বাংলাদেশকে সন্ত্রাসবাদের আস্তানায় পরিণত করেছেন মোহাম্মদ ইউনুস! ‘প্রতিবাদী বার্তা’ শেখ হাসিনার। বিভিন্ন সময় অন্তরবর্তী সরকারের শেখ হাসিনার বক্তব্য রাখা বন্ধ করে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে সোমবার শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে বার্তা দিলেন বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে। তবে, কি এমন বার্তা দিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী? কবে দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা?
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই বাংলাদেশে ফিরবেন বলে জানালেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । আর দেশে ফিরেই সমস্ত অপরাধীদের বিচার করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সোমবার রাতে বাংলাদেশবাসীর উদ্দেশে এক ভার্চুয়াল বার্তায় এই কথাই জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। আওয়ামি লিগের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকেই এই বার্তাটি সম্প্রচার করা হয়। জুলাই-অগাস্ট মাসে হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের সময় নিহত পুলিশকর্মীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন আওয়ামি লিগ নেত্রী। তাঁদেরকে সাহায্যের পাশাপাশি ন্যায্য বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন হাসিনা।
গত বছরের জুলাই-অগাস্ট মাসে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে নিহত হন প্রচুর পুলিশকর্মী। কিন্তু ইউনূসের আমলে তাঁদের পরিবার কোনও বিচার পাচ্ছে না বলে দাবি আওয়ামি লিগের। তাঁদেরকেই সঠিক বিচারের আশ্বাস দিয়ে হাসিনা নিজের বার্তায় বলেন,’আমি আছি। আমি অবশ্যই এর বিচার কোনও না কোনও দিন করব। অন্তর্বর্তী সরকার যতই দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করুক, এই হত্যার দায় এড়ানো যায় না। হত্যার বিচার হবে। আমার বাবা-মা, তিন ভাইকে যখন হত্যা করেছিল, তখনও দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি তাদের বিচার করেছি। এই পুলিশহত্যার বিচারও আমি করব একদিন।’ এরপরই হাসিনা বলেন, ‘ধৈর্য ধরুন, অপেক্ষা করুন। যখন আমি দেশে ফিরতে পারব, প্রত্যেকটি পরিবারকে সাহায্য করব। হত্যাকারীদের বিচারও করব।’
আওয়ামি লিগের তরফ থেকে দাবি করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিহত পুলিশকর্মীদের বিধবা স্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। তাঁরা হাসিনার সাহায্য প্রার্থনা করেন। এর জবাবে হাসিনা আশ্বাস দিয়েছেন , ‘আমি অবশ্যই সাহায্য করব। আমি আসব।’
এদিকে সম্প্রতি অপরাধীদের ধরতে ‘শয়তানের খোঁজ’ বা ‘ডেভিল হান্ট’ শুরু করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। গোটা বাংলাদেশের প্রচুর মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে এখনও পর্যন্ত। এই ভার্চুয়াল বার্তায় অপারেশন ডেভিল হান্ট নিয়েও সরব হন হাসিনা। তিনি বলেন, “এখন শুনছি ওরা ‘ডেভিল হান্ট’ কর্মসূচি শুরু করেছে। কে ডেভিল? ওরা কাকে খুঁজছে? দেশ চালাতে ব্যর্থ এই অন্তরবর্তী সরকার। অর্থনীতি তলানিতে, আইনশৃঙ্খলার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি,সাধারণ মানুষের কোনও নিরাপত্তা নেই দেশে।”
প্রসঙ্গত, হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই আরাজকতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর চলেছে নির্যাতন নিপীড়ন। এখন দেশে সংস্কারের বদলে আওয়ামীলীগ সরকারের ইতিহাস মুছতে তৎপর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার। যার ফলস্বরূপ গত ৫ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি।
এই সমস্ত ঘটনার প্রসঙ্গে হাসিনার বক্তব্য, আজকে ওরা দেশটাকে জঙ্গির দেশে পরিণত করেছ। ইউনূসকে এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় নিতে হবে। ওনারও বিচার হবে। আমি দেশ ফিরলে প্রত্যেককে যতটা সম্ভব সাহায্য করবে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ চলবে না।”
এসবের আবহেই হাসিনার দেশে ফিরে ন্যায্য বিচারের বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।












Discussion about this post