বাংলাদেশে গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরীর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। একে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ছাড়া আর কিই বা বলা যেতে পারে। মেজর জেনারেল চৌধুরী ভারত সফরে এসেছিলেন। তিনি বৈঠক করেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-য়ের প্রধান পরাগ জৈন এবং সামরিক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর এস নারাণয়ের সঙ্গে। এই বৈঠক হয়েছিল এবারে গোপনে। এতটা গোপনে যে কাকপক্ষীয়ও টের পায়নি। এমনকী গণমাধ্যমও জানতে পারেনি। বলা হয়েছিল, তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছেন। কিন্তু এই সফরের আসল উদ্দেশ্য ছিল গোয়েন্দাস্তরে পুনরায় যোগাযোগ শুরু করা।
এই সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে তৈরি হয়েছে গুঞ্জন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম দুই দেশের গোয়েন্দা প্রধান বৈঠক করলেন। সূত্রের খবর, মেজর জেনারেল চৌধুরী ভারতে এসেছিলেন গত সপ্তাহে। এই বৈঠকের দুটি প্রধান দিক রয়েছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে ঠিক হয়েছে কোনও দেশের মাটি ব্যবহার করে অন্য কোনও দেশের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। দ্বিতীয় বিষয়টি হল গত ১৮ মাস ধরে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের পথগুলো পুনরায় চালু করা। তারেক রহমান সরকার যে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায় তার একাধিক ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। জিয়া-পুত্র প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর সেনাসদস্য এবং গোয়েন্দা বিভাগে বড়সড় রদবদল ঘটান। রদবদল ঘটে পুলিশেও। এমনকী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। রদবদল করা হয় DGFI – তেও। সংস্থার প্রধানপদে নিয়ে আসা হয় মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরীকে। দায়িত্ব নেওয়ার পরে পরে তিনি দিল্লি সফর করলেন। এই সফর নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশজুড়ে তৈরি হয় এক অস্থিরতা। বাংলাদেশের মাটি হয়েছিল ভারত-বিদ্বেষীদের চারণভূমি। ১৮ মাসের ইউনূস সরকারের কার্যাবলী থেকে সেটা স্পষ্ট। হাসিনা সরকারের পতনের পর উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলিতে অস্থিরতার ভয় ছিল। পদ্মাপারে হয়েছে পালাবদল। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন। সাউথব্লক চাইছে, নতুন সরকারের আমলে বাংলাদেশের মাটি যেন কোনওভাবেই ভারত-বিদ্বেষের আতুরঘর না হয়ে ওঠে। বাংলাদেশও চেয়েছে ভারতের মাটি থেকে যেন কোনওভাবে বিদ্বেষমূলক প্রচার না করা হয়। যদিও গত ১৮ মাসে ইউনূস সরকারের আমলে ভারতের মাটি ব্যবহার করে বিষোগার করেনি। কিন্তু তারেক রহমান সরকার গঠনের পর এই ক্ষেত্রে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কারণ, সবাই প্রায় নিশ্চিত ছিল যে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করবে। প্রধামন্ত্রী হবেন হাসিনা। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে ঠিক উল্টোটা হয়েছে। ফলে, যদিও আগামীদিনে পদ্মার এপার থেকে বাংলাদেশ-বিরোধী একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে বলে কোনও কোনও মহল থেকে আশঙ্কা করা হয়েছিল। সেই আশঙ্কার সমূলে বিনাশ ঘটেছে।
দিল্লিতে যেমন বাংলাদেশের গোয়েন্দা প্রধান বৈঠক করেছেন, মধ্যপ্রদেশে আর্মি ওয়ার কলেজে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আরও একটি বৈঠক করেন। যা থেকে স্পষ্ট যে তারা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে পর্দার আড়ালে বড়ো ধরনের তৎপরতা শুরু হয়েছে। তারিক রহমানের সরকারে কিছু পুরনো মুখ রয়েছে। বাংলাদেশের প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এখন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি গতবছর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরেও দুইয়ের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। ভারতের পক্ষ থেকে এই সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার একটা চেষ্টা চলছে। এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফর, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকবার্তা, তারেকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠানো এসব কিছুই প্রমাণ করে যে ভারত তারেক রহমান সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক।












Discussion about this post