জাতিসঙ্ঘের ৮১ তম অধিবেশনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। প্রার্থী পদের প্রচারে তিনি গিয়েছেন তুরস্ক। তুরস্ক থেকে খলিলুর রহমান যাবেন আমেরিকা। আঙ্কারা এবং নিউ ইয়র্কে দুই দেশের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক করার কথা। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, আঙ্কারায় তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। প্যালেস্তাইন ওই পদে প্রার্থী দিয়েছিল। তারা প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সেই জায়গায় বাংলাদেশ খলিলুরকে প্রার্থী করেছে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস। খলিলুর রহমানের সফরসঙ্গী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পরারাষ্ট্রমন্ত্রকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই মন্ত্রীর বৈঠকে প্রাধান্য পাবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং রোহিঙ্গা সংকটের মত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আরও একটি সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে বাংলাদেশকে সমরাস্ত্র বিক্রি করতে চায় তুরস্ক। খলিলুর রহমানের আগে তুরস্ক গিয়েছিলেন বিডার কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বিন হারুন সম্প্রতি পাঁচ দিনের তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন। এদিকে, আবার তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ওমর বোলাত।
ঢাকার সঙ্গে আঙ্কারার সামরিক সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল শেখ হাসিনার আমলে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ এরদোয়ান সরকার বের্যাকটার টিবি ২ আর সোনগার ড্রোন বাংলাদেশকে বিক্রি করতে চাইছে। গত বছর বাংলাদেশে এসেছিল তুরস্কের এক প্রতিনিধিদল। খলিলুর রহমানের তুরস্ক সফরের মধ্যে দিয়ে বৃত্তটি সম্পূর্ণ হতে চলেছে। এরদোয়ানের দেশ থেকে টিআরজি ৩০০ মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম কিনেছিল বাংলাদেশ সেনা। বাংলাদেশ নৌসেনার জন্য তুরস্ক থেকে এআরইএস ১৫০ দ্রুত গতির নৌযান ক্রয়ের একটি চুক্তি হয়েছিল। ২০২৪-য়ের ৫ অগাস্টের পর মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের সঙ্গে নৈকট্য বাড়িয়েছিল তুরস্ক। ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার পাকিস্তানের পাশাপাশি তুরস্কের সঙ্গে নৈকট্য বাড়ায়। এ বছরের গোড়ার দিকে ২৬টি তুলপার লাইট ট্যাঙ্ক কেনার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। ঢাকা বাংলাদেশ সরকারের এক পদস্থকর্তা বলেছেন, বিশ্ববাজারে এখন কামান ও গোলাবারুদের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ থেকে যুদ্ধাস্ত্র আমদানি করেছেন। এবার তারা রফতানির পথেও হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সংস্থার প্রধান হালুক গর্গুনের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করেছিল। আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে আজারবাইজান সেনাকে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে ড্রোন দিয়েছে তুরস্ক। সামরিক ড্রোনের আন্তর্জাতিক বাজারের প্রায় অর্ধেক দখলে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারে ২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুসারে, ক্রয়ক্ষমতায় বিশ্বের ৩৫ তম দেশ বাংলাদেশ সামরিক আমদানি বাডা়চ্ছে। ওমর বোলাতের সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ফার্মাসিউটক্যাল, কৃষি যন্ত্রপাতিসহ আরও নানা বিধ ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। দক্ষিণ এশিয়ায় এতোদিন তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা ছিল উল্লেখযোগ্য মাত্রায়। বিগত সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে অস্বস্তি রাখতে হয়।
ওমর বোলাতের বাংলাদেশ সফরকালে সামরিকখাতে দেশটিকে সাহায্য করার বিষয়ে তদারকি সরকারের সঙ্গে কথা হয়। গত দেড় বছরে আঙ্কারা থেকে মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম কেনার বিষয়ে জোর দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। মধ্যপাল্লার জন্য হিসারো প্লাস ও দূরপাল্লার জন্য সাইপার সরবরাহ নিয়ে কথা হয়। বাংলাদেশে রেডার কম্যান্ড ও কন্ট্রোল ইফ্রাস্টাকচারের পাশাপাশি সেনাদের প্রশিক্ষণ নিয়েও তদারকি সরকারের সঙ্গে কথা হয়। তুরস্কের মধ্য পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত হিসার প্লাস। এটি যৌথভাবে তৈরি করেছে তুরস্কের দুটি প্রতিষ্ঠান আসেলান ও রকেটসান। এতে ব্যবহার করা হয়েছে রেডার হোমিং ও ইমেজ ইনফ্রারেড গাইডেন্স।












Discussion about this post