দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই বলতে ঠিক কী বোঝায়, সেটা মধ্যপ্রাচ্যের লডা়ই থেকে পরিষ্কার। ইজরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সেনা অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে অনেকেই নিশ্চিত ছিলেন দুই শক্তির কাছে ইরানে নতজানু হবে। অর্থাৎ হেরে যাওয়ার আগেই তারা হার স্বীকার করে নেবে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল ঠিক উলটো। আমেরিকা ও ইজয়ালের যৌথ হামলার জবাব ইরান যেভাবে দিয়ে চলেছে, তাতে একটা বিষয় স্পষ্ট যে তেহরান সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে বিনা রণে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ শেষের কোনও ইঙ্গিত নেই। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ইরানে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। লেবাননে মৃত্যু হয়েছে ১২৩ জনের। এখনও পর্যন্ত ইরানের তেহরান, কারাজ, মিনাব,আহভাজ, ইসফাহান-সহ একাধিক শহর ক্ষতিগ্রস্ত। কোথায় দাঁড়িয়ে এই সংঘাত? সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর কড়া হুঁশিয়ারির পরেও ফের ইরানের নিশানায় দুবাই। শুক্রবার ফের দুবাইয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। বাসিন্দাদের মোবাইলে অ্যালার্ট পাঠিয়ে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে আচমকাই বাসিন্দাদের মোবাইলে আসে মিসাইল হামলার বার্তা। বার্তা বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাড়ির বাইরে বের হতেও নিষেধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে আমেরিকা ইরানের অস্ত্রবিহীন একটি রণতরীর ওপর হামলা চালায়। তেহরানের দাবি, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের উপবিদেশমন্ত্রী সঈদ খাতিবজাদেহ জানান, খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। তিনি এও বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লডা়ই করবে ইরান। বুধবার ভারত মহাসাগরের বুকে ইরানের একটি যুদ্ধ জাহাজের ওপর হামলা চালায় আমেরিকার একটি ডুবোজাহাজ। খাতিবজাদেহ বলেন, “ ভারতের আমন্ত্রণে বহুপাক্ষিক নৌ –মহড়ায় অংশ নিয়েছিল ইরানের রণতরী ডেনা। সেই মহড়া শেষ করে দেশে ফিরছিল রণতরীটি। হামলা তখনই চালানো হয়।”এই হামলা অনেক নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে মার্কিন শক্তির কাছে তেহরান যে কোনওভাবেই মাথানত করবে না, সেটা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে বলেছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এখন ইরানের কাছে অগ্রাধিকার। তাঁর দাবি, আমেরিকা –ইজরায়েল হামলার প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এখন ইরানের কাছে অগ্রাধিকার। সঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন, “ আমাদের কাছে থাকা শেষ বুলেট দিয়ে প্রতিরোধ করব। এছাড়া আমাদের কোনও বিকল্প নেই। আক্রমণকারীদের থামাতেই হবে। ”
তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আবহে খামেইনিকে নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ্যে এসেছে। খবরটি হল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা খামেইনিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল গত বছর নভেম্বরে। আমেরিকাকে অন্ধকারে রেখেই এই পরিকল্পনা করেছিল ইজরায়েল। যদিও শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। কারণ ইরানজুড়ে তখন খামেইনি বিরোধী বিক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন ইজরায়েলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্টজ। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কার্টজ বলেন, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এক গোপন সামরিক বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সেখানেই পরিকল্পনা করা হয় ২০২৬ সালের জুন মাস নাগাদ চালানো হবে এই অভিযান। শুরুতে এই হামলার বিষয়ে আমেরিকাকে কিছুই জানানো হয়নি। কার্টজ বলেন, “আমরা ঠিক করেছিলাম খামেনেইকে খতম করা হবে প্রয়োজনে একাই এই অভিযান চালানো হবে। একা এই অভিযান শেষ করার মতো ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।”
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, এ বারের হামলা গতবারের তুলনায় তিনগুল বেশি শক্তিশালী। আমাদের লক্ষ্য কেবল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার বা পরমাণু ঘাঁটি ধ্বংস করা নয়, বরং এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে সেখানকার সাধারণ মানুষ ইরানের সরকারকে উপড়ে ফেলতে পারে। ইজরায়েলের মন্ত্রীর দাবি, “আমরা চাই ইরানের জনগণ এই শাসনের পতন ঘটাক। আমরা সেই রাস্তাটা আরও পরিষ্কার করে দিচ্ছি।”












Discussion about this post