বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের ঠিক কি করনীয়, তা নিয়ে জল্পনা বিভিন্ন মহলে। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে যে তান্ডব লীলা চলল তা রীতিমত আবারও উত্তপ্ত করে তুলল বাংলাদেশকে। এবং এই পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের ওপর সব থেকে বড় বিপদ ডেকে এনেছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একটি বিশাল শ্রেণীর নেতাকর্মীরা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যে সমস্ত নেতাকর্মীরা বাংলাদেশের মধ্যে আছেন তারা এক প্রকার আত্মগোপনেই রয়েছেন, কেউ হয়তো এক জেলা থেকে অন্য জেলা, এক গ্রাম বাস শহর থেকে অন্য গ্রাম বাস শহরে গিয়ে কোন রকমে জীবন যাপন করছেন।
গত ৫ই আগস্ট এর আগে বেশ কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যারা কোটি টাকার মালিক ছিলেন তারাই শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হবার পর পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং তার পরিবার-পরিজনরা অন্য কোন গ্রামে গিয়ে কোনরকমে বসবাস করছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন যে সমস্ত জমির তারা অর্জন করেছিলেন সেগুলি পরবর্তীতে অন্য কোন ব্যক্তিত্বদালতিতে বিক্রি করার সম্ভাবনা থাকে কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন নেতাকর্মী একাধিক অভিযোগে যখন হেফাজতে গেছেন তখন তাদের ওই অর্জন করা জমি আর বিক্রি করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে এখন তাদের পরিবারের লোকজনকে কষ্টের মধ্যে দিয়ে বা অর্থাভাবের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। অর্থাৎ বলা যায় যে হতাশার পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে। বিভিন্ন নেতাকর্মীর প্রায়শই বিভিন্ন কর্মসূচির ডাক কিন্তু প্রকৃত অর্থে সেই সমস্ত নেতাকর্মীর কন্ঠে শুধুই হতাশার সুরই লক্ষ্য করা গিয়েছে।
আর এই সমস্ত কিছুর মাঝেই শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার একটি ছবি সমাজ মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে যেখানে তাকে বেশ খোঁজমেজাজে দেখা যাচ্ছে চায়ের কাপ হাতে বসে থাকতে। আর এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের মধ্যে আরো হতাশা এবং দুঃখ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। কারণ তারা ভাবছে আওয়ামী লীগ অর্থাৎ দলের নেতৃত্বের জন্যই আজ তাদের এই পরিণতি তাদেরকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে নিজের দেশের মধ্যে থেকেই। অর্থাৎ এর মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের পরিবারের লোকদের। অথচ আপনারা বেশ আনন্দেই আছেন বিদেশে পালিয়ে গিয়ে।
একইভাবে শেখ হাসিনা তিনি দিল্লিতে রয়েছেন সেখান থেকে তিনি সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন প্রতি মুহূর্তে কথাবার্তা বলেন এবং দলকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন কিন্তু এই পুরো বিষয়গুলিকে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু পলাতক নেতা কর্মী তারা সহজভাবে নিচ্ছে না। এমন ভাবে শেখ হাসিনা দলের নেতা কর্মীদের উজ্জীবিত করার জন্য তিনি বার্তা দিচ্ছেন যে, “আমি বাংলাদেশ ফিরছি, আপনাদের কোন চিন্তা নেই আমরা আবার ফিরে সবটা ঠিক করে নেব কালকে আবার পুনরুজ্জীবিত করব। তিনি দলকে উজ্জীবিত করার জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছেন কিন্তু শেষমেষ কোন পন্থাই কাজে আসেনি।
বিভিন্ন মহলের মত, ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচির কোন প্রয়োজনীয়তা ছিল না। বাংলাদেশ জুড়ে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে যার জেরে মেরুকরণের সৃষ্টি হয়েছে, এবং প্রতি মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে বিএনপি নির্বাচন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপ সৃষ্টি করছে সেখানে আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচি কোন স্বচ্ছতা নেই।












Discussion about this post