অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা ভিআইপি হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক সরকারি গেজেটে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১-এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী তাঁকে এই বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মান ও সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে ক্ষমতা ছাড়ার পরও তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী বা এসএসএফ-এর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ভিভিআইপি মর্যাদা ভোগ করবেন। অবশ্য দায়িত্ব পরবর্তী সময়ে প্রধান উপদেষ্টাকে এই মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশে নতুন নয়, তবে এবারের সময়সীমা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। এর আগে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর এক গেজেটের মাধ্যমে তৎকালীন বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টাকে তিন মাসের জন্য একই ধরনের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর এক গেজেটের মাধ্যমে তৎকালীন বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টাকে তিন মাসের জন্য একই ধরনের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা এক বছর নির্ধারণ করে একটি প্রশাসনিক নজির স্থাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সচিব মোঃ সাইফুল্লাহ পান্না স্বাক্ষরিত এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশের ফলে ড. ইউনূস দায়িত্ব ছাড়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ স্তরের প্রটোকল ও নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। এটি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর বিশেষ অবস্থানের প্রতি সরকারের শ্রদ্ধার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’রা বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী বা এসএসএফের নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। এসএসএফ আইনের ২ ধারায় বলা আছে, “অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অর্থ সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধান বা সরকার প্রধান এবং এই আইনের উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে, অনুরূপ ব্যক্তি বলিয়া ঘোষিত অন্য কোনো ব্যক্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন।” এই আইনের ৮(২) ধারা অনুসারে এসএসএফ বাংলাদেশে অবস্থানরত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকেও দৈহিক নিরাপত্তা দেবে। অর্থাৎ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এসএসএফ নিয়োজিত থাকবে এবং তার নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা থাকলে তা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদান করবে। অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্য কাউকে ক্ষতিকর মনে হলে এসএসএফ তাকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারও করতে পারে। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে গুলি অথবা হত্যাও করতে পারবে।
ইউনূসকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণার গেজেটটি বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) এর ওয়েবসাইটে নেই; যদিও সরকার কর্তৃক প্রকাশিত সব গেজেট সেখানে থাকে। এ বিষয়ে বিজি প্রেসের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, “অনেক সময় কোনো সংস্থা গেজেট করলে গেজেটের আদেশের কপি ওয়েবসাইটে না দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। তখন আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। এ ক্ষেত্রেও সরকারি নির্দেশনার কারণেই এটি ওয়েবসাইটে দেয়া হয়নি।” তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লা পান্না এ প্রজ্ঞাপনে সই করেছিলেন। তিনি এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত। প্রথম আলোকে তিনি এই প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গেজেটে বলা হয়েছে, “সরকার বিশেষ নিরাপত্তা আইন ২০২১ এর ধারা ২ (ক) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তাহার দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ হইতে ১ (এক) বৎসরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করিল।” এর অর্থ, ইউনূস আগামী বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবধি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে এসএসএফ সুবিধা পাবেন। ফলে তার নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটাতে কেউ চাইলে তাকে জীবনের ঝুঁকি নিতে হবে। অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের বিভিন্ন বেষ্টনীতে মোতায়েনের মাধ্যমে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।












Discussion about this post