মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে কেউ মনে করছে না। আমেরিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লডা়ই চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন কিন্তু আন্তর্জাতিকমহলে ঘুরপাক খাচ্ছিল। ইরান কি একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে? তার পাশে কি কোনও দেশ নেই? সময় যত গড়িয়েছে, যুদ্ধের খাদ যত গভীর হয়েছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে তেহরানের পাশে কারা রয়েছে। যে সব দেশ আমেরিকার দাদাগিরি কোনওমতেই মেনে নিতে পারেনি কোনওকালেই এই যুদ্ধে তারা এখন ইরানের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগাচি এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেটা জানিয়েও দিয়েছেন।
এনবিসির তরফ থেকে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল Let me ask you because NBC news is reporting that Iran is receiving help from Russia to help locate US forces or you receiving any help from Russia?
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগাচি জানান, “We have strategic partnership with Russia?”
প্রশ্নকর্তা তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “So that is yes? ”
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগাচি জানান “ Well, military cooperation is not something new. It’s not a secret. In the past, Still there. And will continue in future. ”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয় রাশিয়া কি ইরানকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু খুঁজে পেতে সাহায্য করছে? এই প্রশ্নের উত্তরে পরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁর কাছে এই বিষয়ে বিস্তারিত সামরিক তথ্য নেই। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অতি শক্তিশালী।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে পরে ওয়াশিংটন পোষ্ট একটি খবর প্রকাশ করে। গোয়েন্দাসূত্র উদ্ধৃত করে পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেই সব ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি ইরানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ইরান সেই সব ছবির ভিত্তিতে মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা সফল হয়েছে। একই প্রশ্ন করা হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও। ট্রাম্প বলেন, এই বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও তথ্য নেই।
ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে
গত শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েল বাহিনী ইরানের ওপর সাঁড়াশি অভিযান চালায়। তেহরানের একাধিক পরিকাঠামো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। .তারপরেও তার পরেও ইরান কিন্তু পিছু হটেনি। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে নিখুঁত ভাবে নিশানা করছে তারা। একাধিক ঘাঁটি ইরানি আঘাতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ছ’জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এসেছে। আহত আরও অনেকে। রিপোর্টে দাবি, মস্কোর সাহায্য ছাড়া এটা সম্ভব নয়। রুশ সামরিক বিশষজ্ঞ দারা ম্যাসিকট একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘‘ইরান খুব নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে। খুব পরিকল্পিত ভাবে তারা কাজ করছে। ওদের মিলিটারি-গ্রেড স্যাটেলাইটের সংখ্যা হাতেগোনা। নিজস্ব কোনও স্যাটেলাইট কনস্টেলেশনও নেই। মনে হচ্ছে, রাশিয়ার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এখানে কাজে লাগছে।’’
পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাশিয়া বা চিন সরাসরি যোগ দেওয়ার কথা বলেনি। তবে তেহরানের ওপর মার্কিন ও ইজরায়েলের হামলার কডা নিন্দা করেছে। এও জানিয়েছে, তেহরান যে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে, তার কোনও প্রমাণ নেই। তবে বেজিং দাবি করেছে, অবিলম্বে এই সংঘাত থামিয়ে দুই পক্ষ যেন আলোচনার টেবিলে বসে। তারা আমেরিকার হামলাকে নির্লজ্জ আগ্রাসন বলে উল্লেখ করেছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা খামেইনির। ইরান মাথা নত করার কোনও ইঙ্গিত এখনও দেয়নি। বরং পাল্টা প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে তেহরানের পক্ষ থেকে। শুক্রবার ক্রেমলিন জানিয়েছে, ইরানের নেতাদের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।












Discussion about this post