“Dictators free themselves but they enslave the people! Now let us fight to fulfil that promise! Let us fight to free the world – to do away with national barriers – to do away with greed, with hate and intolerance. Let us fight for a world of reason, a world where science and progress will lead to all men’s happiness. Soldiers! in the name of democracy, let us all unite! ”
এটি চার্লি চ্যাপলিন অভিনীত “দ্য গ্রেট ডিক্টেটর” ছবির সংলাপ। চ্যাপলিন তাঁর ভাষণ এভাবেই শেষ করেছিলেন। ভাষণ শেষে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন। ছবির এই শেষ সংলাপ উল্লেখ করার কারণ, বাংলাদেশের সেনা প্রধান ওয়াকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনেকটাই Do or Die Situation. বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহল, উত্তরপাড়ায় শোনা যাচ্ছে সেনাপ্রধান স্বেচ্ছায় না সরলে তাঁকে সরিয়ে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এমনকী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই নিয়ে নানা খবর ভেসে বেডা়চ্ছে। কিন্তু হঠাৎ করে সেনাপ্রধানের “অকাল বোধন” নিয়ে চর্চা শুরু হয়ে গেল? এর একমাত্র কারণ কি জাতীয় রাজনীতির পট পরিবর্তন? না কি ভিতরে কোনও এক খেলা চলছে? বিএনপি কেন জামাত ঘরানার সামরিক সেনা কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি বাড়াতে চাইছেন? বাহিনীর ওপর এর কতটা প্রভাব পড়বে। ভিতরে কি তবে বড়ো ধরনের রদবদল আসন্ন?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সব চেয়ে স্পর্শকাতর আলোচনা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন সেনানেতৃত্ব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা সংলাপ। রাজনৈতিকমহলে একটি জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে বর্তমান সেনাপ্রধানকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। কেউ বলছেন এটি স্রেফ গুঞ্জন। আবার কেউ বলছেন পর্দার আড়ালে প্রস্তুতি চূড়ান্ত। সেনাপ্রধান ওয়াকার আওয়ামী লীগ শাসনামলে নিয়োগপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি। ২৪-য়ের জুনে তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। আর ওই বছর অগাস্টে হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। সরকার পতনের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে শুরু করে যে তিনি আসলে জামাতপন্থী। আওয়ামী লীগ এবং জামায়াত ক্ষমতায় নেই। তবে জামায়াত এবারের নির্বাচনে প্রধান বিরোধীদল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিএনপি এখন ক্ষমতায়। প্রশ্ন হচ্ছে এখন সেনাপ্রধানের কী হবে? কারণ, বাংলাদেশে ক্ষমতায় যে দলটি থাকে তার একটা সুক্ষ্ম প্রভাব থাকে সব ক্ষেত্রেই। সে দেশের রাজনৈতিকমহলের মত তেমনই। গুঞ্জনের সূত্রপাত কোথায়?
সাধারণত কোনও সেনাপ্রধানকে তাঁর পদ থেকে বরখাস্ত করার পিছনের কারণ থাকে তাঁর পেশাগত ত্রুটি। কিন্তু এখানে রাজনীতির একটি বড়ো যোগসূত্র খোঁজা হচ্ছে। বর্তমান সেনাপ্রধানের সঙ্গে জামায়াতের মতাদর্শের একটি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এটা শুনতে কিছুটা অদ্ভূত মনে হতে পারে। কারণ, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি এবং জামাত একসময় ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকলেও এখন তারা কিন্তু একে অপরের রাজনৈতিক শত্রু। তাদের মধ্যে একটি দৃশ্যমান দূরত্ব তৈরি হয়েছে। জামাত এখন বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের তৈরি করেছে। ফলে, বিএনপি সরকার যদি মনে করে সামরিক এবং বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চপদে জামাত ঘরানার কেউ আছেন, তাহলে তাদের ওপর যে কোনও ধরনের শাস্তির খাঁড়া নেমে আসতে পারে। তাদের ওপর নজরদারি চালিয়ে যাওয়া বা তাঁদেরকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াটা কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা হবে না। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সেনাপ্রধানের পদটি শুধুমাত্র একটি চাকরি নয়, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। যদি হঠাৎ করে এই পদে পরিবর্তন আনা হয়, সে ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়ে chain of command –য়ে। বিএনপি সরকারের চ্যালেঞ্জ হল সেনাবাহিনীর ভিতর থেকে পূর্ববর্তী সরকারের প্রভাব বা রেশ মুছে ফেলা। বিএনপি চাইবে সেনাপ্রধান পদে এমন একজনকে আনবে, যিনি বিএনপি পন্থী হবেন। এই পরিবর্তন রাজনৈতিক কারণে হলে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের জন্য কতটুকু ইতিবাচক হবে, তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।












Discussion about this post