বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান দেখেছে গোটা বিশ্ব। যা নিয়ে তীব্র আলোরণ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই গণঅভ্যুত্থানের মাস্টার মাইন্ড কারা? গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে বিবাদ তৈরি হচ্ছে। এরমধ্যে ছাত্রদের তৈরি করা নতুন দলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। যা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য বড় বিতর্ক ডেকে নিয়ে আসতে পারে। ভয়ংকর রাজনীতিতে মেতে উঠেছে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন শক্তি।
২০২৪ এর ৫ই অগাষ্ট। ছাত্রদের বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। এই আন্দোলনে অংশ নেয় হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী। বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, স্লোগানে মুখরিত হয় বাংলাদেশ। পতন হয় আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেত্রী তথা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। যদিও তার পদত্যাগ কিভাবে হয়, আদৌ হয়েছে কিনা, সেই নিয়ে পরবর্তীকালে বিতর্ক তৈরি হয়। হাসিনা দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। বাংলাদেশে গঠিত হয় অন্তবর্তী সরকার। অন্তবর্তী সরকারের মাথায় বসানো হয় নোবেল জয়ী মোহম্মদ ইউনুসকে। তিনিই দেশ চালাচ্ছেন। কিন্তু এত টা সহজ নৌ বিষয়টি। অনেকে বলছেন, পুরো ঘটনাটি একটি দিন বা রাতেই তৈরি হয়নি। এর পিছনে ছিল গভীর চক্রান্ত। কলকাঠি নেড়েছে বড় মাথা। মাস্টারমাইন্ড কারা? সেই নিয়েও তৈরি হচ্ছে বিস্তর বিতর্ক।
তবে যত দিন এগিয়েছে, ততই বাংলাদেশের পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। এর মধ্যে ছাত্রদের নতুন দলের কথা উঠে আসছে। নাগরিক কমিটির সংগঠক সারজিস আলম বিভিন্ন সময় বলেছেন, দেশকে বাঁচাতে আমাদের এই দলই সাহায্য করবে। অর্থাৎ সেই নিয়েই নানা বিবাদ তৈরি হচ্ছে অন্দরে। তারা নানা সময়ে বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে, গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে ফেলছেন।
এই বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্টারমাইন খোঁজাটাই বাংলাদেশের জন্য বিপদ। বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন কিভাবে আয়ত্তে আসবে সেটা দিয়েই আলোচনা হওয়া উচিত। রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে, দেশের পরিস্থিতি তখনই আয়ত্তে আসবে যখন একটি স্থায়ী সরকার দেশে আসবে। সেটা অবশ্য দেশের জনগণের নির্বাচনে নির্বাচিত সরকার। তবে এটাও প্রবলভাবে চিন্তার, যেভাবে বাংলাদেশে পুলিশ প্রায় নিষ্ক্রিয়, সেনাবাহিনীকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না, সেখানে কিভাবে নির্বাচন হবে? যদি ক্ষমতার অলিন্দে থাকা ক্ষমতাশালীরা সেনাবাহিনীর একাংশ বা পুলিসকে নিয়ন্ত্রণ করে তবে, নির্বাচন কতটা স্বচ্ছভাবে হবে, সেটাই ভাবাচ্ছে।
তারমধ্যে সামনে এসেচে, নতুন দল গঠনের বৈঠকে সারজিস আলম বলেছেন, যদি ক্ষমতার অলিন্দে বসে কেও ক্ষমতার অপব্যাবহার করে, তবে আরও একটা গণ বিপ্লব হবে। তার মতে, গণ অভ্যুত্থানের কারিগররা বাংলাদেশের সরকারের প্রথম সারিতে থাকবে। যদি দেশে গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বও নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়, তাহলে দেশ আরও ভয়ংকর জায়গায় পৌঁছবে।
তবে যেভাবে দেশের অন্দরে বিবাদ সৃষ্টি হচ্ছে, আরও একটি গণ বিপ্লবের কথা উঠে আসছে, সেখানে দাঁড়িয়ে দেশে সুস্থ পরিবেশ কতদিন বজায় থাকে, সেটাই দেখার।












Discussion about this post