মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল এই যুদ্ধে ইরান দ্রুত কোণঠাসা হয়ে পড়বে। ইরান হয়তো পরাজিত হবে। কিন্তু তাদের আক্রমণের ঝাঁঝ দেখে একটা বিষয় স্পষ্ট – “আমি ভয় করব না ভয় করব না। দু বেলা মরার আগে মরব না ভাই মরব না”। এই যুদ্ধে কার লাভ, কতটা লাভ, কার ক্ষতি এবং কতটা ক্ষতি, সেটা বিশ্লেষণ করার সময় এখন আসেনি। ইরান কিন্তু বেশ কায়দা করে পালটা হামলা চালাছে। তাদের লক্ষ্য হয়ে উঠেছে সেই সব যার ওপর হামলা হলে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড দূর্বল হয়ে পড়বে। ইরান একদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইরান হামলা চালিয়েছ সৌদি আরব, কাতার, জর্ডন বাহরিনের তেল ভাণ্ডারে হামলা চালিয়েছে। দ্রুত সেই সব ভাণ্ডার নতুন করে পুনর্গঠন সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনওভাবেই সম্ভব নয়। কারণ, নতুন করে ওই সব তেল ভাণ্ডার তৈরি করা হলে ইরান ফের হামলা চালাবে। তবে ইরান সর্বশেষ যে কৌশলটি নিয়ে, তা শুধু ভয়ংকর নয়, বেশ চমকপ্রদ। ইরান অ্যামাজ এবং মাইক্রোসফটের তথ্যভাণ্ডারে হামলা চালিয়েছে। ঠিক কী হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ফারসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বাহরিনে অবস্থিত অ্যামাজের ডেটা সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুসারে, আগুনের জেরে ডেটা সেন্টারের কাজ ব্যাহত হয়েছে। অ্যামাজনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, দুবাই সময় অনুসারে ঘটনাটি ঘটে রবিবার বিকেলে। এই ঘটনায় বিস্তীর্ণ এলাকায় ডেটা সেন্টারের পরিষেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। অন্য একটি পোস্টে সংস্থা জানিয়েছে, বাহরিনে বিদ্যুৎ সংযোগ সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হয়েছে। অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিস জানিয়েছে, “ সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে আমাদের দুটি স্থাপনায় সরাসরি আঘাত করা হয়েছে। বাহরিনে আমাদের একটি স্থাপনার খুব কাছে ড্রোন হামলার কারণে অবকাঠামো ক্ষতি হয়েছে। ” প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, “ এই হামলার জন্য কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। আমাদের পরিকাঠমো খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আগুন নেভানোর কাজের প্রয়োজন হওয়ায় অতরিক্ত জলের কারণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ” নিরাপত্তার খাতিরে বিশ্বের বড় বড় টেক সংস্থা এখন তাদের ডেটা সেন্টার ও পরিকাঠামো উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে সরিয়ে ভারতে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্লাউড পরিষেবা সংস্থাগুলি মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা পরিকাঠমো সরিয়ে ফেলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। আর এই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ভারত। তারা মুম্বই, হায়দরাবাদ এবং কোচি এই শহরগুলিতে নতুন ডেটা সেন্টার গড়ার বিষয়ে তোরজোর শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, গত ২ মার্চ দুবাই, আবুধাবি এবং ওমানের মতো এলাকায় অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস-য়ের ওপর ড্রোন হামলা হয়। বাহরিনের একটি বড়ো ডেটা সেন্টারে হামলা চালায় ইরান। হামলার পরে পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ব্যাংকিং অ্যাপগুলি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। কারিগরি ত্রুটির জন্য দুবাইয়ের শেয়ার বাজার সাময়িকভাবে বন্ধ করে রাখতে হয়। তেহরানে অবস্থিত মাইক্রোসফট অ্যাজিউটরের একটি ফ্যাসিলিটিতে হামলা চলে। পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে আন্দাজ করে সংস্থাগুলি তাদের গ্রাহকদের দ্রুত ডেটা নিরাপদস্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বলা হচ্ছে এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য বড়ো সুযোগের রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের উন্নত ডিজিটাল পরিকাঠামো ও স্থিতিশীল পরিবেশ এই মুহূর্তে বড়ো বড়ো টেক জায়ান্টগুলিকে আকর্ষণ করছে। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তিখাতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এটা পরোক্ষভাবে দেশের কর্মসংস্থান ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে জোয়ার আনবে।












Discussion about this post