মুহাম্মদ ইউনূসের মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন বাংলাদেশের বহু মানুষ। মানুষ ছিল অতিষ্ট। তারেক রহমান তখন লন্ডনে। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান এই মব সন্ত্রাস নিয়ে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন। তাঁকে বলতে শোনা যায় – তবে কি ধরে নেব মবের পিছনে সরকারের প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় আছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, যারা মব সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত তাদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? এই মবের রাজত্ব কায়েম বহাল রাখার পিছনে যে ইউনূস সরকারের মদত রয়েছে সেটা তারেক রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায়। তখনকার তারেক রহমান আর বর্তমানের তারেক রহমানের মধ্যে বিস্তর তফাৎ রয়েছে। তারেক এখন দলের সর্বোচ্চ পদে রয়েছেন। আর বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রশ্ন উঠেছে এই সরকারের আমলে কি সেই মবক্র্যাসি বন্ধ হয়েছে? তার একটা ঝলক দেখা গিয়েছে ৭ মার্চের ভাষণকে কেন্দ্র করে। ৭ মার্চ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শেখ মুজিবের ভাষণ বাজানোর অপরাধে নানা জায়গায় হামলা হয়। ৩২ ধানমন্ডিতে সেদিন যারা শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন, তাদের ওপর হামলা হয়েছে। থানায় নিয়ে গিয়ে পেটানো হয়েছে। তারেক রহমান সরকার কিন্তু এই মব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের দাবি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোন অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি নরসিংদীতে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার ঘটনায় সব অপরাধীকেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। নারায়ণগঞ্জে পুলিশের কাছে থেকে ছিনতাই করা হয়েছে অস্ত্র। পরে অবশ্য সেই অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে দুজনকে। মোহাম্মদপুরে রাতে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। তিনি রাতে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় তার ফোন ছিনতাই হয়ে যায়। বাংলাদেশে বাড়ছে খুন, ধর্ষণের ঘটনা। ইউনূসের আমলে যে দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, সেই দৃশ্য আবার ফিরে এসেছে আরও বড়ো আকারে। ইউনূস সরকার মব সন্ত্রাসীদের দেখেও না দেখার ভান করত। যারা মব করছে, তারা বেশ নিরাপদে রয়েছে। আর জেলে যেতে হচ্ছে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের। যদিও সরকারের এক মন্ত্রী বলেছেন, দুই-তিন মাসের মধ্যে শুরু হবে অপারেশন ক্লিনহার্ট ২.০। প্রশ্ন উঠছে এই অভিযান হলেও কি মব সন্ত্রাস পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হবে?
২০২৪ সালে অগাস্টে প্যারিস থেকে উড়ে এসে বাংলাদেশে ক্ষমতায় বসেন ইউনূস। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন মব সন্ত্রাস বন্ধের। কিন্তু সেই আশ্বাস কি কার্যকর হয়েছে? মব সন্ত্রাসের অধিকাংশ ক্ষেত্রে জড়িত ছিলেন ইউনূসের নিয়োগকর্তারা। ইউনূসের আমলে হওয়ায় মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি, আইনজীবী, প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার। এই ধরনের হেভিওয়েটে ব্যক্তি যদি মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কেমন ছিল, তা আর নতুন করে উল্লেখ করার দরকার হয় না। বাউল সম্প্রদায়, ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর নির্বিবাদে অত্যাচার চালিয়েছে ইউনূস আমলের মব সন্ত্রাসীরা। মুক্তিযোদ্ধাদের রেয়াত করা হয়নি। রাজবাড়ীতে কবর থেকে লাশ তুলে তা পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। দেশের বড় দুটি পত্রিকা অফিসে হামলা হয়েছে। ভাঙচুর হয়েছে। পালাবদল হলেও বদল হয়নি মব সন্ত্রাস। নারায়ণগঞ্জ বা মোহাম্মদপুরের ঘটনা তার বড়ো প্রমাণ। গাজীপুরে এক ব্যবসায়ীর থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা ছিনতাই করা হয়েছে। সাতক্ষীরায় বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে তার কাছে থাকা ১০ লক্ষ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় দুষ্কুতীরা। ছিনতাই হওয়া একটি অটোরিকশার পিছনে দৌড়াচ্ছিল এক কিশোর। উদ্দেশ্যে ছিল অটোরিক্সাটিকে উদ্ধার করা। সেই কিশোরকে ট্রাকের চাকা পিষে দেয়। তারেক রহমানের শাসনামলেও দেখা যাচ্ছে মবের জয়জয়কার।












Discussion about this post