তারেক বাংলাদেশে ফিরেছেন। নির্বাচনে তাঁর দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিএনপি সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন তারেক রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, দেশ শাসন করতে গিয়ে তারেক রহমানকে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। তারা বেশ কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। সেই সব যুক্তির মধ্যে একটি বিরোধী আসনে থাকা জামায়াত সরকারকে খুব একটা স্বস্তিতে থাকতে দেবে না। শুধু জামাত নয়, বিএনপির যে সাত বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটে জয়ী হয়েছেন, তারাও সরকারকে চাপে ফেলার জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। বিদ্রোহী সাত প্রার্থী হলেন, রুমিন ফারহানা, শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, লুৎফর রহমান খান আজাদ, আব্দুল হান্নান, আতিকুল আলম শাওয়ান, সালমান ওমর রুবেল ও রেজওয়ানুল হক।
কে কোথা থেকে প্রার্থী হয়েছিল, একবার দেখে নেওয়া যাক। রুমিন ফারহানা। বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতীক ছিল হাঁস। নিকটতম প্রার্থী ছিলেন বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। রুমি ফারহানা ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়েছেন। কিশোরগঞ্জ ৫ (বাজিতপুর-নিকলী) কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মুজিবুর রহমান ইকবাল। তাঁরও প্রতীক ছিল হাঁস। বিএনপির এই বিদ্রোহী প্রার্থী ১৩ হাজার ৯২ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন। টাঙ্গাইল ৩ (ঘাটাইল)। এই আসনে বিএনপি প্রার্থী করে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ওয়াবদুল হক নাসির। ধানের শীষ না পাওয়ায় মোটর সাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপির সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬ হাজার ৭৯৪ ভোট। নিকটতম বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট ওয়াবদুল হক নাসির পেয়েছেন ৮১ হাজার ৭৩৪টি ভোট। চাঁদপুর – ৪ (ফরিদগঞ্জ)। বিএনপি এই কেন্দ্রে প্রার্থী করে দলের রাজস্ব ও ব্যাংকিং বিষয়ক সম্পাদক প্রাক্তন এমপি লায়ন হারুনুর রশীদকে। টিকিট না পাওয়ায় এই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল হান্নান। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৭৩ হাজার ৫৯৯। আর বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৮৩৩ ভোট। কুমিল্লা -৭ (চান্দিনা) কেন্দ্রে থেকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী তথা দলের উপজেলা সভাপতি আতিকুল আলম শাওন। তিনি পেয়েছেন ৪২ হাজার ৮৯৪ ভোট। আর বিএনপির রেদোয়ান আহমেদ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯২৫ ভোট। ময়মনসিংহ ১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া)। এই কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী করে দলের যুগ্মসচিব সৈয়দ এমরান সালেহে প্রিন্স। কেন্দ্র থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপির উত্তর জেলা সদস্য সালমান ওমর রুবেল। রুবেল পেয়েছেন ১ লক্ষ ৭ হাজার ২৪১ ভোট। নিকটতম প্রার্থী বিএনপির সৈয়দ এমরান সালেহ পেয়েছেন এক লক্ষ ৭৩৬ ভোট। জীবনে প্রথম ভোটে অংশ নিয়ে সাফল্যের মুখে দেখেন রুবেল। দিনাজপুর – ৫ (পাবর্তীপুর –ফুলবাড়ি) আসনটিতে ব্যারিস্টার এ কে এম কামারুজ্জামানকে প্রার্থী করে বিএনপি। দলের বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রেজওয়ানুল হক। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৪৮৪। আর বিএনপির কামারুজ্জামান পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৫৪৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির ডা. আব্দুল আহাদ (শাপলা কলি) পেয়েছেন ১ লক্ষ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এক রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। সেখানে এক্স ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে বিএনপির এই সাত বিদ্রোহী প্রার্থী। সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে, এই সাত বিদ্রোহী সাংসদ বিএনপিকে চাপে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গণমাধ্যমের খবর বলছে, এই সাত সিপাহী জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা বাস্তবে রূপ পেলে জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ হবে। এই জোট কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে সংসদের সংখ্যার সমীকরণ, রাজনৈতিক কৌশল এবং তাদের ঐক্য ধরে রাখার সক্ষমতার ওপর। এই বিজয় শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। বরং বিএনপিতে তৃণমূলস্তরে যে দ্বন্দ্ব রয়েছে, এই সাত বিদ্রোহী তাঁর বড়ো প্রমাণ। সেই ক্ষোভ এখন জোটে রূপ নিতে চলেছে, যার নেতৃত্বে থাকতে চলেছেন মুজিবুর রহমান ইকবাল। এই জোট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা সংসদে স্বতন্ত্র অবস্থান নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলের ভুল ধরিয়ে দেওয়া। এই সাত বিএনপির মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে। সরকারের জন্য নৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। এই সাত বিদ্রোহী অভ্যন্তরের অসন্তোষের প্রতীক। এই সাতজন বিতর্কের নতুন একটি মঞ্চ তৈরি করে দিলেন।












Discussion about this post