চুপিসারে কলকাতায় এলেন অজিত ডোভাল। জঙ্গি অনুপ্রবেশ ও সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে শীর্ষ গোয়েন্দা কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতেই এসেছিলেন তিনি। দুদিনের সিক্রেট মিশন ও বৈঠক করে তাজ বেঙ্গল থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে উড়ে গেলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
অজিত ডোভাল কলকাতায় বিএসএফ, এন আই এ, সেন্ট্রাল আই বি সহ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক কর্তাদের সঙ্গে দু’দিনের বৈঠকের পর শুক্রবার সকালে দিল্লির উদ্দেশ্যে কলকাতা থেকে বিমানে রওনা দেন বলে সূত্রের খবর। মাও নেতা দেবজিৎ কাটা কম সুন্দরম কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাওবাদীদের একাধিক শীর্ষ নেতারা আশ্রয় নিয়েছে। এরপর খুব শীঘ্রই দেশের ২৮ টি বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাদের নিয়ে বৈঠক হতে চলেছে। যে বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সহ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থারদের মধ্যে দেশবিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ে পুংখ্যানুপুংখ্য আলোচনা হবে।
কিন্তু তার আগে কলকাতায় এসে টানা ৪৮ ঘন্টা একটি হোটেলে গোপনে বৈঠক করে গেলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। ম্যারাথন বৈঠক করার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে যে খবর উঠে এসেছে, তার কাছে নির্দিষ্ট তথ্য এসে পৌঁছেছে যে পাকিস্তানের চারজন গুপ্তচর পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছেন। সেই তথ্যগুলির পাশাপাশি মাওবাদীদের শীর্ষ নেতা দেবজিৎকে যে কোনো মূল্যে কিভাবে গ্রেফতার করা যায় ও সম্প্রতি ছত্রিশগড়ে যে ৩১ জন মাওবাদী নেতা খতম হয়েছেন তার যে শীর্ষ নেতা সে কলকাতায় দিনের পর দিন কিভাবে আত্মগোপন করেছিল এইসব নিয়েই বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লা বাংলা, জামাতুল মুজাহিদ্দিন বাংলাদেশ ও আল কায়েদা তার বেশ কিছু শীর্ষ নেতা পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে। এই তিন জঙ্গি গোষ্ঠী প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে অজিত ডোভালের কাছে।
প্রসঙ্গত, বিগত দিনে বাংলাদেশের সঙ্গে কিছুটা ‘দূরত্ব’ তৈরি হয়েছে ভারতের। শেখ হাসিনা পরবর্তী সময়ে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার সেখানকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এদিকে বাংলাদেশ সরকারেরও অনেক মন্ত্রী উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছে দিল্লির বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতির জন্যে ঘুরিয়ে দিল্লিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রবণতা দেখা গিয়েছে ঢাকার নেতার মধ্যে। যদিও এর মধ্যেই কূটনৈতিক স্তরে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টাও চলছে।
এরই মাঝে সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চিন মধ্যস্থতা করতে চায় কি না, তিনি এই নিয়ে সরাসরি বলেন , আমি মনে করি, নিজেদের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশিরা যথেষ্ট বিচক্ষণ।’ এই আবহে বেজিং স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্পর্কের মধ্যে তারা নাক গলাতে ইচ্ছুক নয়। সম্প্রতি মার্কিন সফরে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা করে এসেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে তুলে ধরেছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।












Discussion about this post