মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে প্রবলভাবে জ্বালানি সংকট হতে পারে কয়েকটি দেশের। সেটা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এইবার বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটা সত্যি হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট কাটাতে বিকল্প জ্বালানির উৎস খুঁজছে বিএনপি সরকার। ভারতের সহযোগিতা চাইছে ঢাকা। এদিকে ১৮ মাস ধরে মুহাম্মদ ইউনূস সরকার ভারত বিরোধী অবস্থান প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন পদ্মাপাড়ে। এমনকি ভারতের সেভেন সিস্টার্স আলাদা করে দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। ভারতীয় দূতাবাসের ইঁট খুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু এখন যখন ভারতের শরনাপন্ন হল বাংলাদেশ, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে ট্রোল করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এর আগে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তখনও তারাও খানিকটা ভারত বিরোধী মনোভাব নিয়ে চলত। সেটা নিয়েও ট্রোল করা হচ্ছে পুরনো ভিডিও খুঁজে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রশ্নও উঠছে, যে বাংলাদেশের ভারত বিরোধীতা কি এবার উবে গেল?
কিছুদিন আগে জানা গিয়েছিল, বাংলাদেশের কাছে মাত্র ১৪ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। অর্থাৎ একটা ভয়াবহ সংকট তৈরি হতে যাচ্ছে। এদিকে সামনেই ঈদ। একটি কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। তাই জ্বালানির সহযোগিতা চেয়ে ভারতের কাছে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ। এরমধ্যে ভারত থেকে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আনার প্রস্তাব। আসামের নুমলীগড় রিফাইনারি লিমিটেড রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির আলোকে নিয়মিত ডিজেলের যোগান চায় ঢাকা। পরিসংখ্যান বলছে, আসামের এনআরএল থেকে ২০২৩ সালে আমদানি করা হয়েছে, ৩৫ হাজার ৭১৮ টন ডিজেল। ২০২৪ সালের ২৮ হাজার ২০৪ টন। ২০২৫ সালে ১ লক্ষ ২৪ হাজার ২১৬ টন। ১৫ বছর মেয়াদের চুক্তির আওতায় চলতি বছরে আমদানির কথা আরও ২ লক্ষ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। একাধিক সূত্র বলছে, জ্বালানি তেলের মজুদ স্বাভাবিক রাখতে এবং নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে, সরকার জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের এই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে আগামী চার মাসের মধ্যে ৫০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশের সরবরাহের প্রক্রিয়া শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারতের এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ডিজেল আমদানি চুক্তি সম্পন্ন হলে তা দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইতিমধ্যেই প্রণয় ভার্মা ইতিবাচক সাড়াও দিয়েছেন। অর্থাৎ ভারত সাহায্য করবে প্রতিবেশী দেশকে। জ্বালানি সংকট মেটাতে বাংলাদেশ ভারত পাইপলাইন দিয়ে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই পাইপ লাইনের সর্বোচ্চ সদ ব্যবহার করতে চায় ঢাকা। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে এলপি গ্যাসের দাম ৪১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব নাকি দেওয়া হয়েছে। ১২০০ টাকা থেকে ৪১০ টাকা বাড়িয়ে ১৬০০ টাকার বেশি করার প্রস্তাব। অর্থাৎ জনজীবনে যে কতটা প্রভাব ফেলতে চলেছে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এটা যেমন ইন্ডাস্ট্রিতে প্রভাব ফেলবে, তেমনই মানুষের দৈনিক জীবনযাত্রায়।
যখন ভারতের থেকে সহযোগিতা চাইছে বাংলাদেশ, তখন দেখা যাচ্ছে, পুরনো কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যেমন রুহুল কবির রিজভী আওয়ামী লীগের সময়, তাঁর স্ত্রীর ভারত থেকে কেনা একটি শাড়ি প্রকাশ্যে পুড়িয়ে দিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন। সেই ভিডিও এখন ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিএনপির এই সহযোগিতা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের একজন প্রতিমন্ত্রী, যিনি গত ১৮ মাস লুকিয়ে ছিলেন, হঠাৎ তিনি মার্চ মাসে প্রকাশ্যে এসেছেন। তিনি একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ভারতের থেকে যখন তেল আমদানি চলছে, তখন ভারত বাংলাদেশের দেড়শ কিলোমিটার এই পাইপ লাইন তৈরি, যেটা আওয়ামি লীগ সরকার করেছে, এই পাইপ লাইনের উপর বাংলাদেশ ভরসা করতে পারে। অর্থাৎ শুধুমাত্র ডিজিট্যালই নয়, দেশের অন্দরেও অনেকে এটা নিয়ে কটাক্ষ করছে। কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশের এই সংকটকালে যখন ভারতের সহযোগিতা তারা পাচ্ছে, এবং ভারতও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচছে, তখন এই কটাক্ষ, পাল্টা কটাক্ষের ঊর্ধ্বে উঠে বিষয়টি সমর্থন করা উচিত।












Discussion about this post