বেড়ালটা খুশি হয়ে বলল – “হ্যাঁ, এ তো বোঝাই যাচ্ছে – চন্দ্রবিন্দুর চ, বেড়ালের তালব্য শ, রুমালের মা – হল চশমা। কেমন, হল তো? ”
চশমা এ হেন বানানের আবিষ্কর্তা হযবরল-য়ের সেই বিশ্রি বেড়ালটা। প্রতিবেদনের সঙ্গে চশমার এ হেন বানানের একটা সূক্ষ্ম সম্পর্ক রয়েছে। উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে। উত্তেজনা বললেন ভুল হবে। এক ভয়াবহ যুদ্ধ। এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে, কেউ বলতে পারছে না। শোনা যাচ্ছে জ্যোতিষিরা তাদের তল্পিতল্পা গুটিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছে। কারণ, তাদের ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই যুদ্ধ থেকে বাংলাদেশকে বাঁচালেন হাসিনা। কিন্তু কীভাবে?
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের পিছনে রয়েছে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্ররোচনা আর ভেনিজুয়েলের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাতের সাফল্য এই দুইয়ে মিলে মার্কিন প্রেসিডেন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের ওপর বিনা প্ররোচনায় হামলা চালিয়েছেন। ইরান কি পরাজয় স্বীকার করবে? না কি যুদ্ধের একটি দীর্ঘ ফাঁদে জড়িয়ে গেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? ইরান হেরে গেলেও সেই পরাজয় হবে কর্ণের পরাজয়ের মতো। ইরানকে নিয়ে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল যে মার্কিন আগ্রাসনের কাছে তেহরান অচিরেই নতজানু হবে। সেটা কিন্তু হয়নি। মারের পাল্টা মার দিচ্ছে তেহরান। আর সেটা দেখে কিছুটা হলেও বিস্মিত আমেরিকা। এই যুদ্ধের প্রেক্ষিতে আবারও আলোচনায় শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা এই যুদ্ধ থেকে বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে দিলেন। কীভাবে, সেটা আলোচনা করতেই এই প্রতিবেদন। আর প্রতিবেদনের গোডা়তেই বিশ্রি বেড়ালের চশমা বানানের উদ্ভট সূত্রের অবতারণা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দিনের আলোতেই দ্বিফলা আক্রমণের শিকার ইরান। একদিক থেকে হামলা চালায় ইজরায়েল, অপরদিক থেকে হামলা চালায় আমেরিকা। এই হামলা ছিল অপ্রত্যাশিত। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা খামেইনি সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষনেতার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যু না বলে খুন বলাই বাঞ্ছনীয়। হামলার সময় খামেইনির বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। তারা যে এরকম একটা বৈঠক করবেন এবং বৈঠক হবে সকালে, সেই খবর আমেরিকার কাছে ছিল। ইরান কিন্তু আকষ্মিক আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্য শুধু ইজরায়েল এবং আমেরিকা নয়। তারা টার্গেট করেছে মধ্যপ্রাচের যে সব দেশে মার্কিন সেনা ছাউনি আছে, সেই সব দেশে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, না নেতানিয়াহু না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আন্দাজ করতে পেরেছিলেন ইরানের এই গোপন অভিসন্ধি। ফলে, যুদ্ধ এখন আর আমেরিকা-ইজরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলছে হামলা পাল্টা হামলা। হামলা হয়েছে কাতার, বাহারিন, দুবাইতে। হামলা হয়েছে দুবাই বিমানবন্দরেও। ইরান বর্তমানে ৩১ সামরিক অঞ্চলে ভাগ হয়ে গিয়েছে। ইরানে মাটির ৫০০ মিটার নীচে রয়েছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার। বলা হচ্ছে ওই ভাণ্ডার ক্ষতিগ্রস্ত করার ক্ষমতা আমেরিকার নেই। ফলে, ট্রাম্প প্রশাসন কিছুটা হলেও বেকায়দায়।
ইরান আরও একটি কৌশল নিয়েছে। সেটি হল একটি ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে আরও ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র জুড়ে দিচ্ছে। এই গুলি প্রতিটি নকল। ইজরায়েলের র্যাডারে সেগুলি ধরা পড়ছে না। ফলে, তারা পড়েছে গোলকধাঁধায়। এইভাবে ইজরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে দূর্বল করতে ইরান সক্ষম হলে তাদের বিপদ আরও বাড়বে, সেই সঙ্গে আমেরিকারও। ইরান জানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের ওপর আঘাত করলে সেই চাপটা গিয়ে পড়ে আমেরিকার ওপর। ইরান দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালী তাদের দখলে। এর প্রভাব পড়বে জাপান, চায়না, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ানে। অক্টোবরে আমেরিকায় মার্কিন কংগ্রেসের নির্বাচন। ইরানকে আক্রমণ করে ট্রাম্প কার্যত জুয়া খেলে বসেছেন। প্রশ্ন হল এই ঘটনার সঙ্গে শেখ হাসিনা বা বাংলাদেশের সম্পর্ক কোথায়?
আমরা সকলেই জানি, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর কাছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ আমেরিকাকে ‘দান’ করার জন্য চাপ আসছিল ট্রাম্প প্রশাসনের থেকে। উদ্দেশ্য ছিল সেখানে একটি মার্কিন সেনা ছাউনি তৈরি করা। হাসিনা দান করতে অস্বীকার করায় তাঁকে ক্ষমতা থেকে সড়ে যেতে হয়। আজ বাংলাদেশে মার্কিন সেনাছাউনি হলে দেশটি ইরানের টার্গেট হয়ে উঠত।












Discussion about this post