অজস্র জন্ম ধরে / আমি তোমার দিকে আসছি/ কিন্তু পৌঁছুতে পারছি না। / তোমার দিকে আসতে আসতে / আমার এক একটা দীর্ঘ জীবন ক্ষয় হয়ে যায় / পাঁচ পয়সার মোম বাতির মতো ” ।
তিনিও তাঁর দিকে আসার চেষ্টা করেছিলেন। প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। অজস্র জনম না হলেও গত ১৮ মাসে একাধিকবার তিনি দেশে ফেরার কথা বলেছিলেন। তবে পাঁচ পয়সার মোম বাতির মতো তিনি তাঁর জীবনকে ক্ষয় হতে দেবেন না এটা তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। দেওয়ালে কারও পিঠ ঠেকে গেলে তখন যে প্রত্যাঘাত আসে, সেই প্রত্যাঘাতের অভিঘাত অত্যন্ত গভীর। সেটা বিদায়ী সরকার প্রধান পদে পদে টের পাচ্ছেন। এবার দিল্লি থেকে দিলেন রণহুঙ্কার। মুহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে দেশের সমস্ত আদালতে মামলা রুজু করতে আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যে যেখানে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁরা সাবেক প্রধান উপদেষ্টার নাম জড়িয়ে মামলা করুন। হাসিনার বক্তব্য, এই সমস্ত আইনি-নথি আগামী দিনে কাজে লাগবে।
কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো দিল্লিতে দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক করেন। বৈঠক হয়েছে ভার্চুয়াল। কলকাতা, বিদেশে যে সব নেতা রয়েছে, দেশে যে সব নেতা আত্মগোপন করে রয়েছেন, তারা সকলে ওই বৈঠকে ভার্চুয়াল উপস্থিত ছিলেন। দলনেত্রীকে তারা বাংলাদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত করেন। সব কিছু শুনে হাসিনা তাদের কিছু নির্দেশ দিয়েছেন। দলের যে সব নেতা বিদেশে রয়েছে, তাদের অবিলম্বে দেশে ফিরতে বলেছেন। শুধু ফিরলেই হবে না, তাদের মাঠে নামত হবে, আওয়ামী লীগ সুপ্রিমোর হুকুম তেমনই। দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ছাড়াও শনিবার দলের ফেসবুক পেজের নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘দায়মুক্তি’তে যুক্ত হয়ে দলের আক্রান্ত নেতাকর্মী ও তাদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আলোচনার সময় হাসিনা সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়টি খোলসা করেন। তিনি একাধিকবার বলেন, সবাই ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলা করুন। এইসব মামলার নথি আগামী দিনে কাজে আসবে। শুধু ইউনূস নয়, হাসিনা নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হয়েছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর লাগাতার আক্রমণ হচ্ছে। নতুন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে হাসিনার হুঁশিয়ারি – “আমরা প্রতিটি ঘটনার বিচার করব। কেউ রেহাই পাবে না।” আওয়ামী লিগ নেত্রী বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ছিল অবৈধ। আর বর্তমান সরকার ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেখ হাসিনার একটি অডিও বার্তা ভাইরাল হয়েছে। নিউ বর্তমান সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। অডিও বার্তায় আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো বলেন, “ আসব তো বটেই। এখন একজনের রাজত্ব দেখলেন আপনারা, আরেকজনের রাজত্ব একটু আমরা দেখি। আমি শিগগিরই চলে আসবো সময় মতো। সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমার শুভেচ্ছা নেবেন। আগাম ঈদের শুভেচ্ছা নেবেন। এবং সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। খোদা হাফেজ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। ভালো থাকবেন। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। ”
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়েও মন্তব্য করেন হাসিনা। আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো বলেন, “আমি জানি, তারেক রহমান কীভাবে দেশে ফিরেছেন ”। প্রসঙ্গত মা বেগম জিয়া অসুস্থ থাকাকালীন তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা ছিল। তিনি নিজেই সেটা জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও এক রহস্যজনক কারণে ঘরওয়াপসি সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেন। বাতাসে রটে যায়, সেনাবাহিনীর থেকে সবুজ সংকেত না পাওয়ার কারণেই নাকি তারেক দেশে ফিরতে পারছিলেন না। আবার কোনও কোনও প্রান্ত থেকে বলা হয়, আমেরিকা এবং ভারতের তরফ থেকে সবুজ সংকতে না পাওয়ার জন্য তারেক জিয়া দেশে ফিরতে পারছে না। নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তারেক দেশে ফেরেন। বাংলাদেশে হয়ে গিয়েছে নির্বাচন। বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এবার প্রশ্ন হাসিনা কবে দেশে ফিরবেন। এই অবস্থায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হল হাসিনার অডিও বার্তা।












Discussion about this post