ভাষণ বাজানোর অপরাধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এক ছাত্রলীগ নেতা সহ দুজনকে আটক করেছে শাহবাগ থানার পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে শনিবার দুপুরে। আটক ছাত্রলীগ নেতার নাম আসিফ আহমেদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদুল্লাহ হলের ছাত্রলীগের কর্মসংস্থান সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার সময় তিনিও ছাত্রলীগের সঙ্গে ছিলেন। তাদের আটকের বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, “ওটা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজাচ্ছিল। এটা তো নিষিদ্ধ। এ জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।” ৭ মার্চ নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানেক নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও এক শিক্ষার্থীকে সেহরির টেবিল থেকে তুলে মারধর করা হয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ওই শিক্ষার্থী সেহরি খেতে বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলের ক্যান্টিনে বসেছিলেন। সেখান থেকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে শাহবাগ থানায় ফেলে রেখে যান জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা। ওই দিন ৩২ ধানমন্ডিতে শেখ মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগার। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। অনেকে বলছেন, তারেক রহমানের সরকার আসলে ইউনূস সরকারের এক্সটেনসন।
ইউনূস সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের গ্রেফতার করে তাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে ঢুকিয়ে হত্যা পর্যন্ত করা হয়েছে। তারেক রহমানের সরকারের সেই ধারা অব্যাহত। ইউনূসের আমলে যারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন চালিয়ে গিয়েছে, এখন সেই তারা একই কাজ করে চলেছে। ভিন্ন আঙ্গিকে। বাংলাদেশে পালাবদল হলেও আওয়ামী লীগের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির যে কোনও পরিবর্তন হয়নি সেটা ওই সব ঘটনা থেকে প্রমাণিত। অনেকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে ইউনূস সরকার আওয়ামী লীগারদের সঙ্গে যা করেছে, সেই একই কদর্য খেলা খেলবে তারেক রহমানের সরকার। কিন্তু বিশ্বাস আর বাস্তবতা যে এক নয়। বাস্তব কোনও কোনও সময় অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। অনেকে বলছেন, তারেক রহমানকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে যে সব কারণে তার মধ্যে একটি হল জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য। সেই কারণে পুলিশ হত্যার বিচারের বিষয়টি খুব অগ্রগতি হয়নি। তারা ইন্ডেমনিটি তুলবে না।
৭ মার্চের ভাষণের প্রতি বিএনপি বা জামায়াত বা এসিপির এই ঘৃণা আসলে ভয় থেকে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়, এই ভাষণ স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল প্রেরণা। কারণ, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি শেখ মুজিবুরের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ। ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে আন্তর্জাতিক মর্যাদা দিয়েছে। যারা এই ভাষণকে ভয় পায়, তারা আসলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনাকে ভয় পায়। তার কারণ খুব স্পষ্ট। তারা জানে এই ভাষণের প্রতিটি শব্দ মানুষের মনে স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তোলে, তাদের উজ্জীবিত করে। যে কোনও দেশের ক্ষেত্রেই সেটা প্রযোজ্য। এই প্রসঙ্গে নেতাজির সেই অমোঘ উক্তির উল্লেখ করতে হয়। তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব। ১৯৪৪ সালে বার্মায় আজাদ হিন্দ ফৌজের সৈন্যদের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান জানাতে গিয়ে এই কটি শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন নেতাজি। দেশ স্বাধীন হয়েছে। ক্ষমতায় একাধিকবার পালাবদল হয়েছে। কিন্তু নেতাজির সেই অমোঘ উক্তি মানুষ আজও ভোলেনি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেই একই কথা প্রযোজ্য হাজার চেষ্টা করেও শেখ মুজিবকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশবাসীর মন থেকে কোনওভাবেই মুছে ফেলতে পারবে না কোনও সরকার।












Discussion about this post