বাংলাদেশে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে মুখ সামলে কথা বলার পরামর্শ দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। ভারতের একটি স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে চায় না নয়াদিল্লি। কিন্তু সবকিছুর একটা লিমিট আছে তাও তিনি জানাতে ভোলেননি বাংলাদেশকে।নিজেদের চিরন্তন রীতি মেনে ভারত সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।কিন্তু ভারত যে কোনও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে ভয় পায় না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজনাথ। ওই সাক্ষাৎকারে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক চাই না। কিন্তু ইউূস যা বলছেন, তা নিয়ে ভারতের সতর্কিত পদক্ষেপ রাখা উচিত।’আসলে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এমন সময় সেই মন্তব্য করেছেন, যখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস একাধিক উল্টো-পালটা মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে। গত মার্চে চিন সফরে গিয়ে ইউনূস দাবি করেছিলেন যে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি স্থলবেষ্টিত। সমুদ্র নেই। বরং বাংলাদেশই একমাত্র সমুদ্রের ‘গার্ডিয়ান’। সেই সময় সেই মন্তব্য নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পাল্টা কড়া বার্তা দিয়েছিল ভারত।তাছাড়াও ইউনূসের আমলে বাংলাদেশের একটি অংশে ভারত-বিরোধী বীজ রোপণ করা হয়েছে। যে ভারতের সহযোগিতায় বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল, সেই দেশকেই নিয়ে ভুলভাল মন্তব্য করেন ইউনূসদের দেশের লোকজনের একাংশ। রাজনৈতিক বিদদের মতে, নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে এবং ক্ষমতার লোভে দেশের মানুষের মগজধোলাই করছেন বাংলাদেশের নেতাদের একাংশ। পাকিস্তান যেমন নিজের দেশের মানুষের মাথা টুপি পরিয়ে রাখে, সেই কাজটাই বাংলাদেশেও করা হচ্ছে বলে মনে করছেন একাংশ। তাও আবার পাকিস্তান বাংলাদেশ সম্মিলিত প্রয়াসে।সেই আবহেই বাংলাদেশ নিয়ে রাজনাথ যে মন্তব্য করলেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারই মধ্যে পরমাণু বোমা পরীক্ষা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ। পাকিস্তান, আমেরিকা পরমাণু বোমা পরীক্ষা নিয়ে যে জল্পনা শুরু হয়েছে, তা নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।ওই সাক্ষাৎকারে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত কী করবে, সেটা ভবিষ্যতই বলবে। আমেরিকা বা পাকিস্তান কী করছে, সেটার চাপে পড়ে ওরা যা চায়, সেটাই করতে পারে। আমাদের যেটা সঠিক মনে হবে, আমরা সঠিক সময় সেটাই করব।ইউনূসের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যে ভারত প্রস্তুত রয়েছে সব সময় তা স্পষ্টভাবে জানাতেও ভোলেননি রাজনাথ।বিতর্কিত মন্তব্যের কারণ হলো, তিনি পাকিস্তানের সামরিক প্রধান এবং তুরস্কের একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দলকে ‘আর্ট অফ ট্রায়াম্ফ’ নামক একটি শিল্পকর্ম উপহার দিয়েছেন, যার কভারে ভারতের আসাম সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। আর তার ফলেই ভারত চক্রান্তে গন্ধ পেতে শুরু করেছে এবং তৎক্ষণাৎ ভারত তার প্রস্তুতি সেরে নিয়েছেন যা রাজনাথের কথায় স্পষ্ট। এমনকি এই ঘটনা ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ চিত্রকল্পের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ইউনূসকে মুখ সামলে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন। যা রাজনাথের বক্তৃতা শুনে শোরগোল পড়ে গেছে বাংলাদেশে ইউনূস সরকারের অন্দরে।শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন যে ইউনূস সরকারের কারণে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে।
ভারতের সাথে সম্পর্ক অবনতির সমস্ত কারুকার্য এবং পাকিস্তানের সাথে গলায় গলায় বন্ধুত্ব ইউনূসের, আজ সেই হাসিনার কথাই অক্ষরে অক্ষরে মিলে যেতে চলেছে।












Discussion about this post