বিএনপি সরকার গড়তেই বিস্ফোরক রাষ্ট্রপতি। ইউনূসের নেতৃত্বে ঠিক কেমন ছিলেন, কতটা যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন, ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু। শুধু তাই নয়, দেশের সাংবিধানিক প্রধানের থেকে কিভাবে স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সেটাও উল্লেখ করেছেন তিনি। রাষ্ট্রপতিকে ঈদের নামাজ পড়তে দেয়নি ইউনূসের সরকার। অর্থাৎ ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয় একজন দেশের সাংবিধানিক প্রধানের থেকে। কতটা ভয়াবহতার সঙ্গে তিনি দিন কাটিয়েছেন, বাংলাদেশের একটি অতি জনপ্রিয় গনমাধ্যমের কাছে ক্ষোভ উগরে দিলেন শাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
২০২৪ সালের ৮ই অগাষ্ট, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় রাষ্ট্রপতির তত্ত্বাবধানে। তিনিই শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছিলেন মুহাম্মদ ইউনূসকে। আর সেই রাষ্ট্রপতিকেই কার্যত গৃহবন্দি করে রেখেছিলেন ইউনূস। অদ্ভুতভাবে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাস থেকেই একটা খটকা তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশের বহু গণমাধ্যম-সহ ভারতীয় গণমাধ্যমও একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এমনকি নিউজ বর্তমানও বারবার সেই প্রতিবেদন তুলে ধরেছে। যেখানে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কি স্বাধীনভাবে রয়েছেন? সন্ধিহান প্রকাশ করেছিলাম আমরা। প্রশ্ন তুলেছিলাম একাধিক। কিন্তু উত্তর ছিল অধরা। তবে আজকে আর কোনও সন্ধিহান নেই। কারণ রাষ্ট্রপতি নিজে মুখে তাঁর দেড় বছরের কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন নিজ দেশের গণমাধ্যমেই। এতদিন গনমাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে যা যা প্রকাশ হয়েছিল, সবগুলি সত্যি হয়েছে।
নিজের বেদনার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। একজন দেশের সাংবিধানিক প্রধানের থেকে ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়। তাঁকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অপযস্ত করা হয়। ভাঙা হয় স্বাধীনতার পর থেকে চলা দীর্ঘদিনের রেওয়াজ।
তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে তাঁকে আদায় করতে দেওয়া হয়নি পবিত্র নামাজ। তাঁকে নাকি জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করতে জাতীয় ঈদগাহে যেতে পারবেন না। বঙ্গভবনে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। এটা শুধুমাত্র তাঁর ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন নয়, বরং তাঁকে জনবিচ্ছিন্ন করার একটা অপচেষ্টা।
কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, রাষ্ট্রপতিকে ঈদের নামাজ পড়তে দেওয়া থেকে কেন বিরত রাখলেন মুহাম্মদ ইউনূস? এতে তাঁর লাভ কী? এই প্রশ্নও করা হয়েছিল সাক্ষাৎকারে। উত্তরে রাষ্ট্রপতি জানান, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা এবং অবমাননা করা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য। যে কারণে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা একটি রেওয়াজকে ভেঙে দিয়েছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। এমনকি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলিতে বঙ্গভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হত প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে। কিন্তু তিনি যাননি। অথচ এর আগে দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশের প্রতিটি দেশপ্রধান এই অনুষ্ঠানগুলিতে উপস্থিত থেকেছেন। জাতিকে বার্তা দিয়েছেন, বাংলাদেশবাসীর উন্নয়নের সামিল হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু এইসবের কোনওটি মানার প্রয়োজন মনে করেননি ইউনূস। এমনকি ক্ষমতার অলিন্দে যাওয়ার পর একবারের জন্য বঙ্গভবনের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকার করেননি নোবেলজয়ী। তবে তিনি কখনও মাথা নত করেননি। দেশের সংবিধানকে অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা তিনি করে গিয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রপতি এই দেড় বছরের লড়াইয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে পাশে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। এমনকি দেশের তিন বাহিনীর প্রধানকেও পাশে পেয়েছেন বলে জানান।
কিন্তু একটা দেশের পক্ষে কি এটা চরম লজ্জার নয়? যে একজন দেশের সাংবিধানিক প্রধান গণমাধ্যমকে জানাচ্ছেন, একটি সরকার তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্থা করেছে! ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়নি! দেশকে বিদেশীদের হাতে বেচতে চেয়েছিল অন্তবর্তী সরকার। শেখ হাসিনার আমলের কর্মকাণ্ড যদি বিচারের আওতায় যায়, তবে কেন কাঠগড়ায় উঠবেন না মুহাম্মদ ইউনূস? প্রশ্ন থাকছে আরও একটা। শোনা যাচ্ছিল, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নাকি মুহাম্মদ ইউনূসকে করা হতে পারে। বিএনপি তাঁকে সেই পদে বসাবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতির এমন বিস্ফোরক বক্তব্যের পর আদেও কি সেই সিদ্ধান্তের পথে হাঁটবে বিএনপি? যদিও ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এমনকি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেবে না বিএনপি সরকার। এখন দেখার, তারেক রহমান রাষ্ট্রপতির করা মন্তব্য, বক্তব্যের পর কোনও পদক্ষেপ করেন কিনা! কারণ এই বিষয়টি শুধু mEহাবুদ্দিন চুপ্পুর ব্যক্তিগত স্তরে আবদ্ধ নেই, একটি দেশের রাষ্ট্রপতির মতো গুরত্বপূর্ণ পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এত সহজে কি পার পেয়ে যাওয়া উচিত ইউনূস-সহ তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদের?












Discussion about this post