যুদ্ধে জড়িয়েছে ইরান-ইজরায়েল আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের রেশ গিয়ে পড়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের জামায়াতে শিবির ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসন ও খামেইনিকে হত্যার প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ দেখিয়েছে। গত রবিবার, ১ মার্চ বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে হাজার হাজার ছাত্র জনতা ও ধর্মপ্রাণ মুসলিম উপস্থিত হন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “ইরান একটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র। যারা ইসলামের উত্থান সহ্য করতে পারে না। তারা ইজরায়েলকে ব্যবহার করে ইরানকে ধ্বংসের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতে ইরান পার্লামেন্টে তারা হামলা চালিয়েছে। আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দেশটির বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করেছে। তারপরেও ইরানের অগ্রগতিকে তারা রোধ করতে পারেনি। সেই প্রতিহিংসা থেকে আরও একবার ইরানের ওপর হামলা চালাল আমেরিকা ও ইজরায়েল। ”
তিনি জাতিসঙ্ঘের ভূমিকারও সমালোচনা করেন। মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বিশ্বশান্তি ও প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত জাতিসঙ্ঘ যদি প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর পক্ষাবলম্বন করে, তবে বিশ্ববাসীর মধ্যে এর জনপ্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি জাতিসঙ্ঘ এবং ওআইসিকে কার্যকর পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ১৯৭৯ সালের ইরানে বিপ্লবের পর থেকে দেশটিকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিন্দা প্রস্তাব আনার দাবি জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলাকে কেন্দ্র করে জামায়াত শিবির এবং মুসলিম সম্প্রদায় দৃশ্যত দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি উগ্র এবং দ্বিতীয়টি শান্তিপ্রিয় মুসলিম সম্প্রদায়। তাদের মধ্যে জিহাদি মনোভাব নেই। কিন্তু উভয় সম্প্রদায় কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ নিয়ে রীতিমতো বিভ্রান্ত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশে আমেরিকা ও ইজরায়েলের এজেন্ট কারা? তার আগে খামেইনির বিষয়ে কিছু বলা প্রয়োজন।
খামেইনি উগ্র মৌলবাদকে সমর্থন করে। তার শাসনামলে সে দেশে যত বিক্ষোভ বা আন্দোলন হয়েছে, সেই আন্দোলনকে প্রতিহত করতে খামেইনি পুলিশ ও প্রশাসনকে কার্যত লেলিয়ে দিয়েছে। হিজাব না পরার অপরাধে মাহসা আমিনী নামে এক তরুণীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সরকার বিরোধী আন্দোলনকে প্রতিহত করতে গুলি চালানোর নির্দেশও তিনি দিয়েছেন। ফলে, বাংলাদেশে যারা কট্টরপন্থু মুসলিম রয়েছেন, তারা খামেইনির মৃত্যুতে শোকাহত। আর ঠিক বিপরীতে রয়েছে শান্তিপ্রিয় মুসলিম সম্প্রদায়। তাদের মতে, এই রকম একটি শাসকের এমন ভয়ংকর পরিণতি হওয়াই বাঞ্ছনীয় ছিল। এবার সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাক। এই প্রসঙ্গে ওসামা বিন লাদেনের নামও উল্লেখ করা যেতে পারে। বিশ্বের ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন লাদেন। টুইন টাওয়ারকে জিরো পয়েন্ট পরিণত করার মাথা ছিলেন তিনি। সেই লাদেনকে আমেরিকাই হত্যা করেছে।
বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামি মধ্যপ্রাচ্যের এই হামলা নিয়ে তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেছে। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দলের পক্ষ থেকে তাদের ফেসবুকে পেজে একটি পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানে লেখা হয় ডোনাল্ড জুনিয়র ট্রাম্পকে আমেরিকার ৪৭ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করায় আমেরিকার জনগণ ও তাকে অভিনন্দন। অভিনন্দন জানিয়েছে, দলের শীর্ষনেতা শফিকুর রহমান। পোস্টের শেষে শফিকুর রহমান ট্রাম্পের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। আর আমেরিকা ইজরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের ওপর যেই হামলা শুরু করল, জামায়াত শিবির ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল।












Discussion about this post