৫ অগাস্ট দেশ ছাড়লেন শেখ হাসিনা। থাকলেন ভারতের আশ্রয়ে। তবে এরপর থেকেই আওয়ামী লীগ বিপাকে পড়তে শুরু করলো। দেশ ছাড়া হয়েছেন জননেত্রী, এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরাও বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন কেউ দেশের মধ্যেই আত্মগোপনে রয়েছেন, কেউবা জেলে বন্দী রয়েছেন। আর এই আবহে দলকে উজ্জীবিত করতে জননেত্রী শেখ হাসিনা ভারতে বসেই বিভিন্ন ভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন অনলাইন বক্তৃতা দিচ্ছেন বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে। এটা কর্মীদের হতাশা মুক্তির পন্থা অবলম্বন করছেন।
এবার জাতিসংঘ একটি রিপোর্ট পেশ করলো, জাতিসংঘের এই রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলে যে বিষয়গুলি উঠে আসবে তার মধ্যে প্রথমে দেখা যাচ্ছে ৪ আগস্ট গভীর রাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানদের উপস্থিতিতে গণভবনে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে বিডিয়ারের কি ভূমিকা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর কি ভূমিকা হতে চলেছে তার একটি প্রাথমিক ছক কষা হয়। এবং আন্দোলনকারীরা যাতে ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য কারফিউ এবং কারা কোন অঞ্চলে অবস্থান করবে সেই বিষয়টিও স্থির করা হয় এই বৈঠকের মাধ্যমে।
প্রধানমন্ত্রীকেও আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে নিরাপত্তা বলয় ঠিকঠাকই থাকবে। কিন্তু এই রিপোর্টে উঠে এসেছে বেশ কিছু তথ্য, যেখানে দেখা গিয়েছে সেই সময় কলেজ ছাড়া আর প্রত্যেকটি বাহিনী বা আধিকারীকই নিজেদের ভূমিকায় অটল ছিলেন না। এক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে আন্দোলনকারীদের প্রবেশে তারা কোনরকম বাধাই তৈরি করেনি। ফলে বহুল সংখ্যক আন্দোলনকারী প্রবেশ করেছিল ঢাকায়। এমনকি সেনাবাহিনী, যার উপর সব থেকে বেশি ভরসা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেনাবাহিনী কেউ সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি, এক কথায় নিরব নির্বিকার পুতুলের মতই দাঁড়িয়েছিল সেনাবাহিনী। কিন্তু একমাত্র পুলিশ বাহিনী যারাই একমাত্র শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে নির্বিকারে গুলি চালিয়েছে এবং নিজেরাও মৃত্যুবরণ করেছে। এমন ছবিও দেখা গিয়েছে যে শেখ হাসিনার পতনের পর অর্থাৎ শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পড়ো তারা নির্বিকারে গুলি চালিয়েছে কারণ তারা জানতোই না যে সরকারের পতন ঘটেছে।
এটা পরিষ্কার যে অন্যান্য বাহিনী ও সেনা সেনাবাহিনী তারা জানতে পেরেছিলেন যে সরকারের পতন ঘটবে। অথবা তারা চেয়েছিলেন যে সরকারের পতন ঘটে যাক, তারা মাঠে নেমে গুলি চালাবেন না আবার মাঠ থেকে সরেও দাঁড়াবেন না অর্থাৎ তারা মাঠে রয়েছেন এই ছবিটাই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন সেনাবাহিনী।
৩ আগস্ট বৈঠকের মাধ্যমে একটি অলিখিত সিদ্ধান্ত হয়ে যায় যে বাহিনী শেখ হাসিনাকে সেভাবে সুরক্ষা দিতে পারবে না শেখ হাসিনার জন্য গুলিও চালাতে পারবেন না আর সেই বিষয়টি ভালো করেই বুঝতে পেরেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এই পরিস্থিতিতে বোকার মতো পুলিশ বাহিনী তারা তেমন নিজেরা মরেছে তেমনই মানুষও মেরেছে। আর এটি তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতির একটি দুঃখ জনক অধ্যায়।












Discussion about this post