ভারত ও বাংলাদেশের মাঝে একাধিক নদী চুক্তি বর্তমানে বিরাজমান। ভারত ও বাংলাদেশ একে ওপরের সাথে যত গুলি নদী ভাগ করে গোটা বিশ্বে আর কোনও প্রতিবেশী রাষ্ট্র একে ওপরের সাথে এতগুলি নদী ভাগ করে না। এবার রাষ্ট্রসংঘের ওয়াটার কনভেনশন চুক্তিতে সাক্ষর করল বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশ হটাৎ UN ওয়াটার কনভেনশনে কেন সই করল ?
UN কনভেনশন ১৯৯২ তে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশকে শর্ত মেনে চলতে হবে নদী চুক্তিকে কেন্দ্র করে। দক্ষিণ এশিয়ার কোনও দেশ UN কনভেনশনে সই করেনি। তার কারণ, এইখানে বলা হয়েছে, প্রথমত, একে ওপরের সাথে নিয়মিত ওয়াটার শেয়ারিং ডাটা শেয়ার করতে হবে। অর্থাৎ, একটি দেশের ওপর একটি নির্দিষ্ট নদী কতটা জল নিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, বর্ষাকালে কতটা জল থাকছে, খরা মরসুমে কতটা জল থাকছে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রর সাথে শেয়ার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, একটি রাষ্ট্র নিজের ইচ্ছা মতো একটি নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণ করতে পারবে না। যদি বাঁধ নির্মাণ করতে হয়েও তবে বিপরীত পক্ষের দেশটিকে জানাতে হবে। তৃতীয়ত, জল ধরে রাখা যাবে না। কোনও হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্ট খুব সহজে এই নদীর ওপর করা সম্ভব হবে না। যদি দ্বিতীয় পক্ষের কোনও অসুবিধা থাকে তবে তা আলোচনা যেইখানে হয় সেখানে আলোচনা করে মেটাতে হবে।
এ থেকে বোঝাই যাচ্ছে বাংলাদেশ এবার ভয় পেতে শুরু করেছে গঙ্গা চুক্তিকে নিয়ে। কারণ গঙ্গা নদীর জল বাংলাদেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৬ সালে যে চুক্তি হয়েছিল তা পুনরায় রিনিউ করার কথা ২০ বছর পর অর্থাৎ ২০২৬ সালের পরের বছর। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৬ শের আগে বাংলাদেশ থেকে একটি প্রতিনিধি দল ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ ঘুরে দেখেন। তাতে তারা বোঝেন ভারত চুক্তির বাইরে বেরিয়ে কোনও অনৈতিক কাজ করছে না। এবার ভারতের ওপর নির্ভর করছে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে অতীতে যে ক্রস গুলি ছিল ভারত সেগুলিই মেনটেইন করবে নাকি ভারতের তরফ থেকে কোনও পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় বিভিন্ন মাধমের একাধিক মত যে ভারত পাল্টা প্রস্তাব দেবে। একাধিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের মাঝে বিরোধ আসন্ন।
বাংলাদেশের বৰ্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যাবে, ৬০ % মানুষ বন্যা কবলিত এলাকায় বসবাস করেন। এই বন্যা কবলিত অঞ্চল নিয়ন্ত্রিত হয় বিভিন্ন রাষ্ট্রের নদী দ্বারা। শুধু ভারতই নয় বাংগলাদেশে চীন থেকে উৎপত্তি হওয়া ব্রহ্মপুত্র নদীর ও একটি গুরুত্ব আছে। ফলে ভারতের নদী বাংলাদেশের অঞ্চলকে বন্যা কবলিত করেছে তা নয়। বাংলাদেশের এই ৬০ % বন্যা কবলিত অঞ্চলের ২৫ % বন্যা কবলিত অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে গঙ্গা নদী। অর্থাৎ, গঙ্গার ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের ২৫ % অঞ্চলে বন্যা হবে না হবে না। গঙ্গা চুক্তি না হলে বাংলাদেশের বিপদ আসন্ন। কারণ, ওয়াটার শেয়ারিং ডাটা বাংলাদেশ আর পাবে না। ভারত কখন জল ছাড়বে কি ছাড়বে না তা বাংলাদেশের ওপর আর নিয়ন্ত্রিত হবে না। পাশাপাশি খরা মরসুমে ভারতের থেকে বাংলাদেশ ৩৫ হাজার কিউসেক জল পায়, এই চুক্তি বাতিল হলে খরা মরসুমে বাংলাদেশ আর এই ৩৫ হাজার কিউসেক জল পাবে না। ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চাষ আবাদ বন্ধ হয়ে যাবে।












Discussion about this post