সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা ও জামিন বাণিজ্য, বিচারক পদায়ন, অর্থপাচার, অন্যান্য দুর্নীতিসহ এক ডজনের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে দুদক এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সাবেক এই উপদেষ্টা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে দুদক এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সাবেক এই উপদেষ্টা। আসিফ লিখেছেন, আমি সরকারে থাকা অবস্থায় কখনও কোনও দুর্নীতি করিনি। বিভিন্ন জায়গায় আমার ফ্ল্যাট থাকার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সব অভিযোগ মিথ্যে। আসিফ আরও লিখেছেন, “আমি কোনও স্বজন প্রীতি করিনি। সরকারে থাকা অবস্থায় আত্মীয় স্বজনকে বিন্দুমাত্র সুযোগ-সুবিধা দিইনি। ” ফেসবুক পেজে আসিফ লিখেছেন, “আসিফ নজরুল আমেরিকায় বাড়ি কিনেছেন। বউ-বাচ্চা আমেরিকায় চলে গিয়েছে। সেও শীঘ্রই আমেরিকায় ভেগে যাবে – এরকম একটা গুজব বছরখানেক আগে ইউটিউবে ছাড়া হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষ এটি দেখেন এবং কিছু লোক তা বিশ্বাস করতে শুরু করে। এর কিছুদিন পর খালেদ মুহিউদ্দিন-এর একটি অনুষ্ঠানে প্রসঙ্গটি ওঠে। আমি হাসব না কাঁদব বুঝতে পারিনি। শুধু বলি আমেরিকায় বাড়ি কিনলে রেকর্ড থাকে, কেউ তা লুকোতে পারে না। খালেদের অনুষ্ঠানে আমি সকল ইউটিউবার, সাংবাদিক ও গোয়েন্দাদের চ্যালেঞ্জ করি – আমেরিকায় আমার বাড়ি থাকলে তার প্রমাণ খুঁজে বের করার জন্য। (আমি এই অনুরোধও করি, এই সংবাদের সত্যতা বের করতে না পারলে যে মিথ্যেবাদীরা এটি ছড়িয়েছে, তাদের কোনও কথা যেন কেউ বিশ্বাস না করে। এই চ্যালেঞ্জ জানানোর পর প্রায় আট মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু আমেরিকায় আমার বাড়ি আছে, এমন কোনও ঠিকানা, দলিল, সাক্ষ্যপ্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। পারার কথাও নয়। কারণ আমেরিকা কেন, বাংলাদেশের বাইরে বিশ্বের কোনও দেশেই আমার বাড়ি নেই। ”
আসিফের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে? সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের এক ডজনের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে দুদকে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—মামলা বাণিজ্য, জামিন বাণিজ্য, বিচারক পদায়ন এবং অন্যান্য দুর্নীতি। অভিযোগে বলা হয়, আসিফ নজরুল জামিন বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এর মধ্যে রয়েছে একটি শিল্প গ্রুপের সিইও জালিয়াতির মাধ্যমে ভাই ও বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন। ছোট বোন তার বিরুদ্ধে মামলা করে পিবিআই মামলা তদন্ত করে জালিয়াতির প্রমাণ পেয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করে। কিন্তু আসিফ নজরুল ২০ কোটি টাকার বিনিময়ে ভিআইপি আসামিকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেন।গান বাংলা টেলিভিশনের তাপসের জামিনেও বিপুল অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে আসিফ নজরুল ক্ষমতার ১৮ মাসে টাকার বিনিময়ে বহু জামিন বাণিজ্য করেন আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে পদায়নে দুর্নীতির অভিযোগও আনা হয়েছে। ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিচারক বদলিতে আসিফ নজরুল ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত নিতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে সাব রেজিস্ট্রার বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে। আবার তাঁর বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগও জমা পড়েছে দুদকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ রয়েছে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে। এক ডজনের বেশি দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে দুদকে জমা পড়েছে।












Discussion about this post