প্রায় দু’হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু। শুধু কি মৃত্যুমিছিল? যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে না। এখন একটাই প্রশ্ন – কবে থামবে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ? আমেরিকা যেমন ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছে, ইরানও আমেরিকাকে পাল্টা হুমকি দিয়ে চলেছে। যুদ্ধের আবহে ইরান তাদের নতুন নেতা বেছে নিয়েছে। তাহলে কি এই যুদ্ধ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে চলেছে? এদিকে, ইরানকে আবার প্রত্যাঘাতের হুমকি দিয়েছে সৌদি। তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। তাহলে কি ইরানের সঙ্গে এবার যুদ্ধে নামছে পাকিস্তান? এদিকে আবার ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় পোল্যান্ড আবার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সেটি কম বিস্ময়ের নয়। ভারত কি এবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয় যেতে পারে? বারুদের গন্ধ, মৃত্যু মিছিল, ধ্বংসস্তুপ – সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ক্রমশ বিস্তারলাভ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ছাড়বেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি শনিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এখন ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যা হচ্ছে— তা আসলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভুল আন্তর্জাতিক হিসাব-নিকাশের ফলাফল। তিনি ভেবেছিলেন, ভেনেজুয়েলায় তিনি যা করেছিলেন, এখানেও সেই একই মডেল প্রয়োগ করবেন। এবং তা করতে গিয়ে তিনি নিজেই পড়েছেন ঝামেলায়। এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত অচলাবস্থা তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন এখন নিজেদের ভুল হিসাবের কাদাজলে আটকা পড়েছে।” ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “তবে আমরা ট্রাম্পকে ছাড়ব না। যে ভুল তিনি করেছেন, সেজন্য তাকে মাশুল গুণতেই হবে।”
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান। তেহরান যে ওয়াশিংটনকে ছেড়ে কথা বলবে না, তার প্রমাণ কয়েকটি পরিসংখ্যান।
মাত্র পাঁচদিনে ইরান ৫০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০০০ ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের ২ হাজারের বেশি নিশানায় হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। এর মধ্যে শনিবার ইরানের তেল ভাণ্ডারে হামলা চালানোর পাশাপাশি হামলা চলে কারাজ শহরে। এই হামলায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও আবাগান বন্দর এবং আব্বাসেও হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান ফিরিয়ে দিয়েছেন আমেরিকার নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি। দেশকে রক্ষা করার অধিকার তাদের রয়েছে। তবে ইরান এটাও জানিয়েছে, তারা কোনও প্রতিবেশী দেশের ওপর হামলা চালাবে না। যদিও তাঁর ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই দুবাইয়ের মেরিনা টাওয়ারকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। তবে মেরিনা টাওয়ারের ধ্বংসাবশেষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। পরের দিন রবিবার সকালে দুবাই বিমানবন্দরে হামলা চালায় ইরান। আমেরিকা ও ইজরায়েল যে ভাষায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে হুমকি দিয়ে চলেছে, তাতে আশঙ্কা করা হচ্ছে এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে। যুদ্ধে একের পর এক দেশ জড়িয়ে যাওয়ায় সেটা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের যে চুক্তি হয়েছে, সেই চুক্তি অনুসারে এই দুঃসময়ে পাকিস্তানের পাশে তাদের থাকার কথা। সৌদির ওপর হামলা মানেই পাকিস্তানের ওপর হামলা। সৌদি তাদের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছে। এই আবহে যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য ভারতকে প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে।












Discussion about this post