ফের মুখ খুললেন হাসিনা। তবে এবার না পূর্বতন সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে না বিএনপির চেয়ারম্যান তথা বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি বার্তা দিয়েছেন। সেই বার্তা ভোকাল টনিকের মতো কাজ করছে। হাসিনার বার্তা পেয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূলস্তরের নেতাকর্মীরা রীতিমতো চাঙ্গা। দলীয় নেতা, যারা দেশের বাইরে বিভিন্নস্থানে রয়েছেন, তাদের দেশে স্বভূমিতে ফিরে গিয়ে মাঠে নামার পরামর্শ দিয়েছেন। হাসিনা সম্প্রতি দিল্লিতে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। বৈঠক ছিল দলের ওয়ার্কিং কমিটির। দীর্ঘ কয়েক মাস দিল্লিতে নিভৃতবাসের পর এবার করলেন দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক। এর আগে তিনি কখনও গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। কখনও অডিও মেসেজে দলীয় কর্মীদের বার্তা দিয়েছন। কিছুদিন আগে তিনি বাংলাদেশের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন নিয়েও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। বাংলাদেশে পালাবদলের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে হাসিনা ছিলেন অত্যন্ত আত্মপ্রত্যয়ী। রাজনৈতিকমহলের একাংশ মনে করছে, হাসিনাকে সুনির্দিষ্ট কোনও প্রান্ত থেকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে বাংলাদেশে রাজনীতিতে বৃহৎ পরিসরে নামার জন্য আওয়ামী লীগকে রাস্তা তৈরি করে দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই বার্তা পাওয়ার পরেই আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক করলেন।
আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় শেখ হাসিনা সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটি নির্দেশ দিয়েছেন। কলকাতায় দলের এক প্রিসিডিয়াম সদস্যের বাড়িতে এই ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের বাইরে দলের যে সব নেতা রয়েছেন, তাদের অবিলম্বে বাংলাদেশে দ্রুত ফিরে যেতে হবে। দেশে গিয়ে তাদের কাজ হবে দলের পদ্মাপারের নেতাদের চাঙ্গা করে তোলা। সামনেই আসছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রার্থী করা হবে। শেখ হাসিনা এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, দলের যে সব নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অবৈধ সরকার মিথ্যে অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে, তাদের জন্য আদালতে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে। তাদের জামিনের ব্যবস্থা করতে হবে। দলের যে সব নেতাকর্মী জেলে রয়েছেন, তাদের জেল থেকে ছাড়িয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। আওয়ামী লীগ সুপ্রিমোর পরামর্শ দিয়েছেন বিদেশে থাকা দলের নেতাদের জন্য। তাদের জন্য দলনেত্রীর পরামর্শ তাদেরও দেশে ফিরতে হবে। দরকার হলে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব একটি বিষয়ে বেশ সন্দিহান। তাদের মতে, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করেছে। কিন্তু না প্রধানমন্ত্রী না বিএনপি না সরকারের কোনও মন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। তারপরেও হাসিনা কী করে প্রবাসে থাকা দলের নেতাদের দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে নামার পরামর্শ দিয়েছেন। তারেক রহমান আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছু জানাননি। তবে তিনি একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছে, কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষে তিনি নেই। আজ যদি তিনি বিরোধী কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন, তাহলে আগামীদিনে তাঁর দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে না এমন নিশ্চয়তা কোথায়? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেকের এই বক্তব্যই হাসিনার মনের জোর আরও বাড়িয়েছে। মনে করা হচ্ছে খুব দ্রুত আওয়ামী লীগের ওপর থেকে বিএনপি সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে নেবে। হাসিনা আরও একটি বিষয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। সেটা হল অবৈধ সরকার তাঁর দলের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, সেই নিষেধাজ্ঞার কোনও বৈধতা নেই। তাছাড়া আওয়ামী লীগকে যে কারণে আগের সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অর্থাৎ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, বিএনপি সরকার সেই সব অভিযোগের একটিও প্রমাণ করতে পারবে না। কারণ, সে অর্থে কোনও বৈধ নথি নেই। যে সব নথি রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে সেগুলি নকল। ভার্চুয়াল বৈঠকে হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর রাজনৈতিক কার্যক্রমের বাইরে রেখে দিলে তারেক রহমানের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হবে। সুতরাং, তিনি চাইবেন হাসিনার দল জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে আসুক।












Discussion about this post