ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল দুই অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়েছে ভারত থেকে। বনগাঁ সীমান্তের কাছে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। এরপর থেকে নানাভাবে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ থেকে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অনেক সাংবাদিক প্রশ্ন তুলছেন, যেহেতু বিএনপি সরকার আসার পর নতুন ডিজিএফআইয়ের প্রধান ভারত সফর করেছেন। তার পরপরই এই গ্রেফতারের তথ্যটি সামনে আসে। তাই এই দুই আসামি কি সত্যিই এখন গ্রেফতার হয়েছে? নাকি ইউনূস সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তাঁরা গ্রেফতার হয়েছিল? কিন্তু তাঁদের ইউনূস সরকারের হাতে হস্তান্তর করেনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ? এমন আলোচনা চলছে। তাঁরা গ্রেফতার হওয়ার পরে যে ছবি প্রকাশিত হয়েছে, সেই ছবি নিয়েও নানা বিশ্লেষণ চলছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বহু সমর্থক সোশ্যাল মিডিয়াতে বলার চেষ্টা করছেন, যে এতদিন হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যারা এতদিন ব্যবসা করেছিল, তাঁদের মুখ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যারা এতদিন হাদির মৃত্যুকে ঘিরে প্রতিবাদ করেছে, তাঁদের তো এখন খুশি হওয়ার কথা। কিন্তু তারা কেন খুশি হচ্ছেন না? অর্থাৎ অনেকেই এই ঘটনার পর বিপদে পড়লেন। বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওসমান হাদির দুই মূল হত্যাকারী ফয়সাল করীম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন গ্রেফতার হয়েছে। আর এই নিয়ে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক একটি পোস্ট করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তিনি বলার চেষ্টা করেছেন, হাদির হত্যাকারীরা ইউনূস সরকারের আমলেই ভারত সরকার গ্রেফতার করেছিল। কিন্তু তারা অপেক্ষা করছিলেন, নির্বাচিত সরকার আসা পর্যন্ত। তাই বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের হাতেই হাদির হত্যাকারীদের হস্তান্তর করেছে এপার বাংলার পুলিশ। তাঁর পোস্টের শেষের অংশে স্পষ্ট করে লেখা, ভারতকে ধন্যবাদ। তারা হাদীর সম্ভাব্য খুনিদেরকে বেশ আগেই গ্রেফতার করে রেখেছিল। কিন্তু তারা ইউজ সরকারের হাতে ওদেরকে হস্তান্তর করেনি। কারণ ইউনূস সরকার যে এটা ধামাচাপা দিয়ে দিত, এটা দশ টাকা কমেন্টকারী বটবাহিনী ছাড়া যে কেউই বোঝে। ভারত একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে খুনিদেরকে হস্তান্তর করেছে। খুনের ন্যায্য বিচার তাই আমরা সবাই আশা করতেই পারি।
অর্থাৎ তিনি উস্কে দিলেন, এই আসামীরা গ্রেফতার আগেই হয়েছিল নাকি যেটা দেখা যাচ্ছে, সেটাই ঘটেছে? অনেকেই বলছেন, ফয়সাল করিম মাসুদের ছবি গ্রেফতার হওয়ার পর দেখলে বোঝা যায়, তিনি শারীরিক এবং মানসিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল। যেটা দেখে অনেককেই অনুমান করছেন, এটা একদিনের গ্রেফতারের ফল নয়। বহুদিন ধরেই তারা কারাবাসে রয়েছে।
অন্যদিকে জুলকারনাইন সায়ের বলার চেষ্টা করছেন, ইলিয়াস হোসেন পিনাকীদের গল্পটা এমন ছিল যে, দেশের গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনায় নাকি এই জঘন্য ঘটনা ঘটেছে, নোংরামীর চূড়ান্ত করতে আমাকেও এর সঙ্গে জড়িয়ে অপবাদ দেয়। মিথ্যে আর অপতথ্যের এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল এরা। আর তাসের ঘরের মতো সে সব এখন ভেঙে পড়ছে। হাদি হত্যাকারীর কলকাতায় গ্রেফতার প্রসঙ্গে এমনটাই বলার চেষ্টা করেছেন জুলকারনাইন সাহের।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন হাদীর হত্যাকারীরা গ্রেফতার হতেই। সেখানে তিনি লিখছেন, হাদির অভিযুক্ত হত্যাকারী ভারতে গ্রেফতার। সম্ভবত, বাংলাদেশের ফেরত পাঠানো হবে। উল্লেখিত খবরে কতজনের কাপড় নষ্ট হচ্ছে? কতজন ফাঁসির দড়ির স্বপ্ন দেখছে? আর একটি তাজা প্রাণ ঝড়িয়ে যারা ১৮ কোটি মানুষের আবেগকে পুঁজি করে সোনার বাংলা তছনচ করার চক্রান্ত করেছিল, তাদের ওপর সম্ভবত__!
অর্থাৎ তিনি বলার চেষ্টা করলেন, এই দুই আততায়ীর গ্রেফতারির পর বাংলাদেশের মধ্যে অনেকে বিপদে পড়তে পারেন। যদি সত্যিই আসল তথ্য বের করতে পারে পুলিশ, তাহলে অনেকেই হাজতবাস হতে পারে। এদিকে একজন ডাকসু নেত্রী একটি গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে বলছেন, তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হতে পারে। এখন প্রশ্ন, হঠাৎ করে তিনি এমন প্রসঙ্গ কেন তুলছেন? এমন কিছু রয়েছে? যেটা তাকে ভয় ধরাচ্ছে? ফলে হাদির হত্যাকারীরা গ্রেফতার হতেই এখাদিক প্রশ্ন দানা বাঁধছে। এখন দেখার, এরপর বিএনপি প্রশাসন এই দুই আসামীদের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ করে! এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আদেও কিছু বের করে নিয়ে আসতে পারে কিনা! তাতে অনেকেরই বিপদ বাড়বে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।












Discussion about this post