সময়ের আগেই পদ্মাপারে জানান দিচ্ছেন ঋতুরাজ। হাওয়া আজ সেখানে রঙিন। তারেকের সিংহাসনে আসীন হওয়ার পর থেকেই পদ্মাপারে বইতে শুরু করে এক বদলের হাওয়া। যে রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে নির্বাচন হয়েছিল, সেই আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা একের পর এক পার্টি অফিস খোলা হচ্ছে। কোনও জায়গায় খোলার পর হামলা হলে দ্রুত সেখানে পৌঁছে যাচ্ছে পুলিশ। দুষ্কৃতীদের তারা গ্রেফতার করছে। নেওয়া হচ্ছে আইনানুগ পদক্ষেপ। নওগাঁ, খুলন সহ বিভিন্ন জায়গায় বন্ধ থাকা দলীয় কার্যলয় খুলে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। গণমাধ্যম বলছে, বাংলাদেশের নয়টি জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে দেওয়া হয়েছে। এটা একটা বড়ো খবর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলা হয়েছে, নওগাঁ নিয়ে এখনও পর্যন্ত মোটি ১০টি জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগের রাজনীতিক কি উন্মুক্ত হচ্ছে। আবার অনেকে প্রশ্ন করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দিয়ে যাওয়া ওই দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনও কি বহাল রয়েছে? না কি স সেগুলি বাতিল হয়ে গিয়েছে?
নয়টি জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার খবর দিচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম একটি জনপ্রিয় পত্রিকা সমকাল। যে সব জায়গায় দলের কার্যালয় খোলা হয়েছে, সেই সব জায়গাগুলি হল – নোয়াখালি, বরগুনা, কু়ড়িগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, শরিয়ৎপুর, হবিবগঞ্জ, রাজবাড়ি, দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়। দরজায় দেওয়া তালা ভেঙে নেতাকর্মীরা প্রবেশ করেন। কর্মীরা দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। মুজিবের প্রতিকৃতিতে দেন মালা। শেখ হাসিনার ছবি টাঙানোর ঘটনাও ঘটেছে। সোমবার চার জেলা রবিবার ছয় জেলায় নেতা কর্মীদের উপস্থিতি থেকেই সেটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ২০২৪-য়ের হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা একের পর এক কার্যালয় খোলা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ৮০টির বেশি কার্যালয় খোলার ঘটনা ঘটেছে। নোয়াখালি জেলার প্রধান ফটকের কাছে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা ভেঙে কর্মীরা প্রবেশ করেন। ঘর পরিষ্কার করেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে তারা মালা পরান। ছিলেন ছাত্র লিগ ও যুব লিগের কর্মীরা। বরগুনা জেলায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতীতে মালা দেন দলের কর্মীরা। বুধবার শের- এ – বাংলায় বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয় খোলেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা। বরগুনা সদর থানার ওসি আবদুল আলিম বলেন, জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। অর্থাৎ, কারা আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলছে বা খোলার চেষ্টা করছে, তাদের দিকে তারা নজর রাখছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরদিই পঞ্চগড় সদরে চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে ঢুকে পড়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা। তারা সেখানে স্লোগান দেন। সেখানে সেই সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ খান। তবে পরে ওই অফিসে তালা মারা হয়।
এই প্রসঙ্গে আবু দাউদ বলেন, ওটা আওয়ামী লীগের অফিস ছিল না। স্থানীয় বণিক সমিতির অফিস। কিন্তু স্থানীয় জামায়াত নেতারা অফিসটি দখল করে ভাড়া দেয়। নির্বাচনের পর দিন তাঁকে জানালে তিনি ওই বাড়ি দখলমুক্ত করেন। পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা হয় ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে। অফিস খোলার পর সেখানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ একটি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। একই দিনে খুলনা মহানগরীর শঙ্খ মার্কেটে আওয়ামী লীগের অফিসও খোলা হয়েছে। এ নিয়ে আবার শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। খুলনা জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক মাহমুদুল হাসান ফয়জুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘‘বিএনপির ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগ ফিরে আসতে চাইছে৷ তারা নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে কাজে লাগিয়েছে৷ এখন তারা তার প্রতিদান নিচ্ছে৷ তবে তারা সফল হবে না৷ তাদের প্রতিরোধ করা হবে৷”












Discussion about this post