বাংলাদেশে চলছে ডেভিল হান্ট অভিযান। ডেভিল হান্ট অভিযানের মাধ্যমে পুলিসের একাধিক কর্মকর্তার নাম ঠিক করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করতেই শীর্ষকর্তাদের অনুমতি নিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। এর ফলে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্তাদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি, পুলিসের সাবেক মহা পরিদর্শক বেনজির আহমেদ, অনলাইনে সরকারের বিরুদ্ধে পুলিসকে উস্কানি দিয়েছে। এমনটাই অভিযোগ। এর প্রেক্ষিতে পুলিসের ৮৪ জন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করতে একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এর ফলে পুলিসের অন্দরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
খবর উঠে আসছে, অনেকে আত্মগোপন করে রয়েছেন। আবার কেউ পুলিসের মধ্যেই গোপনে থেকে কাজ করছেন। এমনকি দেশের বাইরে রয়েছেন কেউ কেউ। তবে তাদের প্রত্যেকে আইনি আওতায় আনা হবে বলে খবর।
এদিকে বাংলাদেশে ডেভিল হান্ট অভিযান নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে ৬ মাস কেটে গেছে। কিন্তু তারপরও পরিস্থিতি বদলাইনি। কখনো দেশে চলছে চরম নৈরাজ্য, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এর ঘটনা, দিকে দিকে বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে আসছে। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের প্রশাসনের। সেইভাবে লাগাম টানতে দেখা যায়নি বাংলাদেশের অন্তবর্তি সরকারকে। এইবার দেখা গেল অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযান। এই একই রকম একটি অভিযান দেখা গিয়েছিল বিএনপি বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকাকালীন। যারা দুর্নীতিবাজ, বিশৃংখলাকারী, তাদের ধরপাকড় করে গোটা দেশ থেকে বিশৃঙ্খলা মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল বিএনপি। এইবার দেখা গেল বাংলাদেশে তদারকি সরকারের আমলে। এখনও পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি গ্রেফতার হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, এই অভিযানে দেশের একটি জেলা গাজীপুরেই সবচেয়ে বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন। অভিযানের পাঁচ দিনে এর সংখ্যা দাড়ায় তিনশ বত্রিশ জন। মঙ্গলবার গাজীপুর আদালত চত্বরে গিয়ে দেখা যায় আটক ব্যক্তিদের আত্মীয়রা ভিড় করেছেন। উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদের আত্মীয়দের অনেককে সাদা পোশাক পরিহিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গভীর রাতে আটক করে নিয়ে এসেছে।
তবে কি এ অভিযানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শান্তি ফিরবে? যারা চরম নৈরাজ্য চালাচ্ছে, তাদের কি বিচার হবে? বিশৃঙ্খলা তার দিক থেকে বাংলাদেশে যে এগিয়ে রয়েছে, গোটা বিশ্ব দরবারে নিন্দা ঝড় উঠছে, তার কি এবার নিষ্পত্তি হতে চলেছে? এই প্রশ্নগুলোই উঠছে।
তবে এই অভিযান শুরু থেকেই বিতর্কিত জায়গায় চলে গিয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তথা প্রাক্তন সেনা আধিকারিক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী অপারেশন ডেভিলান্টের কথা বলতে গিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতর নয়, এনকাউন্টারের লাশ বানানোর নিদান দেন। এমন একটি বেফাঁস মন্তব্য করে ফেলায় চরম বিতর্ক তৈরি হয়। একজন সরকারে থাকা পদাধিকারী এ ধরনের মন্তব্য কিভাবে করতে পারেন, সেই নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।












Discussion about this post