৭ মার্চ। দিনটি বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন। আবার এই ৭ মার্চ তারেক রহমানকে সেনাবাহিনী গ্রেফতার করে। ২০০৭ সালের এই দিনে তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাধায়ক সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে। টানা ১৮ মাস তারেক কারাগারে বন্দী ছিলেন। গ্রেফতারের পর জিয়াপুত্রকে একাধিক মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। ২০০৭ সালের বিভীষিকাময় রাতে কোনও ওয়ারেন্ট, মামলা, জিডি এমনকী সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ ছাড়াই বিতর্কিত সেনা কারাগারে জরুরী বিধিমালায় গ্রেফতার করা হয়। পরের বছর ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ (আগের না পিজি) হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামিনে মুক্তি পান তারেক রহমান। মুক্তির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে চলে যান। বাতাসে ভাষা খবর অনুযায়ী, তৎকালীন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্মম অত্যচারের শিকার হয়েছিলেন তারেক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনে ভেঙে যায় তারেকের মেরুদণ্ড।যার ফলে তার মেরুদণ্ডের ৭ ও ৮ নম্বর হাড় ভেঙে যায় এবং শারীরিক-মানসিকভাবে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হন। মা বেগম জিয়া বাহিনীকে এই মর্মে মুচলেকা দিয়েছিলেন যে তাঁর ছেলে কোনওদিন দেশে ফিরবে না এবং জাতীয় রাজনীতিতে যোগ দেবে না। এই শর্তেই প্রায় ১৮ মাস সেনা কারাগারে থাকার পর তারেক মুক্তি পান। আওয়ামী লীগ সরকারও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে। মধ্যবর্তী সময়ে পদ্মা দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গিয়েছে। তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন। বিএনপির দাবি, তাদের নেতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
পদ্মায় পালাবদল হলেও না তারেক রহমান সেই বিভীষিকাময় রাতের কথা ভুলতে পেরেছেন। না ভুলতে পেরেছেন সেনার জিম্মায় থাকা অবস্থায় সেই সব নির্মম অত্যাচারের কাহিনী। বিএনপি দিনটিকে তারেক রহমানের কারাবন্দি দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু তারেক রহমানকে সেনাবাহিনীর কারা তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তার ওপর কারা অত্যাচার চালালো, সে বিষয়ে তারেক রহমানকে একটি শব্দ খরচ করতে দেখা যায়নি। এমনকী বিএনপির তরফ থেকেও এই নিয়ে একটি শব্দ খরচ করা হয়নি।
২০০৭ সালে বাংলাদেশের একটি দৈনিকের প্রথম পাতায় একটি খবর প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রকাশিত খবরের শিরোনাম ছিল তারেক, বাবর, হারিছ ও মামুন বিএনপির মহাদুর্নীতিবাজ বলে জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার এক রাজনৈতিক সচিব এবং ঢাকা ১০ আসনের দলের সাবেক সাংসদ মোসাদ্দেক আলী ফালু। তিনি বলেন, ফালু আরও জানান, ওরিয়ন গ্রুপের কাছ থেকেও তিনি মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। নিজের পত্রিকা ও টেলিভিশন চালানোর কথা বলে এসব টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু সেসব খাতে এত টাকা খরচ করেননি। ওরিয়ন গ্রুপের কাছ থেকে নেওয়া টাকার পরিমাণ কত, তা নিশ্চিত করে বলেননি তিনি। এ টাকার পরিমাণ ৫০ কোটি কি না−প্রশ্ন করা হলে ফালু পরিমাণ স্বীকার করেননি বলে জানা যায়।
বিএনপি এখন ঐতিহাসিক ৭ মার্চকে কারাদিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপি নেতারা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়েও তারেক রহমান দলের নেতৃত্ব ধরে রেখেছেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছে। প্রশ্ন ওঠে, তারেক রহমান কি কোনও দুর্নীতির সঙ্গেই জড়িত ছিলেন না? তাঁর বিরুদ্ধে যত দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে যত মামলা দায়ের হয়েছে, সবই কি সাজানো। আর তিনি তো এখন প্রধানমন্ত্রী। তাহলে সেনাবাহিনীর যে সব কর্মকর্তারা তাঁর ওপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তিনি কেন মুখ খুলছে না? তিনি কি আশঙ্কা করছেন, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মুখ খুললে তাঁকেও হাসিনার মতন ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে?












Discussion about this post