পশ্চিম বিশ্বের মধ্যে পরমাণুধর রাষ্ট্র পাকিস্তান, ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্ক। তবে পাকিস্তান বা তুরস্ক ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বাংলাদেশকে পাশে চাইছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী থেকে ভয়ানক পরিস্থিতি। দাবানলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ। সর্বোচ্চ নেতা খামেনইকে হারালেও ভয়ঙ্কর ভাবে লড়ে যাচ্ছে একাই লড়ে যাচ্ছে ইরান। একপ্রকার বলা যায় ধর্মযুদ্ধ। কিন্তু, ইরানের বিরুদ্ধে কথা বলছে, কাতার, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি , সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে হঠাৎই উঠে এসেছে বাংলাদেশের কথা। বাংলাদেশকে নিয়ে চলছে আলোচনা। তাও আবার ইরানকে সারথী হিসাবে ধরে। ঢাকার দূতাবাসে আয়োজন করা হয় সংবাদ সম্মেলন। সেখানে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আবারও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে, তবে ইরান ভয় পায় না এবং শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করবে। রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ নেতা এই যুদ্ধ চলাকালেও কোথাও আশ্রয় নেয় নি তিনি জনগণের সাথে ছিলেন।’ খামেনির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কিন্তু খামেনি আমাদের মহান নেতা জনগণ এর থেকে দূরে যায়নি তিনি তাদের মধ্যেই শাহাদাত বরন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও পারমাণবিক ইস্যুতে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, তারা কি চায়? আমেরিকান রা চায় আমরা যে উইরেনিয়াম সংরক্ষণ করে যাচ্ছি তা থেকে বিরত থাকি।’ ইরানের রাষ্ট্রদূত জানান, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাবার ক্ষমতা রাখে তাঁর দেশ। ড্রোন ও মিসাইল সহ সব অস্ত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকায় কোনও দেশ থেকেই ইরানের লজিস্টিকস সাপোর্ট দরকার নেই। এই যুদ্ধের সময়ে শিক্ষার্থীদের কী হবে সেই বিষয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধের শুরু শুরু পরে সবাইকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যুদ্ধের সময়ে নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে হাজারের ঘরে। এখনও পর্যন্ত জানা যাচ্ছে, প্রায় ৬০০ ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ১৫০০র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। ইজরায়েলের বদলে টার্গেট বানান হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাটিও দূতাবাস। হামলা আটকাতে গিয়ে স্টক শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান নিয়েও কথা বলেন ইরানি রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার বিবৃতির মাধ্যমে সহমর্মিতা জানিয়েছেন এর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’ কিন্তু এখন ক্ষমতায় রয়েছে বিএনপির সরকার সত্যিই কী বিএনপির সরকার পাশে দাড়াবে ইরানের? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। এর মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হল, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাংলাদেশি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলে বাংলাদেশ ইরানের কাছে তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা জানান, প্রণালীতে প্রবেশের আগে ইরানি কর্তৃপক্ষকে জানালে বাংলাদেশি জাহাজগুলোকে জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি পণ্য নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।












Discussion about this post