বাংলাদেশে নিয়ে নানা মাধ্যমে নতুন নতুন গল্প ছড়িয়ে পড়ছে রোজ। কখনো উপদেষ্টাদের দেশ ছাড়ার গল্প। আবার কখনো ছাত্রদের ব্যাংকে টাকা ঢোকার গল্প। সেগুলো সত্যি মিথ্যে হতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষের হাহাকারের গল্প, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের গল্প, সেগুলো কি মিথ্যে ? না সেগুলি মিথ্যে নয় বলেই সাধারণ মানুষ চাইছে , সেনা ক্ষমতা নিয়ে দেশে সুষ্ঠ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুক।
বাংলাদেশে অন্য যে কোনো দেশের প্রভাব বাদ দিলেও, শুধু দেশের অভ্যন্তরে তিনটি ক্ষমতার স্রোত বয়ে চলেছে। একটি কট্টর বাদ, বা মৌলবাদ,যাদের প্রতি দেশের মানুষের সমর্থন অল্প হলেও, বর্তামান ক্ষমতায় থাকা ইউনুস সরকারের প্রচ্ছন্ন মদত আছে। দ্বিতীয়টি বিনপি,এই মহুর্তে যাদেরকে মধমপন্থী বলা যেতে পারে, কারণ তারা জামাতের কট্টরবাদ থেকে নিজেদের কে দূরে রাখতে চেষ্টা করছে। এবং ভোট হলে যারা নিজেদেরকে বাংলাদেশের আগামী সরকার গড়ার প্রধান দাবিদার বলে মনে করছে। এবং তৃতীয়টি হলো আওয়ামীলীগ, যাদের নারামপন্থী বললে কোনো ভুল হয় না।কারণ জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকালের সমর্থন রয়েছে তাদের প্রতি। তবে ভোটে তারা অংশ গ্রহণ করলে জিতবেই এমন দাবি করা খুবই মুশকিল। অনেকেই মনে করছেন আওয়ামীলীগ নিয়ে আগের থেকে কিছু বলা যাবে না। কারণ এখনো বহু সামর্থক আছেন যার, নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন। ভোটের সময় শেখ হাসিনার পক্ষেই ভোট দেবেন। আর সেই পথ বন্ধ করতেই ইউনুস বাহিনী চাইছে সংস্কারের নামে ভোট পিছোতে, যদিও সেনাপ্রধানের ভোট পিছানোর কোনো ইচ্ছা নেই। দেশের অগ্রগতি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গেলে একটি নির্বাচিত সরকারের প্রয়োজন। আর ভোট পিছানোর দিকে ইউনুস বাহিনী আগাতে চাইলে আর একটা সেনা অভুথান বা আর একটা ৫ ই অগাস্টের জন্য প্রস্তুত হতে হবে বাংলাদেশকে । আর এই কথা মাথায় রেখেই সেনাবাহিনীর মধ্যে ভাঙ্গন ধরাতে চাইছে ইউনুস বাহিনী। কারণ সেনাবাহিনী দুই ভাগে ভাগ হয়ে নিজেদের মধ্যে বিভেদে জড়িয়ে গেলে, সময় পেয়ে যাবে ইউনুস বাহিনী।
অন্য দিকে কট্টরবাদী বলে পরিচিত জামাত ও চাইচ্ছে, এখন ভোট না করে সংস্কার করা হোক, কারণ তারা চাইছে দেশে বর্তমান যে সংবিধান রয়েছে, সেই সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গে আরো অনেক কিছু বদলে ফেলতে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বলে কিছু না রাখতে।আর উপদেষ্টা মণ্ডলীতে যারা আছে তারাও বলছে দেশ চালানোয় পদ্ধতিগত বাদলের জন্যই, এই অভুথান।।
আগামীতে হয়তো বর্তমান বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের অনেকেই জামাতের হয়ে ভোটে লড়াই করবেন। তাই তাদের ভোটে জেতাটা যতক্ষন না সুনিশ্চিত হবে, ততদিন সংসস্কার চলবে। জামাতের বিপরীতে হেঁটে বিনপি চাইছে দ্রুত ভোটে যেতে। বিনপি ভাবছে এখন মাঠে আওমিলিগ নেই, তাই ভোট যত দ্রুত হবে, তাতাই তাদের জয় সুনিশ্চিত হবে। কিন্তু তারেক আহমেদ এবং নেত্রী খালেদা জিয়া ছাড়া বিনপি র আর কোনো মুখ নেই। যারা ভোট বিনপি কে জেতাতে পারে। তাছাড়া তারা এখনই জিতে গেছে ধরে নিয়ে তাদের কর্তৃত্ব এবং ক্ষমতা দেখতে শুরু করেছে। যা সাধারণ মানুষের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে ধরে নিয়ে, সতর্ক করে দিয়েছেন তারেক আহমেদ।
অন্যদিকে ভোট হলে যাদের ফায়ার আসার নিশ্চয়তা অনেক কম, সেই আওমিলিগ ও চাইছে ভোট এবং গনত্রন্ত্র প্রতিষ্ঠা। আওমিলিগ মনে করছে সব শ্রেণীর মানুষ তাদেরই সমর্থন করবে। কারণ যে শিল্পীরা ছাত্র আন্দোলনে পথে নেমেছিল, তারা এখন দেখছে ক্ষমতা চলে গেছে কট্টরপন্থীদের হাতে। সাধারণ মানুষ খেতে পাচ্ছে না তার উপর তিন গুণ করের বোঝা। আগে তাদের রুজি রোজগার ঠিক ছিল, সঙ্গে তারা কিছু ভাতা পেত। এখন তাদের অবস্থা খুবই খারাপ। তাই তারা চাইছে সেনা ক্ষমতা নিয়ে ভোট করুক।












Discussion about this post