আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হানার পর একেবারে পাল্টা হামলা চলছে ইরানের তরফে। সোমবার দুপুরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যদিও নিউজ বর্তমান সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ ১৫ হঠাৎ হামলার জেরে আছড়ে পড়েছে। আগুন ধরে গিয়েছে যুদ্ধবিমানে। ভিডিও ফুটেছে অন্তত একজন পাইলটকে প্যারাসুটের মাধ্যমে নিরাপদে ইজেক্ট করতে দেখা যায়। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর তরফে এই দুর্ঘটনার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। বিমানটি আমেরিকার না কি ইজরায়েলের তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার তেহরানে সরকারিভবন এবং ইরানের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মার্কিন ইজরায়েল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রতিশোধে মরিয়া ইরান। তেহরান, তেল আবিব এবং সমগ্র অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও সশস্ত্র ড্রোন হামলা হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা খামেইনি শনিবার ইজরায়েল ও মার্কিন হামলায় নিহত হয়েছেন। গোয়েন্দাসূত্র জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মৃত্যু মাসব্যাপী গোয়েন্দা পরিকল্পনার ফল। সোমবার সকালে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান শহরগুলিতে বিস্ফেরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। তেহরান, ইজরায়েল, মার্কিন সামরিক সম্পদে ব্যাপকভাবে আঘাত হানে। জেরুজালেমেও বিস্ফোরণ শোনা গিয়েছে। ইজরায়ালে সেনাবাহিনী ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। তেল আবিবে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে। গত ৭২ ঘণ্টা ধরে উভয়পক্ষের আক্রমণের মাত্রা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাও এই সংঘাতে যোগ দিয়েছে। যুদ্ধের ফলে, সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত দেশের অসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর দুবাইয়ের বিমানবন্দর,, যা বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম এবং এশিয়া-ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। তেহরান দাবি করেছে, মার্কিন ইজরায়েলের একটি ক্ষেপণাস্ত্র মিনাব শহরের একটি স্কুলেও আঘাত করেছে। হামলায় শিশু সহ ১৬০জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি হতাহতের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী এবং এলাকায় কর্মরত মানবাধিকার সংস্থাগুলি সতর্ক করে দিয়েছে। বলেছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
প্রসঙ্গত শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলের হামলার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। জবাবে ইরান তেল আবিব এবং ওই অঞ্চলজুড়ে থাকমা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি সশস্ত্র ড্রোন হামলাও হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেইনি প্রথম দিনেই ইরানের কেন্দ্রস্থলে নিজের কম্পাউন্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই দাবি করেন। হাত গুটিয়ে বসে নেই ইরানও। হামলা এবং পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত উত্তর পশ্চিম এশিয়া। ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলি অখ্যাত রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করছে। যদিও জাতিসঙ্ঘ নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা অন্য কথা বলেছে। আইএইএ-র প্রধান রাফায়েল গোর্সি সংস্থার বোর্ড অব গভর্নরকে জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ইরানের পরমাণুকেন্দ্রগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তারা বিষয়টি কোনও অবস্থাতেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
গ্রোসি জানিয়েছেন, আমেরিকা বা ইজরায়েল কেউ এখনও পর্যন্ত পরমাণুকেন্দ্রে হামলার বিষয় নিশ্চিত করেনি। ইরানের পারমাণবিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে । তাঁরা ইরানের সঙ্গে যোগযোগ অব্যাহত রেখেছে। আবুধাবিতে সোমবার ড্রোন হামলা হয়েছে। ড্রোনগুলি আছড়ে পড়ার আগেই আকাশে তা আটকে দেওয়া হয়।












Discussion about this post