২০২৪ সালের ৫ই অগাষ্ট। উত্তাল বাংলাদেশ। চলছে ছাএদের আনন্দোলন। ঢাকার অলিতে গলিতে স্লোগান…দফা এক, দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ। ভাঙচুর, লুটপাট, মারামারি, হত্যালীলা…..সবটা চলছে ঢাকার বুকে। অভিযান তাদের গণভবন। তখনই খবর এল, শেখ হাসিনা গণভবন ত্যাগ করেছেন। তিনি তখন ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। ততক্ষণে ছাএদের আন্দোলন হাইজ্যাক করে নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি থেকে বিদেশীরা। গণভবন উন্মুক্ত। দেদার লুটপাট, ভাঙচুর..কার্যত দাঁত, নখ বের করে একটি লজ্জার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বাংলাদেশের যুবসমাজ। তাদের আবেগ হয়ত মিথ্যে ছিল না, অভিযোগ ছিল প্রাসঙ্গিক। কিন্তু শেষ রক্ষা তারা করতে পারেনি। এরপর এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে ৮ই অগাষ্ট গঠিত হল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সুদূর ফ্রান্স থেকে উড়ে এলেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস। ঢাকা বিমানবন্দরের লাউন্ডেই জরুরি বৈঠকে বসেন তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে। উপদেষ্টাদের নামের তালিকা নাকি তৈরিই ছিল। তবে প্রশ্ন হল, মুহাম্মদ ইউনূস কি সেই তালিকা অনুসরণ করেছিলেন? নাকি নিজের পছন্দসই সাজিয়ে দিয়েছিলেন উপদেষ্টামণ্ডলীর নাম? যতদিন গিয়েছে, সেই বিষয়গুলি নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়েছে। চর্চা হয়েছে। অনেকে সূত্রের বরাত দিয়ে কিছু তথ্য প্রকাশ্যে এনেছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারেনি। কিন্তু এগুলি সামনে এল। যাঁর সামনে এগুলি ঘটেছে, তিনি প্রকাশ্যে আনলেন শেষমেশ। এতদিন অন্তবর্তী সরকারের রাজত্বে তিনি মুখ খুলতে পারেননি। কিন্তু এইবার তিনি মুখ খুলেছেন।
মনে হতেই পারে, বাংলাদেশে তো নির্বাচন হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। তাহলে কেন পুরোনো কাসুন্দি ঘাটছি! আসলে যে বোমা রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু ফাটিয়েছেন, তাতে সাজানো নাটক এখন জনসমক্ষে। রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। যেটা এখন বাংলাদেশে হটটপিক। চর্চা চলছে তুমুলভাবে।
রাষ্ট্রপতি জানান, রাজনৈতিক নেতৃত্ববৃন্দের সঙ্গে পরামর্শ করেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন তিনি। এটা ছিল সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ সমর্থন। ছাত্রদের একাংশের অনুরোধে প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে মুহাম্মদ ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। উপদেষ্টাদের খসরা তালিকা তৈরি ছিল। যার মধ্যে ছিল অনেক অভিজ্ঞ নাম। ৮ই অগাষ্ট দেশে ফিরে ইউনূস ওই তালিকায় হস্তক্ষেপ করেন। প্রধান উপদেষ্টার পদের সুযোগ নিয়ে নিজের ঘনিষ্ঠদের সামনে এনেছেন। উপদেষ্টা পদে বসিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের অন্দরে নতুন করে মেরুকরণ শুরু করেন। অর্থাৎ ওই খসরা তালিকা পরিবর্তন করেছেন মুহাম্মদ ইউনূস।
রাষ্ট্রপতি ওই সাক্ষাৎকারে জানান, ইউনূস মুক্তিযোদ্ধা, স্বাস্থ্য ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের নাম নাকি নিজেই ঠিক করে দেন। মুক্তিযোদ্ধা উপদেষ্টা হন প্রতীক-ফারুক-ই আজম। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা করা হয় নূরজাহান বেগম এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা করা হয় ডঃ আফম খালিদ হোসেন।
বাংলাদেশের সংবিধানে বলা আছে, দেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শ করে সরকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একক সিদ্ধান্ত কখনও গ্রাহ্য নয়। কিন্তু তাও তিনি লঙ্ঘন করেছেন। মুহাম্মদ ইউনূস প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রেই একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এমনটাই জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
শুধু তাই নয়, প্রধান উপদেষ্টা পদে আসীন হয়ে মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশ সফর এবং সেখানে কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তি করলে, সেটা রাষ্ট্রপতির অনুমতি ছাড়াই করা হত। এমনকি এই দেড় বছরের বেশি সময় ধরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গোটা দেশে, যে অশান্তি ছিল বাংলাদেশে, সেটার বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ওই সময়টা ছিল ব্যর্থতার সময়। এমনকি নানা গণমাধ্যম যে খবর করেছে, সেটাও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়াও রাষ্ট্রপতিকে কার্যত বঙ্গভবনে গৃহবন্দি করা থেকে ঈদগাহে নামাজ পরা থেকে বিরত রাখা, সবটা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি। দেশের সাংবিধানিক প্রধানের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কি পার পেয়ে যাবেন মুহাম্মদ ইউনূস? প্রশ্ন এখন একটাই, তাঁকে কি কাঠগড়ায় তোলা হবে না? বিএনপি বা তারেক রহমান কি এত সহজে তাঁকে ছেড়ে দেবেন? যদি শেখ হাসিনার আমলে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে শেখ হাসিনা কাঠগড়ায় ওঠেন, তবে কেন ইউনূসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে না? এখন দেখার, নতুন নির্বাচিত বাংলাদেশের সরকার কি করে!












Discussion about this post