বাংলাদেশে রাজনীতির আঙিনায় ভূমিকম্প। কম্পন এতটাই শক্তিশালী যে রিখটার স্কেলে তার তীব্রতা ধরা পড়ছে না। এতোদিন যা নিয়ে জল্পনা চলছিল, এখন আর সেটা জল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই ভূমিকম্প শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুকন্যা দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক করেন। বৈঠক হয়েছে ভার্চুয়াল। ওই বৈঠকে দলের বেশ কয়েকজন প্রথম সারির নেতা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি দেশে ফেরার জন্য প্রস্তুত। তারা যেন মাঠ পর্যায়ে যাবতী প্রস্তুতি সেরে রাখে। খুব স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই নিয়ে রীতিমতো সোরগোল পড়ে গিয়েছে। মহম্মদ ইউনূসের আমলে বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। নির্বাচন হয়েছে এক তরফা। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক তরফা মামলা চালিয়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। নির্বাচনের পর ইউনূস জমানার অবসান ঘটেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের দেওয়া রায় কি তারেক সরকার কার্যকর করবে ? পালাবদলের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপরে থাকা নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হচ্ছে? কীসের ভিত্তিতে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলছেন। তবে কি তিনি নতুন কোনও কৌশল নিতে চাইছেন? হাসিনার পরিকল্পনাই বা কী? শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে কি নতুন করে বাংলাদেশ অশান্ত হতে পারে?
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের জেরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তখন থেকেই তিনি ভারতে রয়েছেন। ইউনূসের আমলে হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে একাধিকবার দিল্লিকে তদবির করা হয়। কিন্তু ঢাকার সেই প্রস্তাবের জবাবে দিল্লি শুধু বলেছিল, প্রস্তাব চিন্তাভাবনা করছে। বাংলাদেশে পালাবদলের পর যে প্রশ্নটি নিয়ে এখন সব থেকে বেশি আলোচনা হচ্ছে তা হল আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিকবার দাবি করেছেন যে তিনি কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষপাতি নন। তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পক্ষপাতি নন। হাসিনার আমলে এই বিএনপিকে দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তারেক রহমান সেই পথে হাঁটবেন কি না, সেই প্রশ্ন এখন ঘোরাঘুরি করছে। যে ভারত বিরোধী শক্তি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল, তাঁর নেপথ্যে জামাতের একটা বড়ো ভূমিকা ছিল। বাংলাদেশে জামায়াত বহু এলাকায় নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে। তারা এখন জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তারেকের অবস্থানের ওপর ভারতের সঙ্গে তাঁর সরকারের সম্পর্ক অনেকাংশে নির্ভর করছে। জুলাই গণহত্যা মামলায় বাংলাদেশের আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁকে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড।
এবার স্বয়ং শেখ হাসিনা নিজেই বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার কথা জানিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা। জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে বাংলাদেশবাসীর উদ্দেশ্য এক ভার্চুয়াল বার্তায় সেটি বোঝানোর চেষ্টা করেন আওয়ামী লীগের নেত্রী। দলের সমাজমাধ্যমের পাতা থেকে হাসিনার বক্তৃতার সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। বক্তৃতার পরে বেশ কয়েকজন মহিলার সঙ্গেও হাসিনা কথা বলেন, তারা বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনের সময় আক্রান্ত পুলিশকর্মীদের পরিবারের সদস্য। আলাপচারিতায় এক স্বামীহারা এক পুলিশকর্মীর স্ত্রী হাসিনাকে জানান, তাঁর স্বামী পরিবারের জন্য কিছুই রেখে যাননি। ঘরে সন্তান রয়েছে। এই অবস্থায় মহিলা হাসিনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। হাসিনা তাঁকে সাহায্যের আশ্বাস দেন। ওই মহিলার উদ্দেশ্যে হাসিনা বলেন, “অবশ্যই আমি সাহায্য করব। আমি আসব।” ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে তিনি বলেন, “আমি আছি। আমি অবশ্যই এর বিচার করব। ওরা (অন্তর্বর্তী সরকার যতই দায়মুক্তি দিক, এই হত্যার দায়মুক্তি হয় না।” রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের মতে, ‘‘ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার নৃশংস পদক্ষেপ করেছিল।’












Discussion about this post