পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বের যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাকিস্তান গিয়েছিল সে দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে। সেখানে তাঁরা পাক সেনা কর্তাদের পাশাপাশি বৈঠক করেন সে দেশের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই কর্তাদের সঙ্গেও। সম্প্রতি বাংলাদেশে পাল্টা সফরে এসেছিলেন আইএসআই-এর প্রধান। যা নিয়ে বাংলাদেশ প্রশাসন চূড়ান্ত গোপনীয়তা রাখলেও সেটা প্রকাশ পেয়ে যায়। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি পুরো বিষয়টির উপর কড়া নজর রাখছে। ইতিমধ্যেই যা খবর পাওয়া যাচ্ছে তা যথেষ্টই চমকে দেওয়ার মতো। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই চট্টগ্রামের কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলিতে গিয়ে যুবকদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিতে উদ্যোগী হয়েছে। আরও জানা যাচ্ছে, আইএসআই প্রধান বাংলাদেশ সফরকালে রংপুরেও গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিল আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসীমউদ্দীন রহমানি হাফি। উল্লেখ্য এই আনসারুল্লাহ বাংলা টিম মূলত আল-কায়েদার শাখা সংগঠন হিসেবেই পরিচিত। ফলে বোঝাই যাচ্ছে একটা বড় খেলা খেলতে চলেছে পাকিস্তান।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বিভিন্ন সূত্র মারফত জানতে পেরেছে, গত ২৫ ডিসেম্বর আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, ইসলামি মাহাজ, আরাকান ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স, এবং আরাকান রোহিঙ্গা আর্মির প্রতিনিধিরা একটি শরণার্থীতে শিবিরে এক বৈঠক করেছিল। মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র জনগোষ্ঠী আরাকান আর্মির বিপক্ষে থাকা এই সংগঠন গুলি মূলত “ফোর ব্রাদার্স অ্যালায়েন্স” নামে একটি নতুন জোটের তৈরি করে ফেলেছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক তথ্য হল, এই গোপন বৈঠকটি হয়েছে বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। যার নেতৃত্ব দিয়েছে রোহিঙ্গা আর্মি। কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে হাজার হাজার শরণার্থী অনুষ্ঠানটি দেখতে জড়ো হয়েছিল। সেখানে জামাত নিয়ন্ত্রিত বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন কার্যত জোর করেই রোহিঙ্গা যুবকদের এই ক্যাম্পে নিয়ে আসে। যার কয়েকটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই বৈঠকের পর পরই বাংলাদেশে দেখা গিয়েছে আইএসআই প্রধান অসীম মালিককে। সুত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আইএসআই প্রধান ও কয়েকজন কর্মকর্তা বাংলাদেশের রংপুরে মিলিত হয়েছিলেন জামাত ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসীমউদ্দীন রহমানি হাফি মত কয়েকজন শীর্ষ জঙ্গি নেতার সঙ্গে। সেখানে ঠিক হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সমর্থ্য যুবকদের যত বেশি সংখ্যক জোগাড় করে তাদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে সুযোগ বুঝে ভারতে নাশকতামূলক কাজ করানোর জন্য এই যুবকদের ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আরাকান আর্মির হাতে তাড়া খেয়ে রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি-সহ সহযোগী সংগঠনগুলি এই মুহূর্তে আশ্রয় নিয়েছে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে। পাকিস্তান চাইছে তাঁদের জন্মভূমি পুনরুদ্ধার করতে সব ধরণের সাহায্য দিতে। আর এর জন্য রোহিঙ্গা যুবকদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিতে চাইছে পাক গুপ্তচর সংস্থা। পাকিস্তান এর জন্য বাংলাদেশকেও সঙ্গে নিয়েছে একটা শক্তিশালী ফ্রন্ট গঠনের উদ্দেশ্যে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এতে বাংলাদেশের দুটো লাভ। একটা হল আরাকান আর্মির সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে ঘুরপথে আরাকান আর্মিকে চাপে রাখা। দ্বিতীয়টি হল এই জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির গুলি হতে বাছাই করা যুবকদের আলাদা ট্রেনিং দিয়ে ভারতে পাঠানো। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানতে পেরেছে, এই পরিকল্পনার মূলে রয়েছে পাকিস্তান গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। কার্যত জোরপূর্বক বল প্রয়োগ করে রোহিঙ্গা শিবিরগুলি থেকে যুবকদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গোপন ক্যাম্পে। রীতিমতো ভয় দেখিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির গুলিতে একটা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। এই কাজটা মূলত করছে জামায়তে ইসলামী আনসারুল্লা বাংলা টিম, উজির মত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন।
ভারতের পশ্চিম প্রান্তে পাকিস্তান কার্যত কোনঠাসা। একদিকে তারা আফগানিস্তানের হাতে মার খাচ্ছে, অন্যদিকে ভারতীয় সেনার ভয়ে কুপোকাত। ফলে ভারতের বিরুদ্ধে ঠান্ডা লড়াইয়ে এখন পাকিস্তানের হাতিয়ার বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে করিডোর করে এর আগেও পাক গুপ্তচর সংস্থা ভারতে নাশকতার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। সেবারও বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিল বিএনপি জোট। কিন্তু শেখ হাসিনার আমলে ভারত ও বাংলাদেশ কড়া পদক্ষেপ নেওয়ায় জঙ্গি সংগঠন গুলি গুটিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হাসিনার পতন ও মুহাম্মদ ইউনুসের তদারকি সরকার ক্ষমতায় আসার পর একে একে সমস্ত শীর্ষ সঙ্গী নেতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জেল থেকে। বহু জেলবন্দী জেল ভেঙে পালিয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে এখন জঙ্গিদের মুক্তাঞ্চল। অপরদিকে পাক গুপ্তচর সংস্থা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বাংলাদেশ সেলার একটি অংশকে। এখন দেখার ভারত কি ব্যবস্থা নেয় এর বিরুদ্ধে।











Discussion about this post