বাংলাদেশে অবৈধ ইউনূস সরকারের আমলে শরিফ ওসমান হাদি নামে একটি ভয়ংকর রাজনৈতিক ঘুঁটি তৈরি করে, তাঁকে হত্যা করে আওয়ামী লীগ বিরোধী ও ভারত বিরোধী রাজনীতিকে চরম অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। হাদি হত্যাকারী হিসেবে একবার আওয়ামী লীগকে, একবার ভারতকে দায়ী করে বাংলাদেশে যে ভয়ংকর মব সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল, তা কিছুদিন চাপা ছিল। কিন্তু বিষয়টি আবার প্রকাশ্যে এসেছে। কারণ, পশ্চিবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত এলাকা বনগাঁ থেকে হাদির দুই হত্যাকারীকে গ্রেফতারের প্রেক্ষিতে। পুলিশের কাছে তারা যে বয়ান দিয়েছে, তা রীতিমতো বিস্ফোরক। মনে হচ্ছে হাদি এবং হাদি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির নয়া গতিপথ শুরু হতে চলেছে।
দীর্ঘ নাটকীয়তা। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং তুমুল রাজনৈতিক অস্থিরতার পর অবশেষে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি কাণ্ডে ফয়জাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনের পশ্চিবঙ্গে গ্রেফতার হওয়ার ঘটনাটি নিঃসন্দেহে এই মুহূর্তে ঢাকার রাজনীতির বড়ো গেম চেঞ্জার। শনিবার গভীর রাতে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্কফোর্স হাদি হত্যার মাথা ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করে। হাদি খুনে বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ যে চার্জশিট দিয়েছিল তাতে নাম ছিল এই দুজনের। গ্রেফতারের খবর যখন প্রকাশ্যে আসে, তখন ঢাকার তদন্তকারী সংস্থাগুলির পূর্ববর্তী দাবি এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল। ভারতীয় পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। হাদিকে খুন করার পর অবৈধভাবে এই দুইজন ভারতে প্রবেশ করে। পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হলে তাদের বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তার আগেই রাজ্য পুলিশের এসটিএফ তাদের গ্রেফতার করে। আদালতে পেশ করা হলে আদালত ১৪ দিনের রিম্যান্ড মঞ্জুর করেছে। এটা রহস্য জট খোলার প্রাথমিক ধাপমাত্র।
হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেকেই সরব ছিলেন। তাদের দাবি ছিল ন্যায় বিচারের। সরব ছিল ইনকিলাব মঞ্চ। কিন্তু মূল অভিযুক্ত ধরা পড়ার পর যারা হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরব ছিল, তারা এখন অনেকটাই ম্রিয়মান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হাদিকে খুন হতে হয়েছে নির্বাচনে সরব হওয়ার জন্য। পূর্বতন তদারকি সরকার, জামায়াত এবং এনসিপি চেয়েছিল তাদের মতো করে নির্বাচন করতে। তারা যখন চাইবে, তখন হবে নির্বাচন। তাতে ঘোর আপত্তি ছিল ইনকিলাবমঞ্চের। মনে করা হচ্ছে, সে কারণে হাদিকে খুন করা হয়েছে।
তদারকি সরকারের আরও একটি দাবি ছিল যে হাদিকে সরিয়ে দিতে দিল্লি থেকে ভাড়াটে খুনি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু যে দুই জন ধরা পড়েছে সেই দুইজয় ফয়জাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন বাংলাদেশের নাগরিক। এই ঘটনার সঙ্গে ভারতের যে বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই, সেটা স্পষ্ট। তবে হাদির সঙ্গে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গীর একটি জায়গায় মিল রয়েছে। হাদি এবং ভারতের দাবি ছিল একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। তদারকি সরকার একপ্রকার চাপে পড়ে নির্বাচনের ঘোষণা করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন বাতিল করা। সে কারণে হাদিকে খুন করা হয়েছে। সে কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে ছিলেন না।
হাদির ঘটনায় তদারকি সরকার যে রীতিমতো চাপে ছিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তদারকি সরকারের তরফে বলা হচ্ছিল, দুই অভিযুক্ত ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। কিন্তু কীভাবে পালিয়ে গেল? যদি তদারকি সরকারের প্রচ্ছন্ন মদত না থাকলে তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে পারত কি? আবার আন্দোলনকে প্রশমিত করতে ইউনূস সরকার নানা কৌশল নেয়। পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া ছাড়াও হাদির পরিবারের একজনকে তারা চাকরি দিয়েছে। এ সবের আড়ালে কিন্তু চলে গিয়েছিল হাদি হত্যায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের বিষয়টি। ফয়জাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন ধরা পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। তদারকি সরকার আর ক্ষমতায় নেই। ক্ষমতায় আসীন হয়েছে বিএনপি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এখন দেখার বিষয় তারেক সরকার এই দুইয়ের বিষয়ে কী পদক্ষেপ করে।












Discussion about this post