বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হবার পর এখন সে দেশের সেনাপ্রধান কি এই সরকার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন? নাকি তিনি এই সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রধান পদগুলিতে পরিবর্তন আনতে চাইছেন? বর্তমান বাংলাদেশের যেভাবে সংঘর্ষ খুন হানাহানি ধর্ষণ বেড়েই চলেছে সেই আবহে এই ধরনের প্রশ্ন ওঠাটা খুবই স্বাভাবিক।
এবার এই প্রসঙ্গে ভারতীয় গণমাধ্যম বেশ কিছু দাবি করেছে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান, জেনারেল ওয়াকের-উজ-জামান সম্প্রতি একজন শীর্ষস্থানীয় সম্পাদককে বলেছেন যে তিনি নোবেল বিজয়ী মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবনতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতায় হতাশ। ইউনূস প্রশাসন আসলেই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে পারবে কিনা সে বিষয়ে তিনি “গুরুতর সন্দেহ” পোষণ করেছেন।
জেনারেল ওয়াকার একজন রক্ষণশীল, নিরাপদ সামরিক নেতা যিনি গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে সামরিক আইন জারি করে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নিতে সেনাবাহিনীর ভিতরে ও বাইরে থেকে প্ররোচনাকে প্রতিরোধ করেছিলেন।
তিনি ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বলেছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই এই কথা প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশে সামরিক শাসন কখনও জনপ্রিয় ছিল না এবং জিয়া-উর রহমান এবং এইচএম এরশাদের মতো জেনারেলরা জনরোষের শিকার হন। এমনকি সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়। সুতরাং, জেনারেল ওয়াকার, মনে রাখবেন যে সরাসরি সামরিক শাসন সারা বিশ্বে অপরিচিত, ও সেনাবাহিনীকে সরাসরি দায়িত্ব নেওয়া থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
তার ঘনিষ্ঠ মহলের মতামতের ভিত্তিতে সেনাপ্রধান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং তারপর একটি নির্বাচিত সরকারকে দায়িত্ব দিতে আগ্রহী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা যতদিন থাকবে এবং আইন-শৃঙ্খলা তথা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হবে, এবং সেনাবাহিনীই দায়ী হবে।
হাসিনার প্রসঙ্গে তিনি জানান, সম্প্রতি আদালতের আদেশ তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনের বিধান ফিরিয়ে এনেছে যা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর হাসিনা সরকার বাতিল করে দিয়েছিল।
প্রধান রাজনৈতিক দল এবং প্রধান সুশীল সমাজ গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব সহ একটি তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসন জেনারেল ওয়াকারকে আগাম নির্বাচনের জন্য একটি রোডম্যাপ দিতেও বাধ্য করতে পারে।
তবে অনেকেরই অনুমান জেনারেল ওয়াকার শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে এবং তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বসানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্চেন না। যেহেতু রাষ্ট্রপতি রেকর্ডে রয়েছে যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসিনার সাম্প্রতিক ভাষণে এই ধরনের জল্পনা আরও জোড়ালো হয়েছে যে “আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন যাতে আমি ফিরে আসি এবং আমার লোকজন ও পুলিশ সদস্যদের হত্যার জন্য দায়ী সকলকে আইনের আওতায় আনতে পারি”। আর তিনি এই কথা বলেছেন নয়াদিল্লি থেকে। যেখানে তিনি আগস্ট থেকে নির্বাসিত। সেখানে হাসিনা শীঘ্রই বাংলাদেশে ফিরে আসবেন এই বক্তব্য এই জল্পনাকে আরও জোড়ালো করেছে।
ইউনূস সরকার বিচারের জন্য হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি করছে। তবে সেনাপ্রধান তাকে ফিরিয়ে এনে নতুন সংকটের সূচনা করবেন কিনা সন্দেহ। তবে সেনাপ্রধান ঢাকায় বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এবং জাতীয় নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি করতে সরকারের শীর্ষে পরিবর্তনের কথা ভাবছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।












Discussion about this post