পাকিস্তানের হয়ে চর বৃত্তির অভিযোগে মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এক তরুণকে। ধৃতের নাম সুমন শেখ। সে পুনের একটি লেদ কারখানায় কাজ করত। গোয়েন্দা তদন্ত উঠে এসেছে পাকিস্তানের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার যোগাযোগ ছিল। এর আগে জোহাব শেখ নামে এক সিমকার্ড ব্যবসায়ীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এই জোহাবকে জেরা করেই পুলিশ সুমন শেখের নাম জানতে পারে। সূত্রের খবর, সুমন শেখ বহরমপুরের গাধিয়া গ্রামের বাসিন্দা হলেও সে পুনেতেই থাকত। তাকে দফায় দফায় জেরা করেছেন পুলিশ এবং এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, গুপ্তচর বৃত্তিতেই ভারতীয় সিমকার্ডগুলিকে ব্যবহার করা হত। এর পিছনে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই আছে বলেও তদন্তকারীদের দাবি। কখনও পুনে, কখনও বহরমপুরে বসে সুমন সীমান্তের ওপারে পাক হ্যান্ডেলারদের কাছেও পৌছে দিত বলে অনুমান গোয়েন্দাদের।
পুলিশ সূত্রে খবর, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সিম কার্ড পাচার করা হচ্ছে পাকিস্তানে। গোপন সূত্রে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের কাছে। এরপরেই তারা তদন্ত নামে। বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ চালিয়ে গোয়েন্দারা জানতে পারে, মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থেকে সিমকার্ডের ওটিপি পাঠানো হচ্ছে পাকিস্তানে। সেই মত গত সপ্তাহে শেখ জুহাব নামে এক সিমকার্ড ব্যবসায়ী গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে। জেরায় সে স্বীকার করে নেয় যে প্রি অ্যাক্টিভেটেড বেআইনি সিমকার্ডের বড় খদ্দের সুমন। ওই যুবকই তাঁর কাছ থেকে ফোনে সিমকার্ডগুলোর নম্বর নিয়ে নেয়। আর সে সব নেওয়া হত বেনামে।
এর জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির আধার কার্ডের কপি জোগাড় করা হত। সেই সব কপি পৌঁছে যেত জুহাবের কাছে। বিনিময়ে তাকে দেওয়া হত মোটা টাকা। এই লেনদে যাতে কেউ বুঝতে না পারে, তার জন্য সুমন অনলাইনে টাকা পাঠাতো। জুহাবকে জেরার সূত্র ধরে গোয়েন্দারা খবর পায় সম্প্রতি সুমন পুনের লেদ কারখানা থেকে ছুটি নিয়ে বহরমপুরে বাড়িতে আসে। সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে বহরমপুর সংলগ্ন একটি এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার তাকে বিধানগরের আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
ধৃতকে জেরা করে গোয়েন্দার বিস্ফোরক সব তথ্য পেয়েছেন। তদন্তকারীরা জেনেছেন, পুনেতে কাজ করার সময় সেখানকার এক বাসিন্দার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তি তাঁকে জানায়, পাকিস্তানে ভারতীয় সিম কার্ডের ভালো বাজার আছে। সেটা জোগাড় করে দিলে ভালো টাকার ব্যবস্থা করে দেবে। তবে সরাসরি করাচি বা ইসলামাবাদ নয়, তাঁর কাজ হবে সিমকার্ডের নম্বর জোগাড় করে দেওয়া। সে হোয়াটসঅ্যাপে পাকিস্তানের একটি বিশেষ নম্বরে পাঠিয়ে দিত সিমকার্ডের ওটিপি। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে, বিনিয়মে তাকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পাকিস্তান থেকে পাঠানো হত। সেই টাকা ভাঙিয়ে সুমন ফের জুহাবের কাজ থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্ড কিনত। এত কেন সিমকার্ডের প্রয়োজন হচ্ছে সে ব্যাপারে সুমনকে কিছু জি়জ্ঞাসা করেনি জুহাব। গোয়েন্দাদের মতে, পাকিস্তানে বসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গুপ্তচর বৃত্তির জন্য এই সিমগুলি ব্যবহার করত পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই।
গত বছর পহেলগাঁওতে হামলার পর থেকে গোটা দেশজুড়ে চলছে তল্লাশি। লুকিয়ে থাকা জঙ্গি হোক বা পাক চর, গোয়েন্দাদের হাতে তারা ধরা পড়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে পাক গুপ্তচর সন্দেহে একাধিক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই মুহূর্তে রাজ্যেও চলছে কড়া নজরদারি। সেই নজরদারির ফলশ্রুতিতেই এই গ্রেফতারি। বহুদিন ধরেই সন্দেহজনকদের ওপর নজর রাখছিল উত্তরপ্রদেশের এসটিএফ। গত বছর বারাণসী থেকে গ্রেফতার করা হয় মহম্মদ তুফায়েলকে। অপর দিকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয় হারুন মহম্মদকে। পাকিস্তানের সঙ্গে হারুনের পারিবারিক যোগাযোগ রয়েছে।












Discussion about this post