কোন পথে যাচ্ছে বাংলাদেশ?মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনকালের এক বছর পর এসে এই প্রশ্নই বারবার উঠে আসছে। গোটা বিশ্বই কার্যত অবার হয়ে দেখছে, শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পাওয়া মুহান্মদ ইউনূসের সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতার কাণ্ডারি মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ত্রাসবাদী তকমা দিয়ে জেলে পাঠাচ্ছে। আর খোলা আকাশের নীচে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে মব সৃষ্টিকারী, স্বাধীনতাবিরোধী মানুষজন। শুধুমাত্র বর্তমান বাংলাদেশের করুণ অবস্থা তুলে ধরা এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে তৈরি হয়েছিস মঞ্চ-৭১ নামে এক সংগঠন। অথচ মুক্তিযোদ্ধা এবং বিশিষ্টজনদের সেই অরাজনৈতিক সংগঠনের সভাতেই হামলা চালাল বহুকথিত ‘মব’। তাও আবার সাংবাদিকদের জন্য নির্দিষ্ট এক হলে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী খবর পেয়ে সেখানে যায়, এবং হিংস্র মবের হাতে আক্রান্ত প্রবীন মুক্তিযোদ্ধা, অধ্যাপক, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু পরে আক্রান্তদের মধ্যে ১৬ জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করল মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন। কারণ, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে মুক্তিযুদ্ধ ও সরকারবিরোধী কোনও কথা বলাটাই নাকি সন্ত্রাসবাদ। এটা করলেই তাঁরা হয়ে যান ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দোসর এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনার দালাল। অর্থাৎ, ইউনূস ও তাঁর দোসরদের বিরুদ্ধে মুখ খোলা যাবে না। খুললেই জেল যাত্রা। যেমনটা হল প্রবীন মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী, অথবা বিশিষ্ট সাংবাদিক ম্জুরুল আলম পান্নাদের। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরাতে প্রথম থেকেই অন্তর্ভূক্তিমূলক, সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচনের দাবি করে আসছে ভারত। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার কোনও ভাবেই আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রণ করতে দিতে নারাজ। তবে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে যে জায়গায় দাঁড় করিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশ কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে।
এর সর্বশেষ নিদর্শন হল ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত চারটি স্থলবন্দর বন্ধ করে দিতে বাধ্য হল ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যদিও এটাকে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞমহলের একাংশ অন্যভাবেও দেখছেন। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের উপদেষ্টা পরিষদের ৪০তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চিলাহাটি স্থলবন্দর, দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দর, তেগামুখ স্থলবন্দর বন্ধ করা-সহ বাল্লা স্থলবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ওই বন্দরগুলি অকার্যকর এবং অলাভজনক। সরকারের খরচ বাঁচাতে এই সিদ্ধান্ত।
এই চারটি স্থলবন্দরের মধ্যে দুটি পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া। চিলাহাটি বন্দরটি কোচবিহারের হলদিবাড়ি লাগোয়া এবং দৌলতগঞ্জ নদিয়ার মাজদিয়া লাগোয়া। অপরদিকে তেগামুখ স্থলবন্দর মিজোরাম সীমান্তে এবং ত্রিপুরার কাছে রয়েছে বাল্লা বন্দর। শেখ হাসিনার আমলে এই বন্দরগুলিতে রমরমিয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক আদানপ্রদান হতো। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের সঙ্গে দুরত্ব সৃষ্টি করে বাংলাদেশ। বিগত এক বছরে নানাভাবে ভারতকে অপদস্থ করা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় ভারতও বহু স্থলবন্দর বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই সঙ্গে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। সেই থেকেই এই স্থলবন্দরগুলি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। তাই এই বন্দরগুলির কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল ইউনূসের সরকার।
যদিও কূটনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, এই চারটি স্থলবন্দরের কাজকর্ম বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে ইউনূসের প্রশাসন ভারতকে কড়া বার্তা দিতে চাইল। ভারতে রফতানির পাশাপাশি নেপাল বা ভুটানে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এই স্থলবন্দর ব্যবহার করে থাকে। চলতি বছরের মে মাসে ভারত সরকার স্থলপথে বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও ছাড় দিয়েছিল নেপাল ও ভূটানের জন্য। তাহলে কেন বন্ধ করতে হল এই স্থলবন্দরগুলি। আসলে ইউনূস দেশের জনগণকে ভাঁওতা দিয়েছিলেন যে নেপাল ও ভূটানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ছে। তাহলে চিলাহাটি বা দৌলতগঞ্জ বন্দর কেন বন্ধ করতে হল? ওয়াকিবহাল মহল দাবি করছে, বিগত এক বছরে বাংলাদেশে মবের রাজত্ব যতটা বাড়বাড়ন্ত হয়েছে, ততটাই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে বাংলাদেশের বাণিজ্য। অর্থাৎ বাংলাদেশ শেষ। কারণ যে দেশে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সন্ত্রাসবাদী বলে জেলে ঢোকানো হচ্ছে, মৌলবাদী-সন্ত্রাসীরা বাইরে ঘুরে বেরাচ্ছে। সেই দেশের ভবিষ্যত অন্ধকার হবে, সেটা বলাই বাহুল্য।












Discussion about this post