বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে জামায়াত। সংসদে তারা বিরোধী দলের দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ক্ষমতার পালাবদলের পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্প কি তাঁর পদে থেকে যাবেন? না কি বিএনপি তাঁকে সরিয়ে দেবে? জামায়াত এবং জুলাই জঙ্গিদের মধ্যে যারা সংসদে প্রবেশ করেছেন, তারা রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারনের দাবি তুলেছেন। যদিও বিএনপি সেই দাবিকে আমল দিতে নারাজ। এই প্রসঙ্গে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সাম্প্রতিক অতীতে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের উল্লেখ করা যেতে পারে। সেই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর মুখে শোনা যায় তারেক এবং বিএনপির প্রশংসা। রাষ্ট্রপতি বলেন, “মূলত গণ-অভ্যুত্থানের কিছু নেতার চাপে আমাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে আসে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারও একটা সিদ্ধান্তে এসেছিল। সেটা হলো, যদি রাজনৈতিক দলগুলো চায় আমি অপসারিত হই, তাহলেই শুধু আমি অপসারিত হতে পারি; নচেত্ নয়। পরে দেখা গেল যে এই ইস্যুতে দুটি গ্রুপ হয়ে গেল। গ্রুপে গ্রুপে মিটিং হলো, আলোচনা হলো। তারা বিভিন্ন দল ও জোটের কাছে গেল। তখন এ রকম একটা অবস্থা ছিল—যেকোনো মুহূর্তে মেজরিটি হয়ে গেলেই আমি অপসারিত হয়ে যাব বা আমার মনস্তাত্ত্বিক দিক ভেঙে যাবে। তখন তারা আমাকে অনুরোধ করবে পদত্যাগের জন্য।”
সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “কিন্তু বিএনপি থেকে উচ্চপদে আসীন নেতা আমাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন যে, ‘আপনার প্রতি আমাদের সমর্থন আছে। আমরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে চাই। কোনো অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পক্ষে আমরা নই। আমি বলব যে বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা একটা গ্রুপ হয়ে যায়। আর আরেকটা গ্রুপ হয়ে যায়, তাদের আপনারা সবাই চেনেন। তবে তারা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। উদ্যোগটা ব্যর্থ হলো বিএনপি ও তাদের জোটের কারণে। একটা বৃহত্তর রাজনৈতিক দল যে স্ট্যান্ডটা নিয়েছে, সেটাকে সরকার তখন সমর্থন করতে বাধ্য হল।”
প্রশংসা করেছেন তদারকি সরকারের আমলে থাকা আমলাদেরও। তিনি বলেন, “ তবে এটুকু বলতে পারি যে কূটনৈতিক মহল থেকেও আমাকে অপসারণের বিষয়ে নেতিবাচক অবস্থান ছিল। আমি এভাবে অসাংবিধানিক ও বেআইনিভাবে অপসারিত হই সেটা তারও চায়নি। এটাও একটা বড়ো শক্তি ছিল। তবে আমি সব সময় স্বীকার করি যে বিএনপি এবং তাঁর জোট অন্যের প্ররোচনায় প্রলুব্ধ হয়নি। তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল ছিল। ”
এই সাক্ষাৎকারের সব থেকে বড়ো বিষয় রাষ্ট্রপতি জানিয়ে দেন, বিএনপি চাইলে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে থেকে যাবেন। আর বিএনপি যদি রাষ্ট্রপতি পদে অন্য কাউকে নিয়োগ করে তাহলে তিনি আপত্তি জানাবেন না। অনেকে বলছেন, রাষ্ট্রপতি এই মন্তব্য করেছেন তারেক রহমানের ইঙ্গিতে এবং নির্দেশে। তারা এও বলছেন, তারেক রহমান নির্দেশ দিলেই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। ফলে, তাঁকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার যে দাবি তোলা হচ্ছে, তারেক রহমান সরকার সেটা করবেন না। বিএনপি সরকার যে জামাতের নির্দেশে চলবে না, সেটা তারেক রহমান প্রকারান্তরে বুঝিয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমান চাইছেন জামায়াত ও বিরোধীরা এই ইস্যুতে সংসদে আন্দোলন চালিয়ে যাক। কারণ, তাদের সামনে নতুন কোনও ইস্যু নেই, যে ইস্যুকে হাতিয়ার করে তারা রাস্তায় আন্দোলনে নামতে পারবে। জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে তারেক দলের একটি প্রস্তুতি সভা ডাকেন। সেখানে তিনি তাঁর দলের সংসদীয় সদস্যদের বলেন, যার যে দায়িত্ব আছে, তার বাইরে তারা যেন কোনও মন্তব্য না করেন। সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন জামায়াতসহ বিরোধীদের আচরণের পরেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা কিন্তু সেভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।












Discussion about this post