয়েছি যে, ইতিমধ্যে দুজন বাংলাদেশি মারা গেছেন, সাতজন আহত হয়েছেন। এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই সংখ্যা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আমাদের মতো দেশে এই যুদ্ধের যে প্রতিক্রিয়া হবে, সেটা বহন করা দুঃসাধ্য। যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে কূটনীতিকে একটা সুযোগ দিয়ে সংঘাত-সমস্যা যেন সমাধানের প্রচেষ্টা করেন, সেটা বলেছি।’












Discussion about this post