চলছে বসন্তকাল। চারিদিকের পরিবেশটা বেশ প্রেম প্রেম। এই প্রেমময় বসন্তে দিল্লি এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত পল কাপুর। তাঁর এই দিল্লি আগমন রবীন্দ্রনাথের এই গানের কথা মনে করায় – “ বারতা পেয়েছি মনে মনে, গগনে গগনে তব নিশ্বাস পরসনে, এসেছ অদেখা বন্ধু দক্ষিণ সমীরণে। ”
পল কাপুর কে, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। কিন্তু দিল্লি সফর নিয়ে অবশ্যই বলার কিছু রয়েছে। চাইলে তিনি সরাসরি ঢাকা চলে যেতে পারতেন। সেটা না করে প্রথমে দিল্লি, পরে ঢাকা গেলেন। প্রশ্ন – কিছু ঢাকা দিতেই কি তিনি দিল্লি গেলেন? না কি ঢাকা উন্মোচন করতে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পল কাপুর দিল্লি হয়ে ঢাকা গিয়েছেন দুটি বার্তা নিয়ে। একটি বার্তা, যা তাকে দেওয়া হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে, দ্বিতীয় বার্তা যা তাঁকে দিয়েছে সাউথব্লক। এই দুই বার্তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কানে তুলে দিতে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে বিমানে চেপে পদ্মা অতিক্রম করেছেন। প্রেমময় বসন্তে তিনি পাঁচটি প্রস্তাব সম্বলিত ট্রাম্পের “প্রেমপত্র” নিয়ে ঢাকায় গিয়েছেন। মার্কিন এই সরকারি কর্তার সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি কর্তাদের আলোচনায় প্রাধান্য পাবে বাণিজ্য ও শ্রম ইস্যু। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে পল কাপুরের বৃহস্পতিবার তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। আর তারেক সরকারের সঙ্গে যে সব বিষয়ে পল কাপুর আলোচনা করবেন, তার মধ্যে “প্রেমপত্রের” প্রথমেই রয়েছে বাংলাদেশ-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, পূর্বতন সরকার বাণিজ্যচুক্তির নামে বাংলাদেশের পায়ে যে শিকল পড়িয়ে দিয়েছেন, সেই শিকলে এবার তালা দিতে চাবি নিয়ে ঢাকায় এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই খাস আদমি। সঙ্গে আছে আকসা ও জিসুমিয়া নামে দুটি অস্ত্র চুক্তি। এই চুক্তির বিষয়ে আলোকপাত করতে গেলে টাইম মেসিনে চেপে পিছিয়ে যেতে হবে ছয় বছর।
সালটা ২০১৯, মাস ডিসেম্বর। ঢাকা সফরে এসেছিলেন এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরী নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী র্যান্ডেল সাইভার। মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাইভার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ পরস্পরের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও নিবিড় করতে চায়। আর আকসা ও জিসোমিয়ার মতো চুক্তি সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সেই সময় তাঁকে প্রশ্ন করা হয় চুক্তি কবে হবে? জবাবে তিনি বলেন, চুক্তিগুলি দু’দেশের পক্ষেই কাজে লাগবে। এই নিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা থাকুক, আমেরিক সেটাই চায়। তাই, আমেরিকা যথাযথ প্রক্রিয়া এবং সঠিক উপায়ে চুক্তি করতে আগ্রহী। যদিও বাংলাদেশের কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত ছিল, চুক্তিতে সই করলে বাংলাদেশের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বাংলাদেশকে এই বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। কিন্তু ক্ষতি যা করার করে দিয়ে গিয়েছেন পূর্বতন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস। এখন তারেক রহমানের কাজ হল সেই চুক্তিকে কার্যকর করা। আর সেটা যাতে ঠিকঠাকভাবে হয়, সেই বার্তা দিতেই পল কাপুর ঢাকা এসেছেন। হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন আমেরিকা কোনওভাবেই এই চুক্তি সই করাতে পারেনি। ফলে, ইউনূসের আমলে চুক্তি সই করা ছিল তাদের কাছে জলভাত।
বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এই বৈঠকও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিএনপি সরকার গঠন করেছে। আওয়ামী লীগ খাতায় কলমে এখনও নিষিদ্ধ। জামাত প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মাপ্রকাশ করেছে। ফলে, পদ্মাপারের জাতীয় রাজনীতির বদলে যাওয়া সুবাশ পেতেই ঢাকায় এসেছেন পল কাপুর। আওয়ামী লীগের ব্যাপারে বিএনপি সরকার কী ভাবছে, বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিকদলগুলিও কী চিন্তাভাবনা করছে, সেটাই বোঝার চেষ্টা করবেন ট্রাম্পের বসন্তের দূত পল কাপুর।












Discussion about this post