বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি মুছে ফেলার মরিয়া চেষ্টা চলছে। প্রথমে ২০২৪ এর ৪ঠা আগস্ট বঙ্গবন্ধু মূর্তি ভাঙচুর! মূর্তির ওপরে উঠে ছাত্র নেতাদের উল্লাস দেখেছিল গোটা বিশ্ববাসী। সেদিনও ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তারপরে শুধুমাত্র গোটা বাড়িটির কঙ্কালসার চেহারাটি পড়েছিল। পার পেল না সেটিও। একই ঘটনা ঘটল ২০২৫ এর ৫ই ফেব্রুয়ারি রাতে। বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হল।
৫ই অগাষ্ট রাতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখার কথা ছিল। আর আগাম সেই খবর আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সম্প্রচার করা হয়। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণকে প্রভাবিত করতে পারে হাসিনার বক্তব্য, এমন আশঙ্কা থেকেই তারা প্রথমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে অভিযান চালানোর কথা প্রকাশ করে। পরে দেখা যায়, বুলডোজার নিয়ে অভিযান করতে থাকেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতারা। চলে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় গোটা বাড়ি। ওঠে মুজিব বিরোধী স্লোগান। বলা হয়, স্বৈরাচারীর কোনও জায়গা হবে না। লাল কালি দিয়ে লিখে ফেলা হয়, স্বৈরাচারী সাবধান।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে। রাতে এমন বিশৃংখল ঘটনা ঘটলো, অথচ পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে কোনওরমকম পদক্ষেপ করা হলো না। বরং বাংলাদেশের অন্তবর্তি সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে যুক্তি দেখানো হচ্ছে। হাসিনা নাকি ছাত্র আন্দোলনের ভাবাবেগ নিয়ে কুমন্তব্য করেছেন। যার ফলস্বরূপ এই ঘটনা।
তবে এবার মুখ খুলল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ল বলেন, এই ধরনের ঘটনা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বাঙালির স্বাধীনতা এবং ভাবাবেগকে যারা লালন করে, তাদের জন্যই বাড়িটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু এই ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এই ঘটনা একেবারেই স্পষ্ট, শেখ মুজিবুর রহমানের এই বাড়িটিকে এবং হাসিনাকে ভয় পাচ্ছেন ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। যদি কোনোভাবে শেখ হাসিনা আবারও বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন, তাহলে তাদের অস্তিত্ব সংকটে চলে যাবে। সেই আশঙ্কা থেকেই এই ঘটনা।












Discussion about this post