‘একটি দালান ভাঙতে পারে, কিন্তু ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না।’ ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙা প্রসঙ্গে আবেগী কণ্ঠে বলে উঠলেন শেখ হাসিনা।
ধানমন্ডির ৩২ নম্বর। এই বাড়িতে শুধুমাত্র শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি তাই নয়। এক সময় বিপ্লবীদের আতুর ঘর বলা হত এই বাড়িটিকে। এখান থেকেই বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা শুরু হয়। এসেছেন বহু রাষ্ট্রপ্রধান, রাষ্ট্র নেতারা। গত বছরে ৫ ই আগস্ট যখন শেখ হাসিনার পতন ঘটে, তখনও রেহাই পায়নি এই বাড়ি। ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে ফেলা হয়েছিল। তারপর বাড়িটিতে কঙ্কালসার চেহারাটা পরে ছিল। যেটুকু শেষ স্মৃতি জড়িয়ে ছিল, সেটুকুও দানব মেশিন নিয়ে গুড়িয়ে ফেলা হল বুধবার রাতে। ওই রাতেই শেখ হাসিনার বক্তব্য রাখার কথা ছিল ভার্চুয়াল মাধ্যমে। ঘোষণা করে দিয়েছিল আওয়ামী লীগের নেতা এবং ছাত্রলীগ। তার বক্তব্যের আগেই উন্মুক্ত জনতা বুলডোজার নিয়ে তাণ্ডব চালায়।
যখন ইতিহাসের একটি বহুতলকে ভেঙে ফেলা হচ্ছে, তখন বাইরে জনগণের উল্লাস। শেখ হাসিনা তার অডিও বার্তায় জানান, এই বাড়িটির কি অপরাধ! এই বাড়িটি বিজয়ের ইতিহাস, সেই ইতিহাসকে মুছে ফেলা যাবে না। তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে এই ঘটনার বিচার চেয়েছেন। আবেগি কন্ঠে শেখ হাসিনা বলেন, একটি দালানকে ভেঙে ফেলা হলেও, ইতিহাসকে মুছে ফেলতে পারবে না।
তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা আজ বাংলাদেশের স্বাধীন করেছিল বলেই, স্বাধীনতার স্বাদ নিতে পেরেছে দেশবাসী। এটাই কি অপরাধ? তবে আবারো নতুন করে দেশ স্বাধীন করব আমরা।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ এখনও দাবী করে, শেখ হাসিনার আমলেই বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের একটি রোল মডেল। ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু হিংসা, প্রতিহিংসা পরায়ণ এবং শত্রু বন্ধুর বিভেধ ভুলে যাওয়া, ক্ষতিকর দেশের জন্য। আর সেটারই বীজ বপন হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। যার ফলস্বরূপ এই ঘটনা।
এমনকি এই খবরে উঠে আসছে, বুধবার রাতের এই ঘটনায় যারা তীব্র নিন্দা করছেন, তাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। বাংলাদেশের এক অভিনেত্রী সোশল মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। সেই পোষ্টের পরিপ্রেক্ষিতে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাকে। এমনকি তার বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ এইসব ঘটনার ছাড়িয়ে নৈরাজ্যের বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে থামবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন চিহ্ন।












Discussion about this post