হাসিনা এখনও দিল্লিতে। দিল্লিতে থাকা অবস্থায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার মামলা দায়ের হয়। আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। একই অপরাধে সাজা হয় তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে। এই অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল হাসিনার আমলে। তাঁর অন্য একটি উদ্দেশ্য ছিল। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর আদালত এই আদালত বকলমে তাঁর অস্ত্র হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কাঠগড়ায় তোলা হয়। এই আদালতের যে কোনও বৈধতা নেই তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিটর তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেন। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রান্ত থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এবার যে অভিযোগ প্রকাশ্যে এলো, তা রীতিমতো ভয়ঙ্কর।
আইসিটির এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে কোটা টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি এই ঘুষ চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের এক সদস্যের জামিনে মুক্তির বিনিময়ে। অভিযুক্ত সরকার পক্ষের আইনজীবী। বাংলাদেশের প্রথম সারির দৈনিক “প্রথম আলো” পেয়েছে অভিযুক্ত আইনীজীবীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের পরিবারের এক সদস্যের ফোন কথোপকথনের অডিও। অভিযুক্তি আইনজীবীর নাম সাইমুম রেজা তালুকদার। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর জামিনের ব্যবস্থা করতে তিনি তাঁর পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সদস্য তথা সাবেক এমপির বিরুদ্ধে রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে কলেজছাত্র ওয়াসিম আকরামকে হত্যার অভিযোগ। সাবেক এই সদস্য ২০২৪ –য়ের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ সেই সময় তাঁকে গ্রেফতার করে। প্রসিকিউশনের তথ্যমতে জুলাই অভুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ নয়জন নিহত হন। ঘটনায় আহত হন সাড়ে পাঁচশোর বেশি। অভিযোগ এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন ফজলে করিম চৌধুরী। চৌধুরী বর্তমানে জেলে রয়েছেন। ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইমুম রেজা। রেকর্ড করা হোয়াটসঅ্যাপ কলগুলোর একটিতে ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের এক সদস্যকে আগের একটি আলাপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাইমুম রেজা তালুকদারকে বলতে শোনা যায়, শেষ পর্যন্ত তিনি যদি ফজলে করিম চৌধুরীকে বের করতে পারেন—তখন একটি ‘বেশ ভালো অ্যামাউন্টের’ বিষয় থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমি ওয়ান ক্রোরের (১ কোটি টাকা) কথা বলেছিলাম।’ এক কোটি টাকা থেকে সাইমুম রেজা তালুকদার অগ্রিম ১০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্যও বলেন। তিনি বলেন, যদি ১০ লাখের মতো অগ্রিম দেওয়া যায়, তাহলে খুব ভালো হয়- নগদে।
অভিযোগ ওঠার পরে পরে প্রসিকিউটর ইস্তফা দেন। ফাঁস হওয়া অডিওগুলিতে আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক তদবিরের বিষয়েও তাঁকে কথা বলতে শোনা গিয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে সাইমুম রেজা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, এরপর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে সাইমুম রেজা তালুকদারের কথোপকথনের কয়েকটি রেকর্ডিং দেওয়া হয়। ফজলের পরিবারকে সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন, যে মন্ত্রী তাঁকে গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছেন। অভিযুক্ত প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগের তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, খবরটি যখন প্রকাশ্যে আসে, সেই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন। এই বিষয়টা কী হল, কেন হল – এই বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে জানার চেষ্টা করছেন।












Discussion about this post