২০২৬ সালের মার্চ মাসে শুরুতে মার্কিন সেনারা ইরানের এক কর্মকর্তাকে খুন করে। অভিযোগ, ইরানের এই কর্মকর্তা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুন করার একটি ইউনিটের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। পেন্টাগন সরকারিভাবে সেটা জানিয়েও দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ইরান ট্রাম্পকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আর ট্রাম্প শেষ হাসি হাসলেন। যদিও খুন হওয়া কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। সাংবাদিকে সম্মেলনে পিট হেগসেথ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে খুন করার চেষ্টা করে ইরান। সেখানে এর জন্য বিশেষ একটি ইউনিট তৈরিও করা হয়েছিল। তাঁকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হয়েছে।
২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্ক রীতিমতো তপ্ত ছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালে আমেরিকার বিচারবিভাগ এক ইরানি নাগরিককে অভিযুক্ত করে যে ইরানের ইসলামিক রেভেলল্যুশনারি গার্ড ট্রাম্পকে হত্যার নির্দেশ দেয়। তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে। ইরান এবং আমেরিকার সম্পর্কের ইতিহাসের মধ্যে রয়েছে ২০২০ সালের একটি ঘটনা। সেই সময় আমেরিকার সামরিক বাহিনী ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কম্যান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানিকে খুন করে। আমেরিকা সেটা স্বীকার করে নিয়েছে। তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক আগাগোড়াই তিক্তি। এই হত্যাকাণ্ড তিক্ততার পারদকে আরও চড়িয়ে দেয়। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প হত্যার পরিকল্পনার অভিযুক্তরা হঠাৎই আন্তর্জাতিক মনযোগের কেন্দ্রে চলে আসেন। পেন্টাগন জানিয়েছে যে এই কর্মকর্তাকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তিনি যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিলেন না। হেগসেথের দাবি, এই অভিযান ট্রাম্প বা কোনও ব্যক্তির অনুরোধে শুরু হয়নি। তবে যারা এই হত্যার পরিকল্পনা জড়িত ছিল, তাদেরও তালিকায় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমের দাবি এই হাইপ্রোফাইল হত্যার নেপথ্যে রয়েছে ইজরায়েলি বাহিনী।
জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলছেন, আমেরিকার সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিনীক অগ্রগতি করছে। প্রথম দিন থেকে ইরানের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন আক্রমণ যথাক্রমে ৮৬ শতাংশ এবং ৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তিনি আরও বলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমাবাহিনী ইরানের উপকূলের আকাশে আধিপত্য তৈরি করেছে। এখন তারা ইরানের ভিতরে তাদের আক্রমণ আরও ধারালো করেছে।
যা নিয়ে শুরু হয়েছিল এই প্রতিবেদন, সে বিষয়ে আরও কিছু তথ্য তুলে ধরে যেতে পারে। ট্রাম্পকে হত্যার ছক তৈরি করা হয় আমেরিকায় ভোটের মুখ মুখে। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, IRGC-র নির্দশে ফরহাদ শাকেরি নামে এক ইরানি অ্যাসেট ট্রাম্পকে স্টক করে গুপ্ত হত্যার জন্য দুই ভাড়াটে খুনিকে সুপারি দিয়েছিল। ফরহাদ শাকেরিকে মার্কিন প্রশাসন গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে আমেরিকার দাবি, এই পরিকল্পনার মাস্টারমাইন্ড ছিল IRGC-র স্পেশাল অপারেশনস ডিপার্টমেন্টের প্রধান রহমান মাকাদাম। ইরান যুদ্ধে খতম সেই মাকাদাম। তবে তাকে খতম করল কে? পেন্টাগন নাকি মোসাদ? এই একটি প্রশ্ন ঘিরেই দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের মধ্যে!
আমেরিকান গোয়েন্দাদের মতে, এই গুপ্তহত্যার ছকের শিকড় রয়েছে ২০২০ সালে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ। তাঁর নির্দেশেই ইরাকে ড্রোন হামলা চালিয়ে খতম করা হয়েছিল ইরানের শীর্ষস্থানীয় জেনারেল কাসেম সুলেমানিকে। তারই চরম প্রতিশোধ নিতে ট্রাম্পকে টার্গেট করেছিল তেহরান। এখন মাকাদামের মৃত্যু নিয়ে দুই মিত্র দেশ আমেরিকা ও ইজ়রায়েল যে ভাবে আলাদা দাবি করছে, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নয়া কৌতূহল তৈরি করেছে।
আমেরিকা-ইরান সংঘাত শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রথম ১০০ ঘণ্টায় খরচ হয়েছে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান কীভাবে ইসরায়েল ও আমেরিকার উপর একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং কোথা থেকে সামলাচ্ছে এর বিপুল খরচ? প্রশ্ন উঠছে এ নিয়ে। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, এর নেপথ্যে রয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বিটকয়েনের গোপন পথ।












Discussion about this post